kalerkantho


পবার দারুশা কলেজ

অবৈধ অধ্যক্ষ এখনো জোর করে চেয়ারে!

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অবৈধ অধ্যক্ষ এখনো জোর করে চেয়ারে!

রাজশাহীর পবা উপজেলার দারুশা কলেজে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগে বরখাস্ত করা হয় তৎকালীন অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নানকে। এর পরও প্রতিদিন সাঙ্গোপাঙ্গদের নিয়ে অধ্যক্ষের চেয়ারে কাজহীন বসে থাকছেন তিনি। আর তাঁকে সাহায্য করছেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও মান্নানের খালাতো ভাই সোহরাব হোসেন। এতে কলেজটির শিক্ষাব্যবস্থায় নেমে এসেছে স্থবিরতা।

জানা যায়, ২০১০ সালের ৭ জুলাই জেলা প্রশাসকের নির্দেশে কলেজ পরিচালনা পরিষদ অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নানকে বরখাস্ত করে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে বরখাস্তের বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মান্নান উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করলে সর্বোচ্চ আদালতও বরখাস্তের বিষয়টি বহাল রাখেন। একাধিক নির্দেশনার পরও পর্ষদের সভাপতি অধ্যক্ষ হিসেবে মান্নানকে পুনর্বহাল করেছেন। তাঁর প্রভাব খাটানোর কারণে গত নভেম্বর মাসের বেতনও উত্তোলন করতে পারেননি কর্মচারী ও শিক্ষকরা।

দারুশা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেহেনা বেগম কালের কণ্ঠকে জানান, নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে স্ত্রীকে চাকরি দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে আব্দুল মান্নানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এরপর ২০১২ সালে বরখাস্তের বিরুদ্ধে আব্দুল মান্নান উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন। ২০১৫ সালের ৯ এপ্রিল রিট পিটিশনটি খারিজ করে দেন উচ্চ আদালত। এরপর সর্বোচ্চ আদালতে আপিল আবেদন করা হলে সেখানেও গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আবেদনটি খারিজ করে দেন আদালত। এর পরও আব্দুল মান্নানের খালাতো ভাই কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সোহরাব হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো নির্দেশ না মেনে মান্নানকে পুনরায় অধ্যক্ষ হিসেবে পুনর্বহাল করেন।

এদিকে বরখাস্ত অধ্যক্ষকে পুনর্বহাল করায় সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। সোহরাব হোসেন দারুসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদেও রয়েছেন। একজন প্রধান শিক্ষক হয়ে দারুসা কলেজের সভাপতি পদে থেকে অনিয়মে জড়িয়ে পড়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে রেহেনা বেগমকে অধ্যক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান কলেজে গিয়ে চেয়ার দখল করে বসে থাকায় শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এমনকি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উত্তোলনেও তিনি নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন। ফলে গত নভেম্বর মাসের বেতন এখনো হয়নি। বেতন না পেয়ে শিক্ষকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।

জানতে চাইলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক মুঞ্জুর রহমান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আব্দুল মান্নান অবৈধ অধ্যক্ষ। তাঁর পরিবর্তে একজনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে কলেজ পরিচালনা পর্ষদ। কিন্তু তার পরও সাবেক অধ্যক্ষকে পুনর্বহাল করায় বেতন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে বেতন বিলে স্বাক্ষরের অনুমতি দিয়ে আমরা চিঠি দিব। এর পরও যদি বেতন নিয়ে জটিলতা হয়, তাহলে সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি শিক্ষা বোর্ডের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেছি। সেই বলে আমি এখনো অধ্যক্ষ। কাজেই এ নিয়ে জটিলতার কিছু নেই। জোর করে চেয়ারে বসার অভিযোগ সঠিক নয়।’

কলেজ সভাপতি সোহরাব হোসেন বলেন, ‘গত বছর ২৪ ডিসেম্বর কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমি কাগজপত্র বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। এখন আমার কোনো দায় নেই।’



মন্তব্য