kalerkantho


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ইইউ মিয়ানমারের উদ্যোগ চায়

► জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপন
► এক সপ্তাহের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা ও নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ইইউ মিয়ানমারের উদ্যোগ চায়

রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, সম্মানের সঙ্গে ও নিরাপদে ফিরে যাওয়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মিয়ানমারের সব ধরনের উদ্যোগ দেখতে চায়। ইইউয়ের সফররত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তা বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস্টোস স্টাইলিয়ানাইডস গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ও কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

স্টাইলিয়ানাইডস বলেন, বাংলাদেশে দুর্যোগের এই মাত্রা দেখা কষ্টকর। এটি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুততম শরণার্থী সংকট। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য ইইউ ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। এই কঠিন সময়ে রোহিঙ্গারা একা নয়। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ যে উদারতা দেখিয়েছে আমরা তাকে সমর্থন দেই ও প্রশংসা করি।

ইইউ মন্ত্রী বলেন, ইইউ মিয়ানমারে পুরোদমে ত্রাণ কার্যকর পরিচালনার সুযোগের ব্যাপারে জোর দিচ্ছে এবং রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছে।

স্টাইলিয়ানাইডস বলেন, ‘প্রত্যেক রোহিঙ্গার যথাযথভাবে নিবন্ধিত হওয়া এবং তাদের স্বেচ্ছায়, সম্মানের সঙ্গে ও নিরাপদে ফিরে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে মিয়ানমারের প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারকে চাপে রাখবে ইইউ। রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বর্বর নির্যাতন স্পষ্টতই জাতিগত নিধন। একে কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। এটি অবশ্যই জঘন্যতম ও বর্বরোচিত ঘটনা।

ইইউয়ের মন্ত্রী বলেন, রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা ভয়াল নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা বরাবরই নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এসে এ দেশে আশ্রয় পাওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, সত্যিই বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যে মানবিক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে তা বিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

রোহিঙ্গাদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন ও বঞ্চনা দূর করতে আনান কমিশন যে প্রতিবেদন দিয়েছে তার যথাযথ বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেন ইইউয়ের এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই প্রতিবেদন বাস্তবায়নের

মাধ্যমেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের থার্ড কমিটিতে ইতিমধ্যে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমসহ ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত সোমবার জেদ্দায় ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) মহাসচিবের সঙ্গে দেখা করে ওই প্রস্তাবের পক্ষে বৈশ্বিক সমর্থন চেয়েছে।

অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সঠিক পথেই আছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের জন্য বাংলাদেশ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নেপিডোর কাছে নাম পাঠাবে। চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই এ গ্রুপের কাজ শুরু হবে।

এদিকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন সোমবার রাতে নিউ ইয়র্কে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি)  প্রতিবেদন বিষয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, রাখাইন রাজ্যের সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ‘জাতিগত নির্মূলের প্রকৃষ্ট উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এর দায় নির্ধারণের দায়িত্ব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।

অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য চাপ দিতে গত রবিবার থেকে মিয়ানমারে সফর করছে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। পররাষ্ট্র দপ্তরের শরণার্থী, জনসংখ্যা ও অভিবাসনবিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি (সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী) সিমন হেনশর নেতৃত্বে ওই দলে আছেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রমবিষয়ক ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি স্কট বাসবি, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি টম ভাজদা এবং পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক ব্যুরোর অফিস পরিচালক প্যাট্রিসিয়া মেহোনি। ওই দলটি মিয়ানমার থেকে আজ বুধবার বাংলাদেশে আসবে। প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা, দাতা সংস্থা ও এনজিওগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও কক্সবাজারে গিয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরেজমিন দেখবে ও তাদের কথা শুনবে।



মন্তব্য