kalerkantho


যাত্রী না হয়েও থাই এয়ারে উঠে বসেন পুলিশের এসআই!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



যাত্রী না হয়েও থাই এয়ারে উঠে বসেন পুলিশের এসআই!

পুলিশের এক উপপরিদর্শক তাঁর কয়েকজন আত্মীয়কে বিদায় জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে নিজেও থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমানে উঠে বসেন। যাত্রী না হওয়া সত্ত্বেও শনিবার গভীর রাতে পুলিশের পোশাক পরা অবস্থায় তিনি একের পর এক বাধা টপকে যান। তাঁকে নিয়েই থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইটি চলতে শুরু করে রানওয়েতে চলে যায়। এ সময় টের পেয়ে বিমানটি থামতে বাধ্য হয়। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি অফিসে কর্মরত আশিকুর রহমান নামের এই এসআইকে এরপর বিমান থেকে নামিয়ে প্রায় আধাঘণ্টা পর সেটি বিমানবন্দর ছেড়ে যায়।

আশিকুরকে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনার কারণ জানতে মাঠে নেমেছে।

এ প্রসঙ্গে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক কাজী ইকবাল করিম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশের পোশাকের এ ধরনের অপব্যবহার খুবই দুঃখজনক। আমরা অনেক চেষ্টার পর আজ একটি সুখবর (যুক্তরাজ্যে বিমানের সরাসরি কার্গো ফ্লাইট পুনরায় চালু) দিতে পেরেছি। অথচ পুলিশের এক এসআই এই ঘটনা ঘটালেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসআই আশিকুর রহমান তাঁর মামি শাহানাজ বেগম ও দুই মামাতো ভাইকে নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দ্বিতীয় তলায় যান। তাঁর পরনে ছিল পুলিশের পোশাক। ৩ নম্বর গেট দিয়ে তাঁরা ভেতরে ঢোকেন। পুলিশ হওয়ায় গেটে দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে ঢুকতে বাধা দেননি। আশিকুর আত্মীয়দের সঙ্গে থেকে বোর্ডিং কার্ড সংগ্রহ করেন এবং ইমিগ্রেশনও পার হয়ে যান। রাত ১টা ২০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে (টিজি-৩৪০) ওঠার জন্য যাত্রীদের বাসে তোলা হয়। আশিকুরও বাসে উঠে ফ্লাইটের সামনে চলে যান। যাত্রীদের সঙ্গে তিনিও বিমানে ওঠার চেষ্টা চালালে একজন নিরাপত্তারক্ষী বাধা দেন। আশিকুর তাঁকে বলেন, আত্মীয়দের সিটে বসিয়েই নিচে নেমে আসবেন। এরপর তিনি বিমানে উঠে মামির পাশের সিটে বসে গল্পগুজব করতে থাকেন।

ব্যাংককগামী বিমানটি রাত ২টা ১২ মিনিটে চলতে শুরু করে মূল রানওয়েতে চলে যায়। এ সময় ক্রুরা দেখতে পান নিদিষ্ট সংখ্যার চেয়ে একজন যাত্রী বেশি। দ্রুত তাঁরা পুলিশের পোশাক পরা যাত্রী সম্পর্কে পাইলটদের জানান। পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে বিষয়টি অবহিত করেন। কন্ট্রোল টাওয়ার ওই যাত্রীকে নামিয়ে দিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

সূত্র জানায়, এই পর্যায়ে ক্রুদের জিজ্ঞাসাবাদে এসআই আশিকুর জানান, তিনি ভুল করে বসেছিলেন। খবর পেয়ে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তারা ছুটে যান। বিমানটি পুনরায় টারমার্কে ফিরে আসে। এরপর আশিকুরকে নামিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে সিভিল এভিয়েশনের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তা কিভাবে বিমানে উঠে পড়লেন সেই বিষয়ে তদন্ত করা হবে। ভিসা ও টিকিট ছাড়া তিনি বিমানে উঠতেই পারেন না।

ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, মাসখানেক আগে আশিকুর রহমানকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) বদলি করা হয়। তবে তিনি ঢাকা রেঞ্জে কর্মরত আছেন। অনুমতি ছাড়া তিনি বিমানে ওঠায় তাঁকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘন করেছেন আশিকুর।



মন্তব্য