kalerkantho


বন্ড সুবিধার অপব্যবহার

এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১২০ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১২০ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির মামলা

বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে পণ্য আমদানির সুবিধা দেওয়া হয়েছে শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনে ব্যবহারের জন্য। শর্ত রয়েছে, এই সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামালের পুরোটাই শতভাগ রপ্তানিমুখী কারখানায় ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু মেসার্স মাসটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা কাঁচামাল শর্ত ভঙ্গ করে খোলাবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। এভাবে বন্ড সুবিধা অপব্যবহারের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ১২০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান কালের কণ্ঠকে বলেন, মেসার্স মাসটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরেই বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানি করে তা খোলাবাজারে বিক্রি করে আসছিল। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। 

সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির অপরাধ তদন্তে দুই লিয়েন ব্যাংকের আমদানি ও রপ্তানি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে শুল্ক গোয়েন্দারা। বিজিএমইএ থেকে ইস্যু হওয়া ইউডিগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সিআইএস সেল থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকে গত বছরের ২০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৬ কোটি উনত্রিশ লাখ টাকার কাঁচামাল আমদানি করেছে। অথচ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে গোয়েন্দারা যাচাই-বাছাই করে অন্য হিসাব পায়।

তদন্তে দেখা যায়, গত বছরের ২১ আগস্ট পর্যন্ত ৯ হাজার ২০৬ কেজি কাঁচামাল প্রতিষ্ঠানের প্রডাকশন ফ্লোর ও বন্ডেড ওয়্যারহাউসে মজুদ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ইউডি, আমদানি ও রপ্তানি তথ্যাদি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শুরু থেকে গত বছরের ২০ আগস্ট পর্যন্ত বন্ড সুবিধায় আনা মোট ৫৬ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬১ কেজি কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। অবশেষে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ১২০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির মামলা দায়ের করা হয়। বিস্তারিত তদন্তের জন্য ঢাকা বন্ড কমিশনারেটে সব তথ্য-প্রমাণ পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করায় এই পরিমাণ অর্থ ‘ডার্টি মানি’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে বলে শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তর ঢাকা বন্ড কমিশনারেটকে জানিয়েছে।

ড. মইনুল খান আরো বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে শুল্ক ফাঁকিসহ মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।

সূত্র জানায়, মাসটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ গত বছরের ২০ আগস্ট ও প্রায় কাছাকাছি সময়ে দুই দফায় বন্ড সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করে কারখানায় না নিয়ে খোলাবাজারে বিক্রির জন্য ইসলামপুরে নিয়ে যায়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের টহলদল প্রতিবারে একটি করে কাভার্ড ভ্যান আটক করে ঢাকা কাস্টম হাউসে নিয়ে যায় এবং মামলা দায়ের করে। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি অপরাধ স্বীকার করে জরিমানা ও যাবতীয় শুল্ক পরিশোধ করে।



মন্তব্য