kalerkantho


রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সিইসি

বিএনপির আশঙ্কার কারণ নেই, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে

বিশেষ প্রতিনিধি   

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বিএনপির আশঙ্কার কারণ নেই, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে

ফাইল ছবি

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেছেন, নির্বাচনের পরিবেশ ভালো রয়েছে। কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। তাঁদের ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এ নির্বাচনে জঙ্গি হামলারও কোনো আশঙ্কা নেই। তবু যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। সব ধরনের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ছক সাজাতে হবে। সম্প্রতি সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেদিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে।

গতকাল রবিবার নির্বাচন ভবনে রংপুর সিটি করপোরেশনসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন।

বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো. নুরুল হুদা এ  নির্বাচন নিয়ে বিএনপির আশঙ্কার কোনো কারণ নেই বলে জানান। তিনি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘তাদের (বিএনপির) আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। আমরা অবশ্যই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করব। নির্বাচনে যথেষ্টসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন।’

সিইসি আরো বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি পরিষ্কার নির্দেশনা হচ্ছে—প্রত্যেক প্রার্থী সমান সুযোগ পাবেন। আমাদের লক্ষ্য কোনো দল বা প্রার্থী নয়, ভোটার। সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন এবং ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য যা যা করার সবই করতে বলেছি। ভোটাররা যেন নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারেন এবং প্রার্থীরা তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন সে জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।’ নির্বাচনে সহিংসতা হলে ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, বৈঠকে রংপুর সিটি এলাকার কাছাকাছি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার (সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা) বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়তে পারে কি না সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এতে নির্বাচনের ওপর নেতিবাচক কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তাঁরা করছেন না।

এদিকে বৈঠক সূত্রে জানা যায়, রংপুর সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই ইসির। বৈঠকের কার্যপত্রে ওই নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আগে ও পরে মোট পাঁচ দিনের জন্য মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ বাহিনী রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ১৮ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ৩৩টি দল এবং পুলিশের ১১টি দল মোতায়েন করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল ফোর্স হিসেবে ৩৩টি পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের দল রাখা হবে। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১০ জন অস্ত্রধারীসহ মোট ২২ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১২ জন অস্ত্রধারীসহ ২৪ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।

বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য ও মতামত সম্পর্কে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘বৈঠকে গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা, রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার, নির্বাচন কর্মকর্তা, রংপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার তাঁদের নিজ নিজ বক্তব্যে জানিয়েছেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাঁরা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন না। তাঁদের ধারণা, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, নির্বাচনে যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন তাঁরা নির্বাচনী আইন-কানুন ও আচরণবিধি অনুসরণ করবেন। তাঁদের সঙ্গে কমিশনও প্রত্যাশা করে নির্বাচন ভালো হবে, সুষ্ঠু হবে এবং গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে পারবেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে যা যা করা দরকার তার সবই করবেন তাঁরা।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বৈঠকে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। কেউ আমাদের সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব দেয়নি।’ এ ছাড়া তিনি বলেন, ‘শুধু ধর্মভিত্তিক সংখ্যালঘু নয়, দরিদ্র শ্রেণির মানুষ, নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলেছি।’

জঙ্গি হামলার বিষয়ে সিইসি বলেন, এ রকম হামলার আশঙ্কা তো সব সময় মাথায় থাকে। যেকোনো সময়ে যেকোনো স্থানে এ রকম হতে পারে। যখন ঘটবে তখন দেখা যাবে। তিনি বলেন, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে এক রকম হয়েছে, রংপুর সিটিতে অন্য রকম হতে পারে আবার না-ও হতে পারে। যে রকম অবস্থা হবে, তেমন ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

আগামী ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আগামী ২২ নভেম্বর। রিটার্নিং অফিসারের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত মেয়র পদে ১০টি, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৪৮টি এবং কাউন্সিলর পদে ১৫২টি মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়েছে।



মন্তব্য