kalerkantho


আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন মাদরাসা শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন মাদরাসা শিক্ষকরা

জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন করে আসা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা গতকাল সরকারের আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

দীর্ঘ ১৬ দিনের কঠোর ও কষ্টকর আন্দোলনের পর সরকারের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন মাদরাসা শিক্ষকরা। আশ্বাসে বলা হয়েছে, মাদরাসা শিক্ষকদের দাবিদাওয়ার প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল। অর্থমন্ত্রী তাঁদের সব তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছেন। তবে আশ্বাস ‘সুনির্দিষ্ট’ না হওয়ায় শিক্ষকদের অনেকে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষকদের জুস ও পানি খাইয়ে অনশন ভাঙান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর। এর আগে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল পরিবহন পুল ভবনে কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পরই শিক্ষকরা অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন।

অনশনস্থলে কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, ‘গত সোমবার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আপনাদের দাবিদাওয়া নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কথা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন দাবিদাওয়াসংক্রান্ত সব তথ্য দেওয়ার জন্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসংক্রান্ত তথ্য প্রস্তুত করছে। দুই-এক দিনের মধ্যে আপনাদের সব তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আপনাদের প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল। অনশন ভেঙে যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলে যান।’

এরপর শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অনশন প্রত্যাহারের কথা জানান বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আমরা একমত। তারা যা করার করবে। আমরা আশা করি, দাবিদাওয়া মেনে নেবে।’

তবে অনশন ভাঙলেও শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ করা যায়। কারণ তাঁরা সুনির্দিষ্ট আশ্বাস চেয়েছিলেন। বছরের প্রথম দিন থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি এবং এর পর থেকে গতকাল পর্যন্ত সাত দিন অনশন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। গত রবিবার তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন। কিন্তু সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় অনশন ভাঙেননি। শেষে গতকাল তাঁরা অনশন ভাঙেন।

বরিশালের পশ্চিম সৈয়দকাঠি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘আমরা ১৬ দিন আন্দোলনের পর যে প্রতিশ্রুতি পেলাম তা আগেও পেয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এবারও একই প্রতিশ্রুতিতে কেন যে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হলো তা বুঝতে পারছি না। যেহেতু সমিতির সভাপতি সন্তুষ্ট, তাই আমরা নিজেরা সন্তুষ্ট না হলেও বাড়ি ফিরছি।’

সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আমরা সরকারের প্রতি আস্থা রাখছি। তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। তবে আগামী অর্থবছরের প্রাক-বাজেটে আমাদের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না হলে সবাইকে নিয়ে কাফনের কাপড় পরে আরো কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব।’

একাধিক শিক্ষক প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পরিবহন পুল কত দূর? সর্বোচ্চ ৫০০ গজ হবে। অথচ প্রতিমন্ত্রী নিজে না এসে সচিবকে পাঠালেন। তাঁরা আশা করেছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী নিজে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসে দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেবেন। কিন্তু সচিব এসে আশ্বাস দিলেন। এতে তাঁরা আশাহত হয়েছেন।

জানা যায়, দেশে মাদরাসা বোর্ডের নিবন্ধন পাওয়া ১০ হাজারের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা আছে। এতে শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। এর মধ্যে মাত্র এক হাজার ৫১৯টি ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আড়াই হাজার টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা দুই হাজার ৩০০ টাকা ভাতা পান। বাকি শিক্ষকরা বিনা বেতনে চাকরি করছেন।

এদিকে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন পালন করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। এর আগে তাঁরা পাঁচ দিন একই স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এমপিওভুক্ত পাঁচটি শিক্ষক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের ব্যানারে তাঁরা এই আন্দোলন করছেন।

লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম রনি বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে আমরা অনশন করছি। প্রয়োজনে ২৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলবে। প্রয়োজনে আমরা কাফনের কাপড় পরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সামনে শুয়ে থাকব। তবু দাবি আদায় ছাড়া আমরা ফিরব না।’


মন্তব্য