kalerkantho


বন্ধ কারখানা খোলা ও বকেয়া বেতন দাবি

বিজিএমইএ ভবনের সামনে শ্রমিক বিক্ষোভ সংঘর্ষে আহত ৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিজিএমইএ ভবনের সামনে শ্রমিক বিক্ষোভ সংঘর্ষে আহত ৩০

বন্ধ কারখানা খোলা ও বকেয়া বেতনের দাবিতে গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিজিএমইএ ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। ছবি : কালের কণ্ঠ

বন্ধ কারখানা খোলা ও বকেয়া বেতনের দাবিতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে ভাঙচুর চালিয়েছে পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় বিজিএমইএ ভবনে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মী ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

বিজিএমইএ নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে শ্রমিকরা বলছে, রামপুরার আশিয়ান নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া এবং বকেয়া বেতনের দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেছে।

ঘটনাস্থল সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর রামপুরা এলাকায় অবস্থিত আশিয়ান নামের একটি গার্মেন্টের শ্রমিকরা গতকাল দুপুর ১২টার দিকে কারওয়ান বাজার বিজিএমইএ ভবনের সামনে জড়ো হয়। দুই থেকে আড়াই শতাধিক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের ব্যানারে সেখানে অবস্থান করে বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা বেতন চাই, বেতন দিতে হবে, কারখানা খুলে দাও—এমন ধরনের নানা স্লোগান  দেয়। এ সময় বিজিএমইএ ভবনের ভেতর থেকে সাত-আটজন বের হয়ে তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শ্রমিকরা একজোগে বিজিএমইএ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে দরজার কাচ, ফুলের টব, লিফট, নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য রাখা আর্চওয়ে, স্ক্যানারসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

জানা য়ায়, শ্রমিকদের একটি দল বিজিএমইএ ভবনের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে একটি গাড়িতে হামলা চালায়। ওই গাড়িটি পান্থপথ ও তেজগাঁও সংযোগ সড়ক পর্যন্ত ধাওয়া করে। এ ছাড়া ইট-পাথর ছুড়েও বিজিএমইএ ভবনের গ্লাস ভাঙচুর করে। এ সময় বিজিএমই ভবনের নিরাপত্তারক্ষীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শ্রমিকদের ধাওয়া করে। এ সময় অনেকটা মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বিজিএমইএর কর্মী আব্দুস সালামসহ আরো কয়েকজন আহত হয়। গার্মেন্ট শ্রমিকদের ইটের আঘাতে বিজিএমইএর কর্মী আব্দুস সালামের মাথা ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। এ সময় বিজিএমএর শ্রমিক ও পুলিশের লাঠির আঘাতে অন্তত ২৫ জন গার্মেন্ট শ্রমিক আহত হয়। তাদের সবাইকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, সকাল ১১টার দিকে বিজিএমইএ ভবনের সামনে শ্রমিকরা জড়ো হয়। এরপর তারা দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অনেকেই আহত হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে বিজিএমইএ ভবনের ভেতর ও বাইরের কাচ ও আসবাবপত্র। এ সময় শ্রমিকরা একটি গাড়িও ভাঙচুর করে।

জানতে চাইলে বিজিএমইএর সহসভাপতি এস এম মান্নান কচি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা গতকাল সকাল ১১টার দিকে বিজিএমইএ ভবনে হামলা চালায়। এতে বিজিএমইএ ভবন ভাঙচুর এবং কর্মীদের তারা গুরুতর আহত করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আশিয়ান গার্মেন্টের শ্রমিকরা কাজ করতে না চাইলে মালিক নোটিশ করে সাময়িকভাবে কারখানা বন্ধ ঘোষণা  করেন। কিন্তু এ ব্যাপারে শ্রমিকদের কোনো দাবিদাওয়া উত্থাপন না করে একতরফাভাবে তারা বিজিএমইএ ভবনে হামলা চালায়। এ ছাড়া  যে কারখানা বন্ধ করা হয়েছে, তারা ওই কারখানার কোনো শ্রমিক কি না, এ নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।’ 

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আশিয়ান গার্মেন্ট কারখানার শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন করতে চাইলে মালিক কৌশলে তাদের কমিটি বাতিল করে নিজেই একটি পকেট কমিটি তৈরি করেন। এ ছাড়া কারখানার শ্রমিক মামুনকে মালিক নির্যাতন এবং কারখানা থেকে পড়ে বহিষ্কার করে দেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলতে থাকে।’ 

গত মঙ্গলবার মালিক কোনো রকম পূর্বঘোষণা ছাড়াই ১৩/১ ধারায় (অবৈধ ধর্মঘট) কারখানা বন্ধ করে দেন। এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য মালিক-শ্রমিক, কলকারখানা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও রামপুরা থানার ওসির সমন্বয়ে গতকাল বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিষয়টি কোনো রকম আমলে না নিয়ে বিজিএমইএর কর্মকর্তা মনসুর খালেদ শ্রমিকদের মাইক ছিনিয়ে নেন। এরপর তিনি কোনো বৈঠক হবে না—এমন ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে বিজিএমইএর লোকেরা তাদের ওপর হামলা করে।

 


মন্তব্য