kalerkantho


ঢাকায় আকায়েদের স্ত্রী শ্বশুর-শাশুড়ি চট্টগ্রামে খালুকে জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম অফিস   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকায় আকায়েদের স্ত্রী শ্বশুর-শাশুড়ি চট্টগ্রামে খালুকে জিজ্ঞাসাবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটানের পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশি আকায়েদ উল্লাহর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনেছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। আহত আকায়েদ বর্তমানে পুলিশ পাহারায় বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিউ ইয়র্ক পুলিশের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস দাবি করেছে, আকায়েদ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে স্বীকার করেছেন যে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতে তিনি ওই হামলা চালিয়েছেন। আর বাস টার্মিনালে বড়দিনের পোস্টার থাকায় ওই স্থানকেই তিনি হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে বাংলাদেশে আকায়েদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে তাঁর স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল (সিটিটিসি) ইউনিটসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঢাকায় আকায়েদের স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশের সিটিটিসি ইউনিট। আর আকায়েদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে তাঁর খালুসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ডিভি লটারি-১-এর মাধ্যমে নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী মামা রেজাউল করিমের স্পন্সরে আকায়েদ, তাঁর মা-বাবা ও চার ভাই-বোন ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র যান। পরে নিউ ইয়র্কের

 ব্রুকলিনে বসবাস করতে শুরু করেন তাঁরা। যাওয়ার আগে আকায়েদ ঢাকা সিটি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আকায়েদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মুছাপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মো. ছানাউল্লাহ। ২৬-২৭ বছর আগে তাঁদের পুরো পরিবার সন্দ্বীপ থেকে ঢাকায় চলে যায়। স্বাধীনতার আগে তাঁর বাবা হাজারীবাগে একটি চামড়া কারখানায় কাজ করতেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় একটি মুদি দোকান দেন। আকায়েদের বড় ভাই নিউ ইয়র্কে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন। দুই বছর আগে তাঁদের বাবা মারা যান। এ ছাড়া তাঁর মা ও দুই বোন নিউ ইয়র্কে বসবাস করছেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হাজারীবাগের জিগাতলার মনেশ্বর রোডের একটি বাড়ি থেকে আকায়েদের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জুঁই (২৪), শ্বশুর জুলফিকার হায়দার ও শাশুড়ি মাহফুজা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় পুলিশের সিটিটিসি ইউনিট।

আকায়েদের স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তাঁরা আকায়েদের স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছেন। তাঁদের কাছ থেকে আকায়েদ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছেন।

আকায়েদ উল্লাহর শ্যালক হাফিজ মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ বছর আকায়েদ দেশে আসার পর আমার সঙ্গে দেখা হয়েছে। তবে তিনি অন্য কোনো দিকে মোটিভেটেড হয়েছেন কি না তা আমরা বুঝতে পারিনি।’ আকায়েদ সাধারণ মুসল্লির মতো মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন বলেও জানান তাঁর শ্যালক।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের দাবি, আকায়েদ জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত। কিন্তু তাঁর সঙ্গে আইএসের সরাসরি কোনো যোগাযোগ ছিল না।

এ ব্যাপারে নিউ ইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিশনার ও’নেইল সেখানকার গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘আকায়েদ মুখ খুলতে শুরু করেছেন। কিন্তু আমরা এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না।’

এদিকে আকায়েদের খালু তুসান কোম্পানিকে গতকাল সন্দ্বীপ থানায় ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তুসানের বাড়ি সন্দ্বীপের গাছুয়ায়।

সন্দ্বীপ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আকায়েদের খালুকে আটক করা হয়নি, তাঁকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও আছেন।’


মন্তব্য