kalerkantho


মেলা

১০৪ সবজির পসরা

শাহাদত হোসেন, শেকৃবি   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



১০৪ সবজির পসরা

সবজি মেলায় হরেক রকম সবজি দর্শকদের দৃষ্টি কেড়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রোকলি, পার্সলে, ক্যাপসিকাম, শতমূলী, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শসা, গাজর, মুলা, আলুসহ হরেক রকমের সবজির মেলা বসেছে রাজধানীতে। ‘সারা বছর সবজি চাষে/পুষ্টি-স্বাস্থ্য-অর্থ আসে’ স্লোগান সামনে রেখে গতকাল রবিবার খামারবাড়ি সড়কে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) চত্বরে এই সবজি মেলা বসেছে।

মেলায় উৎপাদিত পসরা নিয়ে হাজির হয়েছে দেশের সরকারি-বেসরকারি অর্ধশতাধিক কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। কৃষি মন্ত্রণালয়ের টানা তৃতীয়বারের এই আয়োজন চলবে আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় সবজি মেলা ঘুরে জানা যায়, সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও মিলে ৮০টি স্টল এবং চারটি প্যাভিলিয়ন অংশ নিয়েছে এবারের আয়োজনে। এসব স্টলে ১০৪ ধরনের সবজি প্রদর্শনের পাশাপাশি কিছু সবজি স্বল্প আঙ্গিকে বিক্রির ব্যবস্থাও রয়েছে।

নিরাপদ সবজি উৎপাদন ও গ্রহণে ভোক্তাকে সচেতন করে তোলার পাশাপাশি কিভাবে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করা যায়, সে বিষয়ে ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যে এই আয়োজন।

মেলায় প্রতিষ্ঠানগুলো উপস্থাপন করছে সবজি উৎপাদনের অভিনব নানা কলাকৌশল। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এনেছে মাটি ছাড়া সবজি উৎপাদনের কৌশল ‘হাইড্রোপনিক্স কালচার’ ও সামুদ্রিক শৈবাল উৎপাদন পদ্ধতি। প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোসতাক আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাসায় কীটনাশকমুক্ত সবজি উৎপাদনে ঢাকাবাসীর মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। কিন্তু মাটির অভাবে তারা সবজি উৎপাদন করতে পারছে না। হাইড্রোপনিক্স কালচারে যেহেতু মাটির প্রয়োজন হয় না, তাই বাসার ছাদেই তারা বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করতে পারবে। আর সামুদ্রিক শৈবাল খাবারে যুক্ত করলে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের চাহিদা পূরণ হবে।

বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) মেলায় আগতদের দৈহিক ওজন ও উচ্চতা পরিমাপ করে বডিমাস ইনডেক্স অনুযায়ী সুস্বাস্থ্য রক্ষায় পরামর্শ দিচ্ছে। বাসাবাড়িতে জৈব উপায়ে পুষ্টিকর সবজি উৎপাদনের পরামর্শও মিলছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের স্টলে স্থান পেয়েছে গৃহ পর্যায়ে আলু সংরক্ষণ পদ্ধতি। বাঁশ দিয়ে তৈরি এ পদ্ধতিতে কৃষক অল্প খরচে ঘরেই আলু সংরক্ষণ করতে পারবে। এ ছাড়া ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ, বাসাবাড়ির পরিত্যক্ত জিনিসপত্র দিয়ে অল্প জায়গায় ছোট আকারের সবজি, যেমন—মরিচ, টমেটো, ঢেঁড়স, বেগুন, টমাটিলো, ক্যাপসিকাম, স্পার্সলি চাষের নানা পদ্ধতি জানার সুযোগ রয়েছে। ছাদ বাগান, কেঁচো সারসহ বিভিন্ন জৈব সার উৎপাদন কৌশল, মাশরুম উৎপাদন ও পরিবেশন পদ্ধতি এবং বিভিন্ন সবজির বীজও মেলার স্টলগুলোতে স্থান পেয়েছে।

গতকাল শুরুর দিনই সব বয়সী মানুষ ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় করে। তরুণ শিক্ষার্থী সাদিক আহসান বলেন, ‘মেলায় দেশি-বিদেশি নানা সবজি সম্পর্কে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি বাসায় সবজি উৎপাদনের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কেও জানতে পেরেছি। আমি মনে করি, এ মেলা বাসায় সবজি চাষে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে।’ রফিকুল ইসলাম নামে একজন বললেন, ‘কিভাবে অল্প জায়গায় সবজি, ফুল ও ফলের বাগান করা যায়, তা এই মেলায় এসে জানলাম।’

সবজি মেলায় গতকাল নারীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারীরা জানায়, কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহারের কারণে নিরাপদ সবজি পাওয়া প্রায় দুষ্কর। তাই নিজ বাসায় জৈব পদ্ধতিতে সহজ উপায়ে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে। আর এ বিষয়ে মেলায় বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে। এটা বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে মানুষকে আগ্রহী করবে। তাই এমন আয়োজন প্রতিবছর করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানায় তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক আব্দুল আজিজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে সবজির চাহিদা তিন কোটি মেট্রিক টন। অথচ আমরা উৎপাদন করতে পারছি মাত্র এক কোটি ৬০ লাখ টন। শহরের পাকা ভবনগুলোর ছাদ সবজি চাষের আওতায় আনা গেলে সবজি উৎপাদন অনেকাংশে বাড়বে। তাই মেলায় সবজি উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

সবজি মেলা উপলক্ষে গতকাল সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে কেআইবি চত্বর পর্যন্ত একটি শোভাযাত্রা বের হয়। এরপর সকাল ১০টায় কেআইবি মিলনায়তনে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী।

সেমিনার শেষে নৌপরিবহনমন্ত্রী মেলার উদ্বোধন করেন। পরে দুই মন্ত্রী এবং কৃষিসচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কেআইবির নেতারা মেলায় বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।



মন্তব্য