kalerkantho


চিঠি লিখে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার কারণ জানালেন অনিরুদ্ধ

বাবার অপেক্ষায় মোবাশ্বারকন্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



চিঠি লিখে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার কারণ জানালেন অনিরুদ্ধ

প্রায় তিন মাস আগে গুলশান থেকে নিখোঁজ হওয়া ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায় বাসায় ফিরে গতকাল রবিবার সংবাদমাধ্যমে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলেছেন, তিনি ব্যবসায়িক প্রতিহিংসার শিকার। তাঁর ধারণা, ব্যবসায়িক শত্রুতার কারণে তিনি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন।

অনিরুদ্ধ রায়ের প্রতিষ্ঠান আরএমএম গ্রুপের প্যাডে লেখা চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি অনিরুদ্ধ কুমার রায়, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আরএমএম গ্রুপ। আমি ব্যবসায়িক প্রতিহিংসার শিকার। আমার ব্যবসায়িক অংশীদার মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন গং আমার প্রতিষ্ঠিত তিনটি প্রতিষ্ঠান আরএমএম লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, আরএমএম নিট ক্লথিং লিমিটেড ও  আরএমএম সোয়েটার লিমিটেড (যার সম্পদের মূল্য ১৫০ কোটি টাকার অধিক) হস্তগত করার জন্য হেন কাজ নাই, যা করে নাই। গত ২৭ আগস্ট ২০১৭ তারিখে ইউনিয়ন ব্যাংক গুলশান-১ থেকে মিটিং শেষে ফেরার পথে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে উক্ত বিল্ডিংয়ের নিচ থেকে আমাকে অপহরণ করা হয়। সম্ভবত ব্যবসায়িক শত্রুতার কারণে এমনটি হয়েছে বলে আমি আশঙ্কা প্রকাশ করি।’ বিভিন্নভাবে তাঁর ক্ষতি করার চেষ্টা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে রয়েছে তাঁর অনুপস্থিতিতে অফিস থেকে জরুরি নথিপত্র সরিয়ে নেওয়া, ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের হুমকি প্রদান, নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য কম্পানি থেকে পাওনা বাবদ পাঁচ কোটি টাকা কম্পানির অ্যাকাউন্টে জমার পরিবর্তে নিজের নামে গ্রহণ ইত্যাদি।

অনিরুদ্ধ আরো লিখেছেন, ‘অপহরণ করার পর তারা আমার সমুদয় সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে; কিন্তু আমি দৃঢ়তার সঙ্গে তা মোকাবেলা করি এবং সৃষ্টিকর্তার কৃপায় গত ১৭ই নভেম্বর বাসায় ফিরি।’ তিনি এও লিখেছেন, ‘আমি গণতন্ত্রের মানসকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই ঘটনার ন্যায়বিচার এবং আমার অর্জিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, উচ্চতর প্রশিক্ষণ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সুদীর্ঘ ব্যবসার সুরক্ষাসহ সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।’ চিঠির নিচে রয়েছে অনিরুদ্ধ রায়ের স্বাক্ষর।

গত ২৭ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর গুলশানের ১ নম্বর সেকশনের ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে থেকে একটি মাইক্রোবাসে অনিরুদ্ধকে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে থানায় করা জিডিতে জানানো হয়েছিল।

বাবার অপেক্ষায় শিশুকন্যা : অন্যদিকে নিখোঁজ হওয়া নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান সিজারের একমাত্র মেয়ের জন্মদিন চলতি মাসেই। ছয় বছর বয়সী এই শিশু এখনো জানে না তার বাবা কোথায়। পরিবারের লোকজন বুঝিয়ে রেখেছে তার বাবা পড়শোনা করতে বিদেশে গেছেন। শিগগিরই চলে আসবেন। সঙ্গে নিয়ে আসবেন অনেক খেলনা, খাবার। সেই অপেক্ষায় রয়েছে ছোট্ট এই শিশু। আর সন্তানের চিন্তায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন মোবাশ্বারের মা-বাবা। গতকাল পর্যন্ত তাঁর সন্ধান পায়নি পুলিশ।

গত ৭ নভেম্বর নিখোঁজ হন নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান সিজার। তাঁর নিখোঁজের পর সারা দেশে আলোড়ন শুরু হয়। তাঁর পরিবারের খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, তাঁর মা-বাবা দুজনই সন্তানের চিন্তায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। তাঁর একমাত্র মেয়ে বাবার অপেক্ষায় দিন গুনছে।

মোবাশ্বারের বোন তামান্না তাসমিন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিটি দিন খুব কষ্টে কাটছে আমাদের। ১৮ নভেম্বর আমার জন্মদিন ছিল। ভাইকে ছাড়া জন্মদিন পালন করতে হলো। যেটা আমার জন্য খুব কষ্টের।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মেয়েটা বুঝতে পারছে না তার বাবা যে নিখোঁজ। আমরা তাকে নানা কথা বলে বুঝিয়ে রাখছি। কিন্তু সারাক্ষণ তার বাবার অপেক্ষায় থাকে সে।’ তামান্না আরো বলেন, ‘ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায় ফিরেছেন জেনে ভালো লাগছে। আমরা আশায় বুক বাঁধছি যে আমার ভাইও এভাবে ফিরে আসুক। আমরা সেই পথ চেয়ে আছি। সবাই দোয়া করবেন।’ 


মন্তব্য