kalerkantho


দি ইকোনমিস্ট

খালেদার দণ্ডে বিরোধী শক্তি বিপন্ন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



খালেদার দণ্ডে বিরোধী শক্তি বিপন্ন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের কারণে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি বিপন্ন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে লন্ডন থেকে প্রকাশিত প্রভাবশালী সাময়িকী দি ইকোনমিস্ট। সাময়িকীটির মতে, এই রায় বাংলাদেশের দ্বিদলীয় রাজনৈতিক কাঠামো এবং জিয়া পরিবারতন্ত্রের সমাপ্তির আনুষ্ঠানিকতা। এ অবস্থায় রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাওয়ার চেয়ে সম্মানজনকভাবে টিকে থাকতে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারের টোপ বিএনপি গ্রহণ করতে পারে। গত বৃহস্পতিবার ‘দ্য কনভিকশন অব খালেদা জিয়া হবলস বাংলাদেশ অপজিশন’ শীর্ষক এক নিবন্ধে এই বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়।

নিবন্ধে বলা হয়, ‘গত এক দশক ধরেই আদালতে ছোটাছুটি করতে হয়েছে খালেদা জিয়াকে। দুই মেয়াদে (১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬) প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগে ৩৭টি মামলা তাঁর বিরুদ্ধে। তবে ৮ ফেব্রুয়ারির রায়টি তাৎপর্যপূর্ণ। এটি তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম সাজার রায়।’

‘এতিমদের জন্য ১৯৯১ সালে গঠিত একটি ট্রাস্ট থেকে অর্থ সরানোর অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। ট্রাস্টটি করা হয়েছিল তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমানের নামে, যিনি অভ্যুত্থানের নেতা হিসেবে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন এবং নিজেও অভ্যুত্থানে নিহত হয়েছিলেন। এ রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।’

নিবন্ধে আরো বলা হয়, ‘যদিও উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে খালেদা জিয়া মুক্ত হতে পারেন, তবু তাঁর ভাগ্য প্রশস্ত নয়। এ রায় বাংলাদেশে দুই-দলীয় রাজনৈতিক কাঠামো ও জিয়া পরিবারতন্ত্রের সমাপ্তির একটা আনুষ্ঠানিকতা। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পালা করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকে। এ দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই নারী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা। তবে এক দশক ধরে খালেদার ক্ষমতা পড়তির দিকে। সেনা-সমর্থিত সরকার ও পরে দুই দফায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা মামলায় চাপে রয়েছেন তিনি। তা ছাড়া নির্বাচনকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক বিধান পরিবর্তনের প্রতিবাদে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করায় বিএনপির এখন একজন সংসদ সদস্যও নেই।’

‘‘বিএনপির স্লোগান হলো ‘খালেদা জিয়া আমাদের নেত্রী, জিয়াউর রহমান আমাদের দর্শন, তারেক রহমান আমাদের ভবিষ্যৎ।’ তবে ৭২ বছর বয়সে খালেদা শারীরিকভাবেও সুস্থ নন। তার ওপর ৮ ফেব্রুয়ারির রায়ের কারণে তাঁর পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাঁর ছেলে এবং রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তারেক রহমান ‘নির্বাসিত’। মায়ের দ্বিতীয় দফা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধেও রয়েছে বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলা। ওই সময় বাংলাদেশ পাঁচবার বৈশ্বিক সূচকে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল।’’

‘পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ডিসেম্বরে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ঘোষণার এক সপ্তাহ পরে খালেদার বিরুদ্ধে মামলার রায় হলো। পরের নির্বাচনেও হারতে চান না তিনি। ২০১৪ সালে খালেদাকে গৃহবন্দি ও বর্ষীয়ান সাবেক স্বৈরশাসক ও তৃতীয় বৃহত্তম দলের নেতা এরশাদকে সেনা হাসপাতালে আটক করা হয়েছিল। আইনি কারণে ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতকেও নির্বাচনের বাইরে থাকতে হয়েছিল।

ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ, এবার সরকার চাইবে বিএনপি নির্বাচনে আসুক। সরকার চাইবে নির্বাচনটি যাতে ২০১৪ সালের মতো ‘প্রহসনমূলক’ মনে না হয়। ওই নির্বাচনে অর্ধেকেরও কম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনও বলেছে পরবর্তী নির্বাচন অর্থবহ করতে হলে বিএনপির অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

নিবন্ধে আরো বলা হয়, ‘তাত্ত্বিকভাবে খালেদার সামনেও বিকল্প নেই। নির্বাচনী আইন অনুসারে তাঁর দলকে নির্বাচনে আসতে হবে অথবা নিবন্ধন হারাতে হবে। সরকারি দল থেকে (নির্বাচনকালে) সরকারের অন্তর্ভুক্ত করা এবং মামলা প্রত্যাহারের টোপও দেওয়া হতে পারে। বিএনপির ভেতরের একটা অংশ মনে করে, রাজনীতিতে বিস্মৃতির গহ্বরে হারিয়ে যাওয়ার চেয়ে সংসদে সম্মানজনক একটা অবস্থান নিয়ে থাকা শ্রেয়।

অবশ্য বিএনপি আপাতত অনড় অবস্থানেই রয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বলেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না তারা। সরকারও কঠোর অবস্থানে। এক সপ্তাহেই দলটির ১১শরও বেশি নেতাকর্মী আটক হয়েছে। ঢাকায় বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে বসানো হয়েছে তল্লাশি-চৌকি। বিএনপির নেতারা হুঁশিয়ার করে বলেছেন, আটক অভিযান ও রায়ের ফলে দলের মধ্যে মধ্যপন্থীদের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে সহিংসতা যারা চায়, তাদের অবস্থান জোরালো হচ্ছে।’

‘এতে অবশ্য শেখ হাসিনা বিচলিত হবেন বলে মনে হয় না। ২০১৪ সালে বোমাবাজি ও ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা সামাল দিয়েছেন তিনি।’ সাময়িকীটির মতে, শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াবেন সেটি কষ্টকল্পনা।


মন্তব্য