kalerkantho


বাজার উন্নয়নে আরো ১৭৩০ কোটি টাকা পেলেন এমপিরা

একনেকে ৮ প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বাজার উন্নয়নে আরো ১৭৩০ কোটি টাকা পেলেন এমপিরা

সারা দেশে গ্রামীণ বাজার উন্নয়নে সংসদ সদস্যদের এক হাজার ৭৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিল সরকার। এই টাকা দিয়ে এমপিরা তাঁদের নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় পছন্দমতো বাজার উন্নয়ন করবেন। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) ‘দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন’ শিরোনামে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সারা দেশে মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ, শ্মশান ও কবরস্থান উন্নয়নে এমপিদের ৬৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তারও আগে ২০১৫ সালে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট নির্মাণে ছয় হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। অবশ্য সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকার এমপিরা এসব কর্মকাণ্ডের বাইরে রয়েছেন। নলকূপ বিতরণের জন্য প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সে টাকাও এমপিদের পছন্দমতো এলাকায় নলকূপ বসানোর জন্য দেওয়া হবে।

এদিকে গতকালের একনেক সভায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পটি সংশোধিত আকারে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি ২০১১ সালের অক্টোবরে প্রথম একনেক সভায় ৯ হাজার ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন পেয়েছিল। ২০১৬ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পটি এখনো দৃশম্যান অগ্রগতি হয়নি। ছয় বছরে প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি না হলেও এর ব্যয় বেড়েছে এক হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। গতকাল একনেক সভায় প্রকল্পটির ব্যয় এক হাজার ৮৭২ কোটি টাকা বাড়িয়ে ১০ হাজার ৯০২ কোটি টাকা করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে। ফ্ল্যাট নির্মাণের স্থবিরতা সম্পর্কে বাস্তবায়নকারী সংস্থা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০১১ সালে প্রকল্পের নকশা সঠিকভাবে করা হয়নি। এ ছাড়া গ্যাসের সিলিন্ডার, ব্যাংক, স্কুল ও ব্যবস্থাপনা ভবন নির্মাণ, ই ও ঈ ব্লকের ফ্ল্যাটের আকার পরিবর্তনসহ নানা কারণে প্রকল্পটি গত ছয় বছরে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

প্রকল্প পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় ২১৪ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে রাজউকের। বিভিন্ন টাইপের ১৫ হাজার ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ হবে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে। ১৩১টি ভবনে এক হাজার ২৫০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট হবে ১১ হাজার চারটি। ১০৫০ বর্গফুটের আয়তনের ফ্ল্যাট হবে চার হাজার ৩২টি। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ রাস্তা, সীমানা প্রাচীর, ফুটপাত, সেতু-কালভার্ট, কমিউনিটি সেন্টার, পানি শোধনাগার, স্কুল, কলেজ, পার্কিং স্থান নির্মাণ করা হবে।

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, সভায় ১৫ হাজার ২২২ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট আটটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে তিন হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। বাকি টাকা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়ার আশা করছে সরকার।

এদিকে গতকালের একনেক সভায় ঢাকার পাশের জেলা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ এবং অপসারণ ব্যবস্থাপনা শিরোনামের আলাদা একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ১৩৪ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় গার্বেজ ট্রাক কেনা হবে পাঁচটি। ক্লিনার ট্রাক কেনা হবে একটি। অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনা হবে ২০০টি। এই প্রকল্পের আওতায় স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণ; কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ, অপসারণ; দূষণ কমিয়ে পরিবেশের উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অবকাঠামো উন্নয়নে গতকাল একনেক সভায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে আলাদা একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৫৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রকল্প-১ : ন্যাশনাল সিংগেল উইন্ডো বাস্তবায়ন এবং কাস্টমস আধুনিকায়ন জোরদারকরণ শিরোনামে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ৫৩০ কোটি টাকা ঋণ দেবে।


মন্তব্য