kalerkantho


শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার্থীদের রিট

মেধাতালিকা প্রকাশের নির্দেশ ৯০ দিনের মধ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মেধাতালিকা প্রকাশের নির্দেশ ৯০ দিনের মধ্যে

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়ে ৯০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় মেধাতালিকা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সনদ দিতে বলা হয়েছে। নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই সনদ বহাল থাকবে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, বিভাগ বা জেলা-উপজেলা মেধাতালিকা করা যাবে না। একই সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) নিয়োগের উদ্দেশ্যে কোনো সুপারিশ করলে তা ৬০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি বাতিল করবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড।

বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এক রায়ে এ নির্দেশ দেন। রায়ে সাত দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়। নিবন্ধন সনদধারী সিরাজগঞ্জের লিখন কুমার সরকারসহ বিভিন্ন জেলার কয়েক হাজার ব্যক্তির করা কয়েক শ রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে এ রায় দিলেন আদালত। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, অ্যাডভোকেট ইশরাত জাহান ও সাহাবুদ্দিন লার্জ। এনটিআরসিএর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার কাজী মাইনুল হাসান।

হাইকোর্ট গত ২৮ মে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রথম থেকে ১২তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সনদধারীদের মেধাতালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এ সময়ের মধ্যে সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের শূন্যপদের তালিকা চাওয়া হয়। এ নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেন আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় আরো কয়েক হাজার ব্যক্তি একাধিক রিট আবেদন করেন। আদালত রুল জারি করেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ৩০ জুলাই এনটিআরসিএ আদালতে একটি প্রতিবেদন দিয়ে জানায়, পদ ও বিষয় ভিত্তিক ২২ হাজার ৫৬৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এ অবস্থায় রুলের ওপর শুনানি শেষে গতকাল রায় দিলেন আদালত।

রায়ে দেওয়া সাত দফা নির্দেশনায় বলা হয়—১. নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সনদ দিতে হবে। নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সনদ বহাল থাকবে। ২. রায়ের কপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উত্তীর্ণদের নিয়ে একটি জাতীয় মেধাতালিকা করতে হবে। এই তালিকা এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে

প্রকাশ করতে হবে। ৩. একটি জাতীয় মেধাতালিকা করতে হবে। বিভাগ, জেলা, উপজেলা তালিকা নামে কোনো তালিকা করা যাবে না। ৪. এনটিআরসিএ প্রতিবছর মেধাতালিকা হালনাগাদ করবে। ৫. সম্মিলিত মেধাতালিকা অনুযায়ী রিট আবেদনকারী এবং অন্যান্য আবেদনকারীর নামে সনদ জারি করতে হবে। ৬. নিয়োগের উদ্দেশ্যে এনটিআরসিএ কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরাবর কোনো সুপারিশ করলে কপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটি বা গভর্নিং কমিটি বাতিল করবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড এবং ৭. বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নির্ধারণ করতে শিগগিরই পদক্ষেপ নেবে সরকার।

 

 


মন্তব্য