kalerkantho


টানা ছুটিতে সড়ক ও ঘাটে যাত্রীঢল বহুদূর যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার ও মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



টানা ছুটিতে সড়ক ও ঘাটে যাত্রীঢল বহুদূর যানজট

শুক্র-শনিবার সাধারণ ছুটি। তার ওপর বড়দিনের সাধারণ ছুটির সঙ্গে ঐচ্ছিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের ছুটি। তাই গতকাল শুক্রবার মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাটে ঈদের ছুটির মতো ঢল নেমেছিল দূরের যাত্রীদের।

ঘরমুখো হাজার হাজার যাত্রীবাহী অতিরিক্ত গাড়ির চাপে যানজট ছড়িয়ে পড়ে শিমুলিয়া ঘাট থেকে মাওয়া চৌরাস্তা হয়ে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা পর্যন্ত। এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে।

আবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভারের নবীনগর থেকে ধামরাইয়ের বাথুলী পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার পথে যানজটের কবলে পড়েছে উভয়মুখী গাড়ি।

গতকাল বিকেলে শিমুলিয়া ঘাট সরেজমিনে দেখা গেছে, শত শত গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায়। এর পেছনে আবার ঢাকা থেকে যাত্রীবাহী বাসগুলো এসে আটকে যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে যাত্রীদের অনেকে বাস ফেলে পায়ে হেঁটে ঘাটের দিকে ছুটছে। যাত্রীদের, বিশেষ করে শিশু-নারী-বৃদ্ধদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়। ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ঢলের মতো ছিল গতকালের চিত্র।

একইভাবে বাসগুলো ঘাটে প্রবেশ করতে দেরি হওয়ায় ঢাকামুখী যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীরা বাসের জন্য কাউন্টারগুলোতে লাইন ধরে অপেক্ষা করতে থাকে। কোনো একটি বাস ঘাটে এলেই যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে বাসে উঠতে। এই সুযোগে বাসমালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। ঢাকা-মাওয়ার বাসভাড়া ৭০ টাকার স্থলে দেড় শ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকার গুলিস্তান থেকে আসা যাত্রীরাও অভিযোগ করেছে, তাদের কাছ থেকে ৭০ টাকার ভাড়া দেড় শ টাকা আদায় করেছে বাসগুলো।

যাত্রী ও ঘাট সংশ্লিষ্টব্যক্তিরা জানায়, টানা ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার শিমুলিয়া ঘাটে। এতে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ফেরি পার হতে শিমুলিয়ায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে ছোট গাড়ির সংখ্যাই বেশি ছিল। 

বিআইডাব্লিউটিসির এজিএম খন্দকার শাহ নেওয়াজ খালেদ জানান, চারটি রোরো ফেরিসহ ১৫টি ফেরি যানবাহন পারাপার করছে। তবে চাপ বেশি থাকায় ঘাটে অপেক্ষারত যানের সংখ্যা বাড়ছে। এমনিতেই শুক্রবার ঘাটে চাপ থাকে বেশি। তার ওপর টানা চার দিনের ছুটিতে এই ঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ঘাটের লোকজনকে।

তিনি বলেন, ‘আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ছোট ও যাত্রীবাহী গাড়ি আগে পার করছি। ট্রাকগুলো দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। যাত্রীবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ যান পারাপারের পর ট্রাক পার করা হবে।’

সরেজমিনে একই রকম ভিড় দেখা গেছে লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাটেও।

মাওয়া নৌফাঁড়ির ইনচার্জ সরোজিৎ কুমার ঘোষ জানান, ঘাটে যাত্রী নিরাপত্তায় পুলিশ কাজ করছে। কোনো রকম বিশৃঙ্খলা যাতে না হয়, সে ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। গাড়ির চাপ বেশি থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে যানবাহনগুলো পার্কিং এবং ছোট যানকে প্রাধান্য ও ট্রাকগুলো অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী স্থানে পার্কিং করার কারণে মানুষ বিড়ম্বনাহীন পারাপার হচ্ছে।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক : এই মহাসড়কে সাভারের নবীনগর থেকে ধামরাইয়ের বাথুলী পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটারজুড়ে গতকাল যানজট দেখা গেছে। ২০ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় বেশি লেগেছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীরা জানায়, চার-পাঁচ দিন ধরেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ধামরাই-গুলিস্তান রুটের একটি বাসের চালক মকবুল হোসেন বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কটি গাবতলী থেকে নবীনগর পর্যন্ত বেশ চওড়া, চার লেনের। কিন্তু নবীনগর থেকে আরিচা পর্যন্ত চওড়া কম। এর মধ্যে আবার লোকাল বাসসহ দূরপাল্লার বাসগুলো অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করায়। তাছাড়া মহাসড়কের দুই পাশের মাটি বর্ষার সময় অনেকটা ধসে গেছে। আবার উল্টো পথে রিকশা-ট্যাক্সি চলাচল করছে। এসব কারণেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও অন্যতম কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে ধামরাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু সাঈদ আল মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, মহাসড়কটিতে হঠাৎ যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। সে হিসাবে তাদের জনবল বাড়েনি। এই অবস্থায় লোকজন বছরের শেষে ছুটি নিয়ে বেড়াতে বের হয়। এ কারণে রাস্তায় যান চলাচল কয়েকগুণ বেড়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আবু সাঈদ আল মামুন আরো বলেন, তা ছাড়া গত তিন-চার দিন ঘন কুয়াশা থাকায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি চলাচল রাতে বন্ধ হয়ে যায়। সকাল বেলায় যখন ফেরি চলাচল শুরু হয় তখন হঠাৎ গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। এ ছাড়া প্রায়ই সড়কের কোথাও না কোথাও গাড়ি বিকল হয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিকল গাড়ি সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় রেকারের অভাব থাকার কথা উল্লেখ করেন।

সাভারে নিয়োজিত হাইওয়ে পুলিশের একজন সার্জেন্ট নাম প্রকাশ না করে কালের কণ্ঠকে বলেন, মহাসড়কের দুই ধারের মাটি সরে যাওয়ায় কোনো গাড়ি সাইড দিতে পারে না। ফলে কোনো একটি গাড়ি বিকল হলেই কয়েক মিনিটের ব্যবধানে শত শত যানবাহন যানজটের কবলে পড়ে।

সাভার হাইওয়ে থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম এ পরিস্থিতিকে যানজট না বলে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় সকালে থেমে থেমে চলে যানবাহনগুলো। তবে তাঁরা এ পরিস্থিতি নিরসনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গতকাল সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গাবতলী থেকে ছেড়ে আসা যানবাহনগুলো সাভারের হেমায়েতপুরে কিছুটা যানজটে পড়ে। এরপর সাভার থানা বাসস্ট্যান্ড থেকে সাভার রেডিও কলোনি পর্যন্ত গাড়ির চাপ বেশি থাকায় প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। নবীনগর বাসস্ট্যান্ডেও থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসের জন্য অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।


মন্তব্য