kalerkantho


ঢাকায় সিপিএ সম্মেলন আজ থেকে

৫২ দেশের ১৫০০ প্রতিনিধি, রোহিঙ্গা ইস্যুও তোলা হবে

নিখিল ভদ্র   

১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



৫২ দেশের ১৫০০ প্রতিনিধি, রোহিঙ্গা ইস্যুও তোলা হবে

আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে বহু প্রত্যাশিত কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) ৬৩তম সম্মেলন। এ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। সম্মেলন চলবে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত। সম্মেলনে ৫২টি সদস্য দেশের জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদের ৫৬ জন স্পিকার, ২৩ জন ডেপুটি স্পিকার, ছয় শতাধিক সংসদ সদস্যসহ প্রায় দেড় হাজার প্রতিনিধি অংশ নেবেন। এ পর্যন্ত ৪৪টি দেশসহ প্রায় ১৪৪টি সিপিএ ব্রাঞ্চ সম্মেলনে অংশগ্রহণের কথা নিশ্চিত করেছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, ১ নভেম্বর সম্মেলন শুরু হলেও ৫ নভেম্বর এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদেশি অতিথিদের অনেকেই এসে পৌঁছেছেন। যে অস্ট্রেলিয়া আগে আপত্তি জানিয়েছিল, তাদের আপার হাউসের স্পিকারসহ বড় প্রতিনিধিদল আসছে। এটা বাংলাদেশের প্রতি বিশ্ববাসীর আস্থার বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য—‘কনটিনিউয়িং টু এনহ্যান্স দ্য হাই স্ট্যান্ডার্ড অব পারফরম্যান্স অব পার্লামেন্টারিয়ানস’। এই সম্মেলনে আটটি কর্মশালা ছাড়াও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর ঘটে যাওয়া লোমহর্ষক ঘটনা এবার বিশ্বের ৫২টি দেশের প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরবে বাংলাদেশ। সম্মেলনে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার নেতৃত্বে ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে।

প্রতিনিধিদলের প্রধান মো. ফজলে রাব্বী মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, সম্মেলনে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকবে বাংলাদেশ। আইপিইউ সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো এজেন্ডা না থাকলেও সর্বশেষ সেটাই প্রধান এজেন্ডা হয়ে উঠেছিল। সেখানে এক হাজার ২৭ ভোটে বাংলাদেশের প্রস্তাব পাস হয়েছে। সেখানে মিয়ানমার মাত্র ৪৭ ভোট পেয়েছে। এতে মিয়ানমারের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সিপিএ সম্মেলনেও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কাড়তে নানামুখী চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

এ সম্মেলনেই পরবর্তী সিপিএ চেয়ারপারসন নির্বাচিত হবেন। ২০১৪ সালের ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে নির্বাচিত চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে তিনজন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। সম্মেলনে ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথ পদাধিকারবলে চিফ প্যাট্রন ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভাইস প্যাট্রন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। রাজধানীর অভিজাত চারটি হোটেলে সিপিএ সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রের সদস্যরা অবস্থান করবেন।

সম্মেলন উপলক্ষে বিমানবন্দর থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার সড়ক এখন বাহারি সাজে সজ্জিত। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ হাজারেরও বেশি সদস্য এই নিরাপত্তাব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি সম্মেলন চলাকালে সংসদ ভবনে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরেও দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সম্মেলন চলাকালে রাজধানীর কয়েকটি সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সংসদের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এক ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা জানান, ডেলিগেশন গাড়িগুলোর জন্য বিশেষ স্টিকার ব্যবহার করা হচ্ছে; এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সড়কে তাঁরা বিশেষ প্রাধান্য পাবেন। প্রয়োজনে ডেলিগেটরা সেনানিবাসের সড়কও ব্যবহার করতে পারবেন। চার স্তরের নিরাপত্তায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও পুলিশের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।

এক বছর আগে বাংলাদেশে সিপিএর ৬২তম সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও গত বছরের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি ও ৭ জুলাই ঈদের সকালে শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় হতাহতের ঘটনায় অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের সতর্কতা জারি করে। অস্ট্রেলিয়াসহ অনেকে সম্মেলনে অংশ নেওয়ায় অনাগ্রহ প্রকাশ করে। ফলে স্থগিত করা হয় ওই সম্মেলন।


মন্তব্য