kalerkantho


এলএনজি পাইপলাইন যুক্ত হচ্ছে মার্চে

এপ্রিলে আমদানি, কাটবে চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



এলএনজি পাইপলাইন যুক্ত হচ্ছে মার্চে

চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট দূর হতে যাচ্ছে এলএনজি বা তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির মাধ্যমে। আগামী মার্চ মাসে চট্টগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে এলএনজি পাইপলাইন। প্রথমদিকে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চট্টগ্রামে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও আপাতত ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের প্রস্তুতি আছে। কিছুদিনের মধ্যেই তা বেড়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়াবে। এতে চট্টগ্রামের চাহিদা পূরণ করে আরো গ্যাস উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এলএনজিকে ব্যবহার উপযোগী গ্যাসে রূপান্তর করতে গিয়ে জ্বালানি খরচ বাড়তে পারে।

এলএনজি আমদানির আগেই কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির (কেজিডিসিএল) নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১৪০ কোটি টাকার নেটওয়ার্ক আপগ্রেডেশন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগে শেষ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণ করতে সরকার এরই মধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করেছে। সেখান থেকে ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পৌঁছাবে এলএনজি। মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত সাগরের তলদেশ দিয়ে প্রায় ৯১ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে কেজিডিসিএলের সদ্যবিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক আইয়ুব খান চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, এলএনজি সরবরাহ করার জন্য নতুন পাইপলাইন স্থাপন হচ্ছে। আগামী মার্চে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। প্রথম দফায় দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে। অক্টোবরে আরো ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে পাইপলাইনে। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট দূর হবে এলএনজি আমদানির মধ্য দিয়ে। প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রামের গ্যাসের চাহিদা পূরণ করে অন্যান্য জেলা এলএনজির সুফল পাবে। সরকার চট্টগ্রামকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এলএনজির ক্ষেত্রে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বর্তমানে গ্যাসের যে রেশনিং সিস্টেম চালু রয়েছে এলএনজি আমদানির পর তার আর প্রয়োজন পড়বে না।

এলএনজি বিষয়ে অভিজ্ঞ একাধিক প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলএনজি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশ্বে প্রথম স্থানে আছে কাতার। তাই কাতার থেকে এলএনজি আমদানির জন্য ২০১২ সালে সরকার দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে।

কেজিডিসিএল সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারার স্থলভাগে গ্যাসের চাপ সমন্বয়ের জন্য একটি সিজিএস নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে থেকে দুটি লাইন কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির লাইনের সঙ্গে যুক্ত হবে। একটি যাবে শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রে। অন্যটি যাবে কর্ণফুলী সার কারখানায় (কাফকো)। এই দুটি পাইপলাইনের ব্যাস হবে ১৬ ইঞ্চি। আনোয়ারার সিজিএস থেকে শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার আর কাফকোর দূরত্ব ৫ কিলোমিটার।

গ্যাস পাইপলাইনের নেটওয়ার্ক আপগ্রেডেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ছালেহ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাইপলাইন স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আশা করা যায়, আগামী এপ্রিলের আগেই ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের উপযোগী পাইপলাইন স্থাপন সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে এর পরিধি বাড়ানো হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘যে গতিতে প্রকল্পের কাজ চলছে তাতে আশা করা যায়, নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগে সব কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।’

কর্ণফুলী গ্যাসের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে বর্তমানে দৈনিক ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে কাফকো এবং শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের চাহিদা ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট গাস। তাই কেজিডিসিএল তাদের মেইন রিং লাইন থেকে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা এলএনজি পাইপলাইন নির্মাণ করছে। এই পাইপলাইন স্থাপনের কাজ আগামী মার্চের মধ্যে শেষ হবে।

ওই কর্মকর্তারা আরো জানান, পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ হলে কাতার থেকে বিশেষায়িত জাহাজে করে এলএনজি আমদানি করা হবে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার কিউবিক মিটার তরলায়িত গ্যাস আমদানি হবে। প্রাথমিকভাবে সেই জাহাজগুলো থেকেই এলএনজির তাপমাত্রা পরিবর্তন করে ব্যবহার উপযোগী করে মহেশখালী দ্বীপে স্টোরেজ ট্যাংকে পাঠানো হবে। এটাকে বলা হচ্ছে ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট। এরপর সেখান থেকে আনোয়ারায় সিজিএসে আসবে গ্যাস।

কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি জাহাজে আট দিনের গ্যাস মজুদ থাকবে। পর্যায়ক্রমে এলএনজি আমদানি বাড়ানো হবে। পরে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হবে এলএনজি। তবে এলএনজি আমদানির প্রথম সুফল পাবেন চট্টগ্রামের গ্রাহকরা।

প্রকল্প পরিচালক ছালেহ আহমেদ জানান, এলএনজি আমদানির প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক গ্রাহকদের (শিল্পমালিক) সঙ্গে সম্প্রতি মতবিনিময় করা হয়েছে, যাতে এলএনজির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। ওই সময় ব্যবসায়ী নেতারা চট্টগ্রামে শিল্প বিকাশের স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা আশা করেন। তিনি আরো জানান, কাফকো এবং শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পৃথক পাইপলাইন নির্মাণের জন্য রুট সার্ভের কাজ শেষ হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।



মন্তব্য