kalerkantho


যশোরে আ. লীগ কর্মীকে বোমা ও ছুরি মেরে হত্যা

সাতক্ষীরায় হত্যাচেষ্টা ইউপি চেয়ারম্যানকে

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০




যশোরে আ. লীগ কর্মীকে বোমা ও ছুরি মেরে হত্যা

যশোরের ঝিকরগাছায় আব্বাস হোসেন (৪০) নামে আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে নিজ বাড়িতে বোমা মেরে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। বোমা নিক্ষেপের পর মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ছুরিকাঘাত করে। গতকাল বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া মঙ্গলবার রাতে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মারুফ হোসেন রতনকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল থেকে গতকাল দুপুরে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

যশোরের ঝিকরগাছায় আওয়ামী লীগের নিহত কর্মী আব্বাস হোসেন উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের মৃত হারেজ মোল্লার ছেলে এবং ইউপি মেম্বার আব্দুস সালাম ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনের বড় ভাই।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের ভাইয়ের ছেলে শামীম হোসেন জানান, আব্বাসসহ তাঁর তিন চাচা নির্মাণাধীন বাড়ির কাজ দেখাশোনা করছিলেন। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাবু ওরফে পালসার বাবুসহ ১০-১২ জন অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ঘিরে ফেলে। মেম্বার আব্দুস সালাম ও তাঁর ছোট ভাই উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সেখান থেকে সরে যেতে সক্ষম হলেও সন্ত্রাসীরা আব্বাস হোসেনকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে। আব্বাস মাটিতে পড়ে গেলে সন্ত্রাসীরা তাঁকে ছুরি মেরে নাড়িভুঁড়ি বের করে দেয়। এরপর সন্ত্রাসীরা আরো পাঁচটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। আহত আব্বাস হোসেনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

এলাকাবাসী জানায়, সকালে পালসার বাবু চন্দ্রপুর এলাকায় গেলে আব্বাস ও তাঁর সঙ্গীরা তাকে আটকে রাখেন। কৌশলে বাবু পালিয়ে যায়। পরে সে তার সঙ্গীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলা করে।  সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জেনেছি। ১৮-২০ জন্য সন্ত্রাসী বোমা হামলা চালিয়ে আব্বাসকে হত্যা করে। হত্যাকারীদের আটকের চেষ্টা চলছে।’ 

অন্যদিকে সাতক্ষীরার  দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মারুফ হোসেন রতনকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাতে সংঘটিত এ ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আবদুল আজিজ, দেবহাটার আবদুর রহিমের ছেলে মো. শাহীন, চেয়ারম্যান রতনের দেহরক্ষী হিসেবে পরিচিত আবদুল গফুর  ও কোড়া গ্রামের রমজান আলীর ছেলে জাকের।

পুলিশ বলছে, আবদুল আজিজ সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তবে তিনি পরে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রতন হত্যাচেষ্টার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে—এই ধারণায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আর দেবহাটায় একটি গরুর খাটাল (ভারতীয় গরু রাখার অস্থায়ী স্থান) স্থাপন নিয়ে রতনের সঙ্গে কিছু লোকের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া এলাকার চিংড়িঘের নিয়ে চেয়ারম্যান রতনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল কারো কারো।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, চেয়ারম্যান শেখ মারুফ হোসেন রতনের সঙ্গে তাঁর পরিষদের সদস্যদের সম্পর্ক ভালো ছিল না। এ ছাড়া মঙ্গলবার চেয়ারম্যান রতনের নামে একখণ্ড জমি রেজিস্ট্রি  হয়। কারো কারো ধারণা, এই জমি বিতর্কের কারণে তাঁকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করতে চেয়েছিল।

তবে পুলিশ বলছেন, দেবহাটার ওই এলাকায় ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক চোরাচালান, কেনাবেচা ও ব্যবহারের অনেক ঘটনা রয়েছে। চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন রতন মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁকে হত্যাচেষ্টার পেছনে মাদকের বিষয়টি রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এর আগে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রতনকে সন্ত্রাসীরা দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। তিনি  সে সময় প্রাণে  রক্ষা পান।

 


মন্তব্য