kalerkantho


ভিটামিন ‘এ’ ক্রয় নিয়ে অস্থিরতা

বিদেশি কম্পানির স্বার্থে তৎপর একটি চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ভিটামিন ‘এ’ ক্রয় নিয়ে অস্থিরতা

দুই কোটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে বরাবরের মতো উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা কার্যক্রম (এনএনএস)। এরই মধ্যে এ বছরের ওষুধ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তবে এ ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিয়েছে গত বছরের ঝুলে থাকা ওষুধ সংগ্রহ প্রক্রিয়াটি। সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একটি বিদেশি কম্পানির স্বার্থ রক্ষায় তৎপর হয়ে উঠেছে একটি চক্র। এ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দেখা দিয়েছে চাপা অসন্তোষ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, দুই কোটি শিশুর জন্য ভিটামিন এ সংগ্রহ নিয়ে প্রতিবারই নানা সমস্যা দেখা দেয়। এর আগে এক দফা ওই ক্যাপসুলের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে বন্ধ রাখা হয়েছে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন। সরকারের নির্দেশনা হলো, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি হয়—এমন কোনো ওষুধ বিদেশ থেকে আমদানি করা যাবে না। কিন্তু এ নির্দেশনা পাশ কাটিয়ে গত বছর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি চক্র বিদেশি একটি কম্পানি থেকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল সংগ্রহের পদক্ষেপ নিয়েছিল। বিষয়টি অবহিত হয়ে তদন্তের পর সরকারের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল  ইউনিট (সিপিটিইউ) ভারতীয় কম্পানি সফটিসুল প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে ভিটামিন এ সংগ্রহের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেই সঙ্গে দেশি কম্পানির উৎপাদিত ভিটামিন এ ক্যাপসুল সংগ্রহের আদেশ দেয়।

পাশাপাশি ওষুধের অনুমোদন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরও বিদেশি ওই কম্পানিকে প্রয়োজনীয় ‘অনাপত্তিপত্র’ দিতে আপত্তি জানায়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সম্প্রতি বিদেশি ওই কম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গতবারের নিষেধাজ্ঞা কাটানোর নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছে দেশীয় একটি গ্রুপ। ফলে দেশীয় ওষুধ সেক্টরের ভিটামিন এ প্রস্তুত ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয় পুষ্টিসেবা কার্যক্রমের (এনএনএস) উপরিচালক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওষুধ কেনাকাটা নিয়ে জটিলতার কারণে আমাদের ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন হুমকির মুখে পড়ে। এ কারণে আমরা বাধ্য হয়ে কোপেনহেগেনের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারিভাবে বিনা মূল্যে ভিটামিন এ ক্যাপসুল এনেছি, যা দিয়ে ইতিমধ্যেই একরাউন্ড ক্যাম্পেইন শেষ করেছি। আরেক রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে ২৩ ডিসেম্বর। ফলে কেনাকাটাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২৩ ডিসেম্বরের ক্যাম্পেইনে কোনো প্রকার প্রভাব পড়বে না। কিন্তু এর পরে সামনে এগোতে হলে আমাদের অবশ্যই ওষুধ কিনতে হবে। সে জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর এই কেনাকাটার মধ্যে সব সময়েই একটি দুষ্টচক্র ঢুকে পড়ে সুষ্ঠু পরিবেশকে বিঘ্নিত করে। ’

এনএনএসের ডেপুটি প্রগ্রাম ম্যানেজার ডা. আলমগীর মুর্শেদী কালের কণ্ঠকে বলেন, গতবারের ঝামেলার পর এবার ভিটামিন এ ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিষ্কারভাবেই বিদেশি কম্পানিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে এবার শুধু দেশি কম্পানিগুলোই এ ক্রয়প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে। বিদেশি কম্পানির কোনো তৎপরতাই এ ক্ষেত্রে কাজে আসবে না বা তাদের কোনো সুযোগও থাকবে না। গত বছরের ভারতীয় কম্পানিটির কাছ থেকেও এখন পর্যন্ত ভিটামিন এ গ্রহণ করা হয়নি সিপিটিইউ এবং ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞার কারণে। এবারও তারা সুযোগ পাবে না।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, শুধু জাতীয় প্রয়োজনে যদি বিদেশি কোনো দাতা সংস্থা বিনা মূল্যে কোনো ওষুধ সাহায্য হিসেবে দেয় সেটা বিশেষ বিবেচনায় গ্রহণ করা হবে।


মন্তব্য