kalerkantho


বিবৃতিতে খালেদা জিয়া

সরকারের বর্বরতম পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সরকারের বর্বরতম পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ হামলা

ফাইল ছবি

রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে ফেনীর মহিপাল অতিক্রমের সময় দুই বাসে বোমা-আগুন দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে তিনি ওই ঘটনায় ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জড়িত’ বলে অভিযোগ করেছেন।

বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমার গাড়িবহর ঢাকা যাওয়ার পথে ফেনী শহর অতিক্রম করার সময় পেট্রলবোমা নিক্ষেপসহ দুুটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে সন্ত্রাসীরা যে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে তা সরকারের বর্বরতম পরিকল্পনারই অংশ। আমি এ হামলার ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানাচ্ছি।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো আধুনিক রাজনৈতিক দল নয়, এটি সন্ত্রাসীদের আখড়া। তারা দেশকে হত্যা, দখল, হাঙ্গামা, রক্তারক্তি ও খুনোখুনিতে ভরিয়ে দিতে চাচ্ছে। দেশব্যাপী এই পিশাচদের দোর্দণ্ড পদচারণের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে ফেনী জেলাকে। রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয়ে সহায়তায় বাধাদানের উদ্দেশ্যে তারা আমার গাড়িবহরে বর্বর আক্রমণ চালাতে দ্বিধা করেনি। শুধু অসংখ্য গাড়ি কিংবা দলের নেতাকর্মীদের আঘাত করা নয়, তারা সাংবাদিকদের ওপরও নৃশংস আঘাত করেছে এবং তাদের যানবাহন ভাঙচুর করেছে। দেশে এখন জবাবদিহিহীন নির্মম দুঃশাসন বিরাজমান বলেই সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া বিস্তারলাভ ঘটেছে। বিচারহীনতার কারণেই সন্ত্রাসীরা বেআইনি কাজ করতে উত্সাহিত হচ্ছে।’   

আরেক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহিপালে গাড়িবহরে হামলার ঘটনাকে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে বিএনপিকে পর্যুদস্ত করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরূপ জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে।’

মহিপালে বাসে বোমা-আগুনের ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল তাত্ক্ষণিকভাবে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাতে বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ওই মিছিল থেকে পুলিশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল করিম মজুমদার, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নেতা ফরহাদ, শেরেবাংলানগর থানা ছাত্রদল নেতা অয়ন, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল নেতা মিজান, মতিঝিল শ্রমিক দল নেতা দেলোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তাহমিদ, হুমায়ুন কবির, ইশতেহার, আব্দুল আল নুর, আজাদসহ ১৪ জন

নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।  বিএনপি মহাসচিব গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।


মন্তব্য