kalerkantho


নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর সীমানা বিরোধ নিয়ে ৯ বাড়িতে হামলা

ভাঙচুর, গরু-মালামাল লুট

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর সীমানা বিরোধ নিয়ে ৯ বাড়িতে হামলা

লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর মধ্যে সীমানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে লক্ষ্মীপুরে অন্তত ৯টি বসতঘর ও তিনটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পিটিয়ে নারীসহ আটজনকে আহত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের দক্ষিণ টুমচর গ্রামে এ হামলা হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করে, কোস্ট গার্ড সদস্যদের সহায়তায় হাতিয়া থেকে আসা লোকজন এ হামলা চালায়। এ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

এই খবরে গতকাল বিকেলে জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) পংকজ কুমার দে, জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ও রামগতি থানার ওসি ইকবাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন।

স্থানীয় লোকজন জানায়, নোয়াখালীর হাতিয়ার সঙ্গে লক্ষ্মীপুরের রামগতির চরগাজী ইউনিয়নের সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী ও তাঁর অনুসারীরা প্রায়ই রামগতির অংশে এসে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। এ নিয়ে অব্যাহত হামলা-সংঘর্ষ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি গত এক যুগে অন্তত ১৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন জানায়, উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের দক্ষিণ টুমচর গ্রামে ভোরে হাতিয়ার একদল সন্ত্রাসী বাড়িঘরে হামলা চালায়। অভিযোগ উঠেছে, তাদের (হামলাকারী) সঙ্গে বিপুলসংখ্যক কোস্ট গার্ডও অংশ নেয়। তারা শেখ ফরিদ, সোলায়মান, নুর জামাল, বাবর শিকদার, মো. শাহজাহান, নেছার মুন্সি, জসিম উদ্দিন, মিলন ও নিজাম উদ্দিনের বসতঘরে ভাঙচুর করে। এ সময় আসবাবপত্রসহ মালামাল তছনছ করা হয়। পরে হামলাকারীরা কয়েকটি গরু নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে পিটিয়ে নারীসহ আটজনকে আহত করা হয়। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে।

চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাওহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘বহিরাগত হাতিয়ার সন্ত্রাসীরা হঠাৎ কোস্ট গার্ডকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের অন্তত ১০টি বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। তারা পাঁচটি গরু ও তিনটি দোকান থেকে মালামাল নিয়ে গেছে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে রামগতি কোস্ট গার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার সাঈদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি কেউ আমাকে জানায়নি। আমি এখানে আজকেই যোগদান করেছি। বিস্তারিত খোঁজখবর নিলেই বলা যাবে।’

লক্ষ্মীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) পংকজ কুমার দে বলেন, ঘটনাস্থল গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সেখানে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য নিরূপণ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এ ছাড়া হামলার ঘটনার সময় কোস্ট গার্ড সেখানে উপস্থিত ছিল বলে স্থানীয়রা আমাকে জানিয়েছে।



মন্তব্য