kalerkantho


ব্লাস্টের গবেষণা

স্কুলে শাস্তির পক্ষে ৬৯% মা-বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



স্কুলে শাস্তির পক্ষে ৬৯% মা-বাবা

‘নিয়মানুবর্তিতার জন্য’ স্কুলে ছেলেমেয়েদের শাস্তি দেওয়ার পক্ষে সায় আছে ৬৯ শতাংশ মা-বাবা ও অভিভাবকের। আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ব্লাস্ট পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৬ সালে দেশের ২৫টি জেলায় এই গবেষণা পরিচালনা করে ব্লাস্ট। তবে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি প্রদান নিষিদ্ধ করেছে।

গতকাল রবিবার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্লাস্ট ও সেভ দ্য চিলড্রেনের উদ্যোগে ‘শিশুর অধিকার সুরক্ষায় শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিরসন’ বিষয়ে গণশুনানি হয়। এই গণশুনানিতেই গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিভাবকদের ৫৫ শতাংশ মনে করেন, শাস্তি শিশুকে ভালো পথে নিয়ে যায়। ২৭ শতাংশ মনে করেন, শাস্তি না হলে শিশুরা বখে যায় এবং ২৫ শতাংশের মতে, শাস্তি দিলে শিশুরা শিক্ষকদের কথা শোনে।

শিশুদের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সামাজিক, মানসিক ও আইনগত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বেশ কয়েকটি ঘটনার প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়। এই গণশুনানিতে বিচারক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি, আইনজীবী, দাতা সংস্থার প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, মনোবিদ, নির্যাতনের শিকার পরিবার ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনায় জুরি বোর্ডের সদস্য গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘যাঁরা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেন, তাঁরা নিজেরাই কতটুকু সচেতন, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। আর শারীরিক নির্যাতন বন্ধ হলেও মৌখিকভাবে নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এ বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের এগিয়ে আসতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে সাবেক বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, ‘গায়ে হাত না পড়লে শিশুরা মানুষ হবে না, এ ধারণা থেকে অভিভাবকদের বেরিয়ে আসা উচিত।’ আলোচনায় একজন অভিভাবক বলেন, ‘শাস্তি শব্দটি শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার না করাটাই ভালো। কারণ, শিশুরা অপরাধ করে না, ভুল করে।’

আলোচনায় আরো বক্তব্য দেন দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, সহজ পাঠ উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোমেনা বেগম, ব্লাস্টের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সদস্য জেড আই খান, সেভ দ্য চিলড্রেনের ম্যানেজার একরামুল কবির, হিউমেন ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের সভাপতি কাজী ফারুক আহমেদ প্রমুখ।



মন্তব্য