kalerkantho


ওবায়দুল কাদের বললেন

দণ্ডিত দুর্নীতিবাজ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

♦ রায় নিয়ে বিএনপি বাজে কথা বলছে : নাসিম
♦ আপিলে খালেদার সাজা বাড়তেও পারে : নৌমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও গাজীপুর   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দণ্ডিত দুর্নীতিবাজ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

ফাইল ছবি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ায় সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আজকে বেগম জিয়ার অনুপস্থিতিতে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো? যিনি দুর্নীতি করে অপরাধী হিসেবে দণ্ডিত। মানি লন্ডারিংয়ের জন্য দণ্ডিত।’ অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, রায় নিয়ে বিএনপি বাজে কথা বলছে। এ ছাড়া নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, আপিলে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়তেও পারে।    

গতকাল শুক্রবার সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া বাইপাসে বিআরটিএ প্রকল্প ও চার লেন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেত ুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি আরো বলেন, ‘এ রায়ের আগে বিএনপি তড়িঘড়ি করে রাতের আঁধারে কলমের এক খোঁচায় তাদের গঠনতন্ত্র থেকে ৭ নং ধারাটা কেন তুলে দিয়েছে? এর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে বিএনপির দুর্নীতিপরায়ণ হতে আর কোনো অসুবিধা নেই। যেকোনো দুর্নীতিবাজ বিএনপির নেতা হতে পারে। তারা ৭নং ধারা তুলে দিয়ে সেই স্বীকৃতি দিয়েছে। তার বড় প্রমাণ সর্বশেষ তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করা।’

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারার ‘ঘ’তে বলা ছিল, ‘সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি’ বিএনপির কোনো

পর্যায়ের কমিটির সদস্য কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী পদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। দল ভাঙার চেষ্টায় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে পারে, এই আশঙ্কায় গঠনতন্ত্রের একটি ধারা বাদ দেয় বিএনপি। গত ২৮ জানুয়ারি সংশোধিত গঠনতন্ত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেয় দলটি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা বর্তমান সরকার করেনি। মামলায় সরকারের কোনো হস্তক্ষেপও নেই। বেগম জিয়া যদি নিয়মিত হাজিরা দিতেন, এই মামলায় রায় অনেক আগেই হয়ে যেত। তিনি নিজেই দেরি করে নির্বাচনকে সামনে রেখে এই পর্যন্ত মামলা টেনে নিয়ে এসেছেন। এটার জন্য তো বিএনপি, খালেদা জিয়া ও তাঁর বিজ্ঞ আইনজীবীরা দায়ী।’

খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে—বিএনপির নেতাদের এমন দাবি নাকচ করেছেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার মামলা ও রায়ের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হলো না, বরং বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট ঘনীভূত হলো। সেটার লক্ষণ আমরা টের পাচ্ছি।’

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রায় নিয়ে বিএনপি বাজে কথা বলছে : নাসিম

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, একটি রায়কে কেন্দ্র করে অনেক বাজে কথা বলা হচ্ছে। তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘বাজে কথা বলবেন না। মানুষকে ধোঁকা দেবেন না। বোকা বানাবেন না। কেউ সংক্ষুব্ধ বা অসন্তুষ্ট হলে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। আদালত আদালতের আইন অনুযায়ী কাজ করেছে।’

গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকাস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির অষ্টম চাঁপাই উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে মোহাম্মদ নাসিম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের এমপি গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস। আরো বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহা. উজির আলী, সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মাহতাব উদ্দিন, এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান আলহাজ কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, ডাইসিন কেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কৃতী সন্তান ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশায় অবদান রাখার জন্য সম্মাননা দেওয়া হয়।

আপিলে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়তেও পারে : নৌমন্ত্রী

আমাদের মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, খালেদা জিয়ার সামাজিক অবস্থান ও বয়স বিবেচনায় পাঁচ বছরের সাজা হয়েছে। হাইকোর্টে আপিল করলে সাজার মেয়াদ ১০ বছরও হতে পারে। দুর্নীতি করলে নিম্ন আদালতের চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিলের পর সাজা বেশি হয়েছে, এমন উদাহরণ দেশে অনেক রয়েছে।

গতকাল সকালে মাদারীপুরে আচমত আলী খান স্টেডিয়ামে মিনি আর্টিফিশিয়াল টার্ফের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নৌমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছরের সাজা হলেও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাজপথে নেমে কেউ আন্দোলন করছে না। অথচ আমরা এরশাদবিরোধী আন্দোলনে কারফিউর মধ্যেও রাজপথে ছিলাম। এতেই প্রমাণ হয় বাংলার মানুষ খালেদা জিয়ার সঙ্গে নেই।’

এ সময় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাহউদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সৈয়দ ফারুক আহম্মেদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খান, পৌরসভার সাবেক মেয়র নূরুল আলম বাবু চৌধুরী, বর্তমান মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান কালু খান উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য