kalerkantho


সময়ের কাজ অসময়ে ধুলা ‘খাচ্ছে’ নগরবাসী

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সময়ের কাজ অসময়ে ধুলা ‘খাচ্ছে’ নগরবাসী

রাজশাহী নগর ভবনের প্রাচীর ঘেঁষেই রয়েছে বসার জায়গা। গত শনিবার রাত ৮টার দিকে সেখানে বসে ২০ থেকে ৩০ জন আড্ডা দিচ্ছিল। বেশির ভাগই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পাশেই রাস্তায় ফেরি করে ফাস্ট ফুড বিক্রি করছিল কয়েকজন। মুড়ি-চানাচুর বিক্রেতাও ছিল। ঠিক ওই সময় সিটি করপোরেশনের এক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মী সেখান দিয়ে রাস্তা ঝাড়ু দিতে দিতে আসছিলেন। এতে ধুলা উড়ে রাস্তার চারপাশে এমন অবস্থা দাঁড়ায় যে সেখানে বসে থাকাটাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। আর খাবারদাবারে ধুলা তো পড়ছেই।

নগরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমন দৃশ্য কেবল এক দিনের কিংবা নগরীর একটি সড়কের নয়। সন্ধ্যার পর এমন দৃশ্য চোখে পড়ে নগরীর প্রতিটি সড়কে, প্রতিদিনই।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ঝাড়ুদার রয়েছেন ১৮৬ জন। ওয়ার্ড পর্যায়ে আছেন আরো ২৯৩ জন। নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের সবারই কাজ শুরু করার কথা রাত সাড়ে ৯টার পর। কিন্তু ৮টা না বাজতেই তাঁরা রাস্তায় নেমে পড়েন, যখন সড়কে থাকে নগরবাসীর স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা। ফলে ধুলার কারণে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। বিশেষ করে যাদের শ্বাসকষ্ট কিংবা অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তাদের ভোগান্তি আরো বেশি।

নগরীর দরিখরবোনা মোড়ের চায়ের দোকানদার সেলিম হোসেন জানান, ওই মোড়ে অন্তত রাত ১১টা পর্যন্ত লোকজনের আড্ডা থাকে। কিন্তু সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ঝাড়ুদারদের কারণে এসব মানুষকে ধুলা খেতে হচ্ছে। ধুলা পড়ছে চায়ের কাপ থেকে শুরু করে রাস্তার পাশের বিভিন্ন খাবারের দোকানগুলোতে।

নগরীর কাদিরগঞ্জের হোটেল ব্যবসায়ী পান্না বলেন, ‘সন্ধ্যার পরপরই গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ঝাড়ু দেওয়া শুরু হয় বলে পথচারীসহ রাস্তার পাশের ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।’

সরেজিমন ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যার পরপরই রাস্তায় ঝাড়ু দেওয়ার কারণে ভোর হওয়ার আগেই নগরীর প্রধান সড়কগুলো আবার ময়লা-আবর্জনায় ভরে ওঠে। অথচ আগে যখন ভোরে সড়কগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হতো, তখন সাধারণ মানুষ এ ভোগান্তি থেকে রেহাই পেত। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে এভাবে সন্ধ্যার পরপরই সড়ক পরিচ্ছন্নতার নামে ‘ধুলা খাওয়ানো হচ্ছে’ নগরবাসীদের। সন্ধ্যার পর পরিচ্ছন্নতার কাজ করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক পরিষ্কারের কাজ তদারকির জন্য সুপারভাইজার আছেন ৫০ জন। কিন্তু তাঁদের তদারকি চোখে পড়ে না। সব ঝাড়ুদার কাজ করেন নিজেদের সুবিধামতো।

নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা কাজী আহসান বলেন, ‘রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া উচিত রাত গভীর হলে কিংবা ভোরে; যখন রাস্তায় কোনো মানুষ থাকবে না। কিন্তু রাস্তায় সাধারণ মানুষ আর যানবাহন চলাচলের মধ্যেই ঝাড়ু দেওয়া হচ্ছে। এতে ধুলার শহরে পরিণত হচ্ছে রাজশাহী।’

সোনাদীঘি মোড়ের হোটেল ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, ‘ধুলার কারণে এখন আর সন্ধ্যার পর কিছু রান্না করা যায় না। খদ্দেরও আসতে চায় না। এ নিয়ে বারবার সিটি করপোরেশনে অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয়নি।’

জানতে চাইলে নগরীর প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মামুন ডলার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য মানুষকে সকালে উঠেই একটি ক্লিন সিটি দেখানো। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য হয়তো পূরণ হচ্ছে না নানা কারণে। তবে এসব সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায়, তা ভেবে দেখা হবে।’



মন্তব্য