kalerkantho


বাংলাদেশের জন্য শুভ সাল, বিশ্বে দুর্যোগ বাড়বে

জ্যোতিষ সম্রাট ড. মুহম্মদ আনিসুল হক

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশের জন্য শুভ সাল, বিশ্বে দুর্যোগ বাড়বে

২০১৮ বাংলাদেশের জন্য মোটামুটিভাবে শুভ ও সম্ভাবনাময় বছর হবে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো যেতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রেরিত রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাবে। জনশক্তি রপ্তানি আরো বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। অগ্নি রাশি মেষে ইউরেনাস অবস্থান করার ফলে দেশে এ বছর অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনাজনিত কারণে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। বায়ু রাশি কুম্ভে রহস্যজনক গ্রহণ নেপচুন অবস্থান করছে। ফলে প্রকৃতি সারা বছরই রহস্যজনক আচরণ করতে পারে। ছোট বা মাঝারি ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে খাদ্যোৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হলেও সামগ্রিকভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। ফলে খাদ্য আমদানি হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন থাকবে বলে আশা করা যায়। অপশক্তিগুলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপতৎপরতা চালাতে পারে। তবে তাদের সাফল্যের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও তৎপরতা বৃদ্ধির চেষ্টা চললেও সে ক্ষেত্রে সাফল্যের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এ বছর তিন বা ততোধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জীবনাবসান হতে পারে। শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তথা পাঁচ বা ততোধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে হারাতে হতে পারে।

কিছু রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট আমলার চাঞ্চল্যকর কোনো দুর্নীতি-দুষ্কর্মের তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে। আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাত-সহিংসতা বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বিদ্যমান থাকলেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে। মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে খুব একটা অগ্রগতির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো যাবে। তবে সন্ত্রাসবাদী জঙ্গি তৎপরতা, রাজনৈতিক সহিংসতা, শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলে ছাত্র ও যুবসমাজের ভেতরে সন্ত্রাস, সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। হত্যা, গুম, খুন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথাকথিত ক্রসফায়ার, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই প্রভৃতি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। যানবাহন দুর্ঘটনার পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য সামগ্রিকভাবে বছরটি শুভ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি বৃদ্ধি পাবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বৈরী আচরণ সত্ত্বেও ক্ষমতার পটপরিবর্তনের কোনো আশঙ্কা নেই। তবে বিবিধমুখী গোপন ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা আছে। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশের সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়। সে ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ সফলভাবে শেষ করতে পারবেন এবং নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হতে পারে।

খালেদা জিয়া : সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাজনৈতিকভাবে প্রবল মানসিক চাপে পড়তে পারেন। তিনি এবং তাঁর পুত্রের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার রায় হতে পারে এবং রায় তাঁদের জন্য অনুকূল না হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। তাঁর পুত্র তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের খুব একটা সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাঁর নেতৃত্বে তাঁর দল বিএনপি এবং মিত্রদের সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা খুব একটা সফল নাও হতে পারে। তবে তিনি বছরের বেশির ভাগ সময় তাঁর দল এবং মিত্রদের সুসংগঠিত করার কাজে ব্যস্ত থাকবেন। তাঁর এবং তাঁর পুত্রের অর্থপাচারের বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আসার চেষ্টা সরকারের তরফে অব্যাহত থাকবে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি নির্ধারণে এ বছর সতর্কতা অবলম্বন ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিলে তিনি ভালো করবেন।

এরশাদ : সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জন্য বছরটি মিশ্র সম্ভাবনাময়। তাঁর শরীর-স্বাস্থ্য আশানুরূপ ভালো নাও যেতে পারে। জাতীয় রাজনীতিতে তিনি খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম নাও হতে পারেন। নির্বাচনী এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ন থাকবে। দল পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর যথাযথ ভূমিকা পালন করা খুব একটা সহজ নাও হতে পারে।

রওশন এরশাদ : জাতীয় সংসদের বর্তমান বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের জন্য বছরটি গতানুগতিক হবে। রাজনীতিতে স্বকীয় হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো দায়িত্ব পালনে তিনি সক্ষম নাও হতে পারেন। তাঁর শরীর-স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালো থাকবে। বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে তিনি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন বলে আশা করা যায়।

বিশ্ববাসীর জন্য কেমন যাবে : বছরের শুরুতে অগ্নি রাশি মেষে অবস্থান করছে ইউরেনাস; এ ছাড়া চন্দ্র মৃত্তিকা রাশি বৃষে, রাহু জলজ রাশি কর্কটে, মঙ্গল ও বৃহস্পতি বায়ু রাশি তুলায়, বুধ জলজ রাশি বৃশ্চিকে, শনি, শুক্র, রবি ও প্লুটো ধনুতে, কেতু মকরে এবং নেপচুন কুম্ভ রাশিতে রয়েছে। নৈসর্গিক রাশিচক্রে গ্রহগুলোর এ অবস্থানের ফলে ২০১৮ সাল বিশ্ববাসীর জন্য মিশ্র সম্ভাবনাময়। বিশ্বের নানা স্থানে ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, অগ্নিকাণ্ডসহ অপ্রত্যাশিত ঘটনাবলির প্রাবল্য দেখা দিতে পারে। ধর্মীয় উন্মাদনায় অনেক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অভ্যন্তরীণ সংঘাত-সহিংসতা বাড়বে। পাকিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান, ইরাক প্রভৃতি অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকবে। বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্র দেশগুলোর কারো কারো মনোমালিন্য তথা বৈরিতা সৃষ্টি হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জেরুজালেম সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ঘোষণা মুসলিম বিশ্বে প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হবে। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় মিত্র মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গেও বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেশ কিছু দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। পক্ষান্তরে বিজ্ঞানের চমকপ্রদ কোনো আবিষ্কার বিশ্ববাসীকে আশাবাদী করে তুলতে পারে। অনেক দেশে নতুন নতুন খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সন্ধান বা উদ্ভাবনের সম্ভাবনা আছে। গণচীনের আর্থসামাজিক উন্নয়ন অন্যান্য পরাশক্তিগুলোর ঈর্ষার কারণ হয়ে উঠতে পারে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রভূত অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। পরাশক্তিগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা ও উেক্ষপণ অব্যাহত রাখবে। বিশ্ব রাজনীতিতে রুশ ও মার্কিন পরাশক্তিদ্বয়ের ভূমিকা ক্রমেই গৌণ হয়ে উঠবে। চীন, ভারত ও জাপান অতীতের তুলনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে বলে আশা করা যায়। এ বছর বিশ্ববাসী একটি চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করতে পারে। সার্বিকভাবে অন্যান্য দিক ভালো যাবে বলে আশা করা যায়।



মন্তব্য