kalerkantho


মিথ্যা তথ্যে রাজস্ব ফাঁকি গ্রেট ওয়াল সিরামিকের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মিথ্যা তথ্যে রাজস্ব ফাঁকি গ্রেট ওয়াল সিরামিকের

হাতিরপুলের মেসার্স গ্রেটওয়াল সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে সম্প্রতি অভিযান চালায় মূসক গোয়েন্দা দল। ছবি : মূসক গোয়েন্দা ফেসবুক পেজ

মেসার্স গ্রেট ওয়াল সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল হুদার বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। গোপন সংবাদ পেয়ে গত ২৬ অক্টোবর রাজধানীর হাতিরপুলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এরপর ভ্যাট (ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স) বা মূসক (মূল্য সংযোজন কর) প্রদানে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পান গোয়েন্দারা। এ অভিযান পরিচালনার আগে ভ্যাট গোয়েন্দারা দীর্ঘদিন থেকে প্রতিষ্ঠানটির ওপর নজর রেখে আসছিলেন।

সূত্র জানায়, গোয়েন্দারা প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিক্রি এবং সে অনুসারে ভ্যাট পরিশোধের পক্ষে সব তথ্য-প্রমাণ দেখতে চান। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গোয়েন্দাদের কাছে যেসব তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন সেগুলোর সঙ্গে গোয়েন্দাদের পূর্ব সংগৃহীত তথ্যের অমিল পাওয়া যাচ্ছিল। এরপর গোয়েন্দারা প্রতিষ্ঠানটির সার্ভার এবং  কম্পিউটারে তথ্য অনুসন্ধান করে প্রকৃত তথ্যের ফাইল গায়েব পান। তখন ভ্যাট গোয়েন্দারা প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কম্পিউটারে মেইল খতিয়ে দেখেন। এ পর্যায়ে গোয়েন্দারা গ্রেট ওয়াল সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজারের ব্যক্তিগত মেইল থেকে প্রতিষ্ঠানের মাসভিত্তিক বিক্রির তথ্য উদ্ধার করেন। এর পরই ধরা পড়ে গোয়েন্দাদের কাছে উপস্থাপন করা হিসাবের চেয়ে বিক্রির হিসাব কয়েক গুণ বেশি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রধানের নির্দেশেই কর্মকর্তারা একই সঙ্গে দুই ধরনের হিসাব সংগ্রহ করেন। এক হিসাবে থাকে প্রকৃত বিক্রির এবং রাজস্ব পরিশোধের তথ্য, আরেক হিসাবে মিথ্যা বিক্রির ভুয়া উপাত্ত এবং এর সঙ্গে মিলিয়ে জাল রাজস্ব পরিশোধের দলিল তৈরি করা হয়। মিথ্যা বিক্রির তথ্য এবং রাজস্ব পরিশোধের জাল কাগজপত্র রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা রাজস্ব পরিশোধের তথ্য যাচাইয়ে দেখানো হয়।

প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, মংমনসিংহ ও ফরিদপুরে ডিলারদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করলেও প্রতিষ্ঠানটি নামমাত্র কিছু ভ্যাট পরিশোধ করে থাকে।

সূত্র জানায়, নোয়াখালীর এক অতিসাধারণ পরিবারের সন্তান শামসুল হুদা চট্টগ্রামে কর্ণফুলী এজেন্সিতে (যার মালিক মৃত মোহাম্মদ উল্লাহ) একজন সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এখন সারা দেশে তাঁর নামে-বেনামে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। শুধু ঢাকা শহরেই আছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। চট্টগ্রাম ও সিলেটেও প্রায় হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কয়েক দিন আগেও শামসুল হুদা হাতিরপুলে পাঁচ কাঠা জমির ওপর নির্মিত তাঁর নিজ নামের বহুতল ভবন উদ্বোধন করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেট ওয়াল সিরামিকস ফ্যাক্টরিতে প্রতিদিন যে পরিমাণ টাইলস উত্পাদন হয়, তার থেকে কম উত্পাদন দেখিয়ে ভ্যাট কর্মকর্তাদের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মাসিক উত্পাদনক্ষমতা ৯০ লাখ থেকে এক কোটি বর্গফুট, যার বাজারমূল্য ৪০-৫০ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু সে অনুপাতে রাজস্ব আদায় করা হয় না। আবার অনেক সময় কিছু রাজস্ব কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশেও প্রতিবছর গড়ে ১০০ কোটি টাকার মতো রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ৮০০ কোটি টাকারও অধিক রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বলে সূত্র জানায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শামসুল হুদার বিরুদ্ধে শুধু ভ্যাট নয়, শুল্ক ফাঁকিরও অভিযোগ রয়েছে। তিনি উচ্চ মূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি চার কোটি টাকায় কিনেছেন বলে রাজস্ব কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন। কিন্তু রাজস্ব কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখে তথ্য পান, গাড়িটির রাজস্বসহ মূল্য হবে প্রায় সাত কোটি টাকা।



মন্তব্য