kalerkantho


অবশেষে বাবা-মেয়ের দেখা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



অবশেষে বাবা-মেয়ের দেখা

১৯৯৪ সালে শেষবার মেয়ে জেনেত্তি শিয়াপেলোকে দেখেছিলেন বাবা লিওনার্দ সেবারিন্দা। এরপর কেটে যায় প্রায় দুই যুগ। এর মধ্যে আর মেয়ের মুখ দেখা হয়নি তাঁর। অবশেষে মেয়ের সঙ্গে দেখা হলো বাবার। ঘটনাটি পূর্ব আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডার।

দেশটিতে ১৯৯৪ সালের গণহত্যা বিশ্ব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ওই সময় শিয়াপেলোর বয়স ছিল দুই বছর। গণহত্যার বছরই রুয়ান্ডার নিয়ামাতা ক্যাথলিক চার্চে শিয়াপেলো, আরো দুই যজম শিশুসন্তান ও এক ছেলেকে নিয়ে আশ্রয় নেন সেবারিন্দার স্ত্রী। তাঁদের ধারণা ছিল, সেখানে অন্তত গণহত্যা চালানো হবে না। কিন্তু সেখানেও হুতু যোদ্ধারা গ্রেনেড হামলা চালায়। তাতে শিয়াপেলো ছাড়া বাকি সবার মৃত্যু হয়। এরপর শিয়াপেলোকে প্রথমে স্থানীয় একটি এতিমখানায় এবং পরে দত্তক হিসেবে ইতালিতে পাঠানো হয়। অন্যদিকে রুয়ান্ডার এখানে-সেখানে আরো তিন সন্তানকে নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন সেবারিন্দা।

মূলত এরপর থেকে বাবা ও মেয়ে বিচ্ছিন্ন। গণহত্যা শেষ হয়, মানুষ নতুন স্বপ্ন নিয়ে নতুন জীবন শুরু করে। কিন্তু মেয়ের খোঁজ আর পাচ্ছিলেন না ৭০ বছর বয়সী সেবারিন্দা। বলা যায়, মেয়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার আশা ছেড়েও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর এক ছেলে বোনের আশা ছাড়েননি। ১০ বছর আগে বোনের খোঁজে নামেন তিনি। কয়েক বছর ওই এতিমখানা খুঁজতেই সময় চলে যায় তাঁঁর। এরপর এতিমখানা থেকে বেশ কয়েকটি ছবি সংগ্রহ করতে সক্ষম হন, যেগুলোতে শিশু শিয়াপেলোও ছিল। এরপর সেই ছবি ধরে যোগাযোগ করেন ইতালিতে; মিলন ঘটান বাবা-মেয়ের। সূত্র : গার্ডিয়ান।



মন্তব্য