kalerkantho


সবিশেষ

বন্ধ্যা নারীদের জন্য সুখবর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বন্ধ্যা নারীদের জন্য সুখবর

বন্ধ্যা নারীদের জন্য এক সুখবর দিলেন বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো মানবদেহের বাইরে পরীক্ষাগারে (ল্যাব) পরিপক্ব ডিম্বাণু তৈরি করতে পেরেছেন তাঁরা। এতে ডিম্বাশয় থেকে সংগ্রহ করা একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের ডিম্বাণু ল্যাবে পূর্ণতা লাভ করবে। ফলে ডিম্বাণু তৈরিতে অক্ষম নারী, ক্যান্সার আক্রান্ত নারী, এমনকি মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া নারীও সন্তান জন্ম দিতে পারবে।

নিউ ইয়র্ক ও এডিনবার্গের একদল বিজ্ঞানী এই সাফল্য অর্জন করেছেন, যেটাকে অন্য বিজ্ঞানীরাও বন্ধ্যাত্ব অবসানে ‘যুগান্তকারী’ সাফল্য বলে অভিহিত করেছেন। গতকাল বুধবার মলিকিউলার হিউম্যান রিপ্রডাকশন জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরে বিজ্ঞানীদের দলটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিম্বাশয় থেকে একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের ডিম্বাণু সংগ্রহ করে সেগুলো ‘গর্ভধারণ পর্যায়ের পরিপূর্ণ ডিম্বাণুরূপে’ গড়ে তোলার নতুন পদ্ধতিটি আবিষ্কার করা গেছে। এর আগে একইভাবে ইঁদুরের প্রাথমিক পর্যায়ের ডিম্বাণুকে গবেষণাগারে পরিপক্ব করে তোলা সম্ভব হয়েছিল। মানব ডিম্বাণুর ক্ষেত্রে এই সাফল্য পাওয়ায় এখন চিকিৎসা শুরুর আগে বন্ধ্যা নারীর ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করে তা হিমায়িত করে রাখা যাবে। এমনকি ক্যান্সার আক্রান্ত নারীর চিকিৎসায় কেমোথেরাপি দেওয়ার আগে ডিম্বাশয় থেকে প্রাথমিক পর্যায়ের ডিম্বাণু সংগ্রহ করে হিমায়িত করে রাখা যাবে। পরবর্তী সময়ে স্বামীর শুক্রাণুর সংযোগ ঘটিয়ে ওই পরিপক্ব ডিম্বাণুকে নারীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করে গর্ভধারণের প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। একই পদ্ধতি মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া নারীর বেলায়ও কাজ করবে।

গতকাল এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ গবেষণাটি হলো গবেষণাগারে ডিম্বাণুকে প্রাথমিক পর্যায় থেকে পরিপক্ব করে তোলা সম্ভব হয়েছে।’ গবেষণায় অংশ নেননি এমন অনেক বিজ্ঞানী এ আবিষ্কারকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের একজন ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানী চন্ন জয়াসেনা বলেন, এটি একটি সম্ভাবনাময় অর্জন। সামনের দিনগুলোতে এটিকে নিরাপদ ও প্রমাণিত থেরাপি হিসেবে গড়ে তোলায় জোর দিতে হবে।

গবেষণা প্রবন্ধের সহযোগী লেখক এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটির গবেষক ইভলিন টেলফার বলেন, তাঁরা এখন কাজ করছেন কিভাবে ডিম্বাণুকে আরো উপযোগী করা যায়। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট (ইউকে) ও এএফপি।



মন্তব্য