kalerkantho


ফিলিস্তিনে সহায়তা আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

হুমকির মুখে লাখো শরণার্থী শিশু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ফিলিস্তিনে সহায়তা আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ফিলিস্তিনিদের জন্য জাতিসংঘে প্রতিশ্রুত সাড়ে ১২ কোটি ডলারের মধ্যে সাড়ে ছয় কোটি ডলার আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের গত মঙ্গলবারের এ সিদ্ধান্তে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিশুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন সহায়তা সংস্থার কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রতিশ্রুত সাড়ে ১২ কোটি ডলারের মধ্যে ছয় কোটি ডলার ছাড় করা হচ্ছে। বাকি সাড়ে ছয় কোটি ডলার এখন দেওয়া হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৬ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সব মতামত উপেক্ষা করে এবং ফিলিস্তিনিদের পুরোপুরি বঞ্চিত করে একতরফাভাবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করেন। তাঁর এ ঘোষণার পর ফিলিস্তিনিরা অব্যাহত বিক্ষোভ দেখালে গত ২ জানুয়ারি তিনি ফিলিস্তিনিদের জন্য মার্কিন সহায়তা বন্ধের হুমকি দেন। তাঁর ওই হুমকির দুই সপ্তাহের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ফিলিস্তিনিদের জন্য বরাদ্দ অর্থ সহায়তা কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত জানাল। দপ্তরের মুখপাত্র হিদার নয়ার্ট অবশ্য দাবি করেছেন, ‘কাউকে শাস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত জানার পর ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তায় নিয়োজিত জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডাব্লিউএর প্রধান পিয়েরে ক্রাহেনবুল আতঙ্ক প্রকাশ করে জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থাকে সহায়তা দিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৩৫ কোটি ডলারের তুলনায় এবার অনুমোদিত মাত্র ছয় কোটি ডলারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ইউএনআরডাব্লিউএ অথবা অন্য কোনো মানবাধিকার সংস্থায় অর্থায়ন করাটা যেকোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের নিজস্ব বিবেচনার বিষয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে বলতে হচ্ছে, এই সহায়তা হ্রাসের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অন্যতম সফল ও সৃষ্টিশীল একটি সহায়তা উদ্যোগ হুমকির মুখে পড়ল।’ সংস্থাটি ১৯৫০ সাল থেকে ফিলিস্তিনিদের সহায়তা দিয়ে আসছে।

ইউএনআরডাব্লিউএ সহায়তা আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছেন নরওয়ের শরণার্থী পরিষদের মহাসচিব ইয়ান আইগুলান। যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা আটকে দেওয়ায় সেটা কী পরিণতি ডেকে আনতে পারে, সে প্রসঙ্গে গত মঙ্গলবার দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এ পদক্ষেপ পশ্চিম তীর ও গাজা, লেবানন, জর্দান ও সিরিয়ায় লাখ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিশুসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকিপূর্ণ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি বয়ে আনবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আরেকবার জ্বলে ওঠা (ইসরায়েল-ফিলিস্তিন) দ্বন্দ্ব জাতিসংঘের সংস্থার সামাল দেওয়ার সক্ষমতাও এতে নষ্ট হবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের পুরনো আগুন আবার তীব্রভাবে উসকে উঠেছে।

প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি হুসাম জমলত গত বুধবার দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থীদের খাবার আর শিক্ষা কেড়ে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ও বিস্তৃত পরিসরে শান্তি আনা যাবে না।’ ফিলিস্তিনি শরণার্থী ও শিশুদের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা ‘দর-কষাকষির বিষয় নয় বরং একটি মার্কিন ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা’, এমন মন্তব্যও করেন এই পিএলও নেতা।

পিএলওর নির্বাহী পরিষদের সদস্য হাসান আশরাওয়ির অভিযোগ, ফিলিস্তিনি জনগণের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে।

ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেম শহরে ধাইশেহ শিবিরের ১৮ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইয়াজান মুহাম্মাদ সাবরি বলেন, ‘ওয়াকালা (ইউএনআরডাব্লিউএ) চলে গেলে এখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শৌচব্যবস্থা কিছুই থাকবে না। কিছুই থাকবে না এখানে, সব উধাও হয়ে যাবে।’

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু : ছয় দিনের ভারত সফরে থাকা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল বুধবার তাঁর সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের বলেন, ‘(যুক্তরাষ্ট্রের) দূতাবাস আপনাদের চিন্তার চেয়ে অনেক দ্রুত জেরুজালেমে সরানো হবে, নিশ্চিতভাবে এক বছরের মধ্যে।’

অথচ মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য মতে, ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়া এ বছরের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে না। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণার পর মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরে সময়সীমা নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বিলম্বের কথা জানিয়েছিলেন। জেরুজালেম নিয়ে বিতর্কের কারণে সেখানে কোনো দেশের দূতাবাস নেই, তবে কনস্যুলেট আছে। সূত্র: এএফপি, আলজাজিরা।



মন্তব্য