kalerkantho


পড়া বই মেলা তিনে মিলে প্রশান্তি

ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার

তৌফিক মারুফ   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পড়া বই মেলা তিনে মিলে প্রশান্তি

‘পড়া’, ‘বই’, ‘মেলা’—এই তিনটির যোগসূত্রে একজন পাঠকের মনে সর্বোচ্চ প্রশান্তি অনুভূত হয় বইমেলায়। এই শব্দগুলোর মধ্যেই পাঠকের মনে উচ্চমাত্রার আলোড়ন যুক্ত থাকে। ফলে অন্য যেকোনো মেলার চেয়ে বইমেলায় এসে মানুষ অনেক মার্জিত মনোজগতের স্পর্শ পায়। গতকাল বুধবার অমর একুশে গ্রন্থমেলা ঘুরে নিজের এমন বিশ্লেষণ কালের কণ্ঠ’র কাছে তুলে ধরেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার।

ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বলেন, মানুষের জানাশোনা আর শিক্ষার মাধ্যম হচ্ছে বই। এর সঙ্গে অপরিহার্য হয়ে ওঠে মনোযোগ। শিল্প-সাহিত্য যা কিছুই হোক না কেন, তা মানুষ পড়ে নতুন নতুন বিষয় উপলব্ধি করে এবং আনন্দ পায়। এ ক্ষেত্রে অন্য যেকোনো মাধ্যমের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী বই। এই মনোরোগবিদ বলেন, বই মানুষের মনের চিন্তাশক্তি খুলে দেয়। বইয়ে যা লেখা থাকে মানুষ তা মনের চোখ দিয়ে ভাসতে দেখে; যা অফুরান ভাবনার এক ইমেজ হিসেবে কাজ করে। তাই সব মানুষেরই উচিত অন্য যেকোনো কিছুর সঙ্গে বইকে যুক্ত রাখা। আর বইমেলায় এক জায়গায় বহু রকমের বইয়ের সমারোহ ঘটে, যা মন চায় তাই পাওয়া যায়। এ এক বিশাল সুযোগ।

চিকিৎসা শিক্ষার এই অধ্যাপক আরো বলেন, মেলায় এত সাজসজ্জা, দৃষ্টিনন্দন একেকটি স্টল।  মনকাড়া নানা নামের, নানা রঙের বইয়ের প্রচ্ছদ। এসব টানে এসে শুধু বই কিনে নিয়ে বাসায় সাজিয়ে রাখলেই চলবে না, এগুলো পড়ার জন্য ঘরে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, ‘তা না হলে পড়ার আগ্রহে এক ধরনের ঘাটতি থাকে। পড়ার পরিবেশের দিকে আমরা অনেকেই তেমন গুরুত্ব দিই না। এটা কিন্তু খুবই জরুরি।’

শিশু-কিশোর কিংবা তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বলেন, ‘আমরা কথায় কথায় এখন বলি শিশুরা টেলিভিশন বা কম্পিউটারে ডুবে থাকায় বিপথগামী হচ্ছে। এ জন্য অভিভাবকরাও দায়ী। অভিভাবকরা যদি নিজ নিজ সন্তানকে বইমনস্ক করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন, ঘরে নিজেরা বিভিন্ন ধরনের বই নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে আলোচনা করেন, যদি সামাজিকভাবে আগের মতো পাঠচক্রের আয়োজন করা যায় তাহলে অনেক পরিবর্তন আসতে পারে। এ ছাড়া শিশুদের জন্য এমন বই সংগ্রহ করা উচিত, যে বই শিশুদের মন কেড়ে নেবে। এ ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার দিকেও নজর রাখতে হবে; নিজের দেশ-জাতি, মাটি ও মানুষের বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিতে হবে।’



মন্তব্য