kalerkantho


বিজয় উৎসব

উদ্‌যাপন হলো শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



উদ্‌যাপন হলো শুরু

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনা। ছবি : কালের কণ্ঠ

আলোয় উদ্ভাসিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। গগন শিরীষগাছগুলোর সামনে, শহীদ মিনারের পাদদেশে কার্পেটে বসে আছে অসংখ্য শ্রোতা-দর্শনার্থী। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাদের পাশাপাশি কর্মীরা রয়েছে ভিড় করে। এসেছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের সামনে শহীদ মিনারের প্রথম বেদিতে চলছে জমকালো সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এই আয়োজন মহান বিজয় দিবস সামনে রেখে।

বিজয়ের আনন্দ উৎসবের আবহে উদ্যাপনের এই আয়োজন শুরু হয়েছে গতকাল বুধবার। আয়োজক সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এবারের উৎসবে স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ থেকে। প্রতিপাদ্যটি হচ্ছে ‘৭ই মার্চ মুক্তি ও স্বাধীনতার ডাক বাংলার ঘরে ঘরে/৭ই মার্চ সম্পদ আজ বিশ্ব-মানবের তরে’। জোটের অন্তর্ভুক্ত দুই শ সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রায় তিন হাজার শিল্পীর অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো এই উৎসব।

আয়োজকরা জানায়, রাজধানীর নানা প্রান্তের আটটি মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সপ্তাহব্যাপী এই উৎসবের অনুষ্ঠানমালা। তাতে নানা পরিবেশনায় উৎসব রাঙিয়ে তুলবেন সংস্কৃতিকর্মীরা। থাকবে নৃত্য-গীত, কবিতা আবৃত্তি, পথনাটকের উপস্থাপনা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।

গতকাল সন্ধ্যায় বিজয় উৎসব উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও সংস্কৃতির স্রোতধারা এগিয়ে নেওয়া অগ্রণী নারী শিল্পীরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবৃত্তিশিল্পী কাজী মদিনা, নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসান, কণ্ঠশিল্পী কাননবালা সরকার প্রমুখ।

১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে চলবে এই উৎসব। ১৬ই ডিসেম্বর সকাল ১০টায় শহীদ মিনার থেকে বের হবে বিজয় দিবসের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ১৪ ডিসেম্বর থেকে শহীদ মিনারের পাশাপাশি রাজধানীর আরো সাতটি মঞ্চে ছড়িয়ে যাবে বিজয় উৎসবের অভিযাত্রা। আলোচনার সঙ্গে নাচ-গান, পথনাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে সজ্জিত সেই সাতটি মঞ্চের পরিবেশনা চলবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রয়াত বিশিষ্টজনদের নামাঙ্কিত এই সাতটি মঞ্চ হলো ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবরের নায়করাজ রাজ্জাক ও আবৃত্তিশিল্পী কাজী মঞ্চ, দনিয়ার আব্দুল জব্বার ও বারী সিদ্দিকী মঞ্চ, উত্তরার রবীন্দ্র সরণি আনিসুল হক মঞ্চ, মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক মামা মঞ্চ ও অপু আনাম চলচ্চিত্র মঞ্চ, রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ মঞ্চ ও বাহাদুর শাহ পার্ক মঞ্চ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা শহীদ স্মরণে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর ছিল সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা। জাতীয় সংগীত শেষে গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন মুক্তিযুদ্ধের গান ‘বিজয় নিশান উড়ছে ওই’।

দ্বিতীয় পর্বে আলোচনার শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন জোটের সাধারণ সম্পাদক আবৃত্তিশিল্পী হাসান আরিফ। তিনি বলেন, ‘যদি দেশপ্রেমিক হন, তবে দেশের জন্য ত্যাগ থাকতে হবে। সংস্কৃতিকর্মীরা দেশপ্রেমিক, তাঁরা দেশ ও মাটির জন্য নানা ত্যাগ স্বীকার করেছেন।’ এরপর উৎসবের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন নাট্যজন নাসির উদ্দীন ইউসুফ।

তৃতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার শুরুতেই স্পন্দনের শিল্পীরা সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন। এরপর কবি নির্মলেন্দু গুণের ‘স্বাধীনতা এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর একক সংগীতানুষ্ঠানে গণসংগীত পরিবেশন করেন ফকির আলমগীর। শুরুতেই তিনি পরিবেশন করেন ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা’। এরপর শোনান ‘জয় সাম্যের জয়’।

এর আগে সভাপতির বক্তব্য দেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। তিনি বলেন, ‘যে  আদর্শ নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে, সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে আমরা সেই আদর্শকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। এ জন্য প্রয়োজনে আমরা পথে নামতে পারি, আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি। সংস্কৃতিকর্মীরা মানবিকতা, সত্য ও ন্যায়ের জন্য লড়াই করেন। এ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ত্রিশ লাখ শহীদের স্বপ্ন পূরণ করব আমরা।’

সব শেষে শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র মঞ্চায়ন করে পথনাটক ‘বীরাঙ্গনার বয়ান’। নাটকটির রচয়িতা রওশন জান্নাত, নির্দেশনা দিয়েছেন দেবাশিষ ঘোষ।

 



মন্তব্য