kalerkantho


খালেদার বহর ফেরার পথে ফেনীতে দুই বাসে বোমা-আগুন

চারজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও ফেনী প্রতিনিধি   

১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



খালেদার বহর ফেরার পথে ফেনীতে দুই বাসে বোমা-আগুন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফেনীর মহিপালে গতকাল খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের অদূরে দুটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফেরার পথে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ফেনীর মহিপাল অতিক্রম করার পর দুটি বাসে বোমা হামলা ও আগুন দেওয়া হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ দুটি বাসের চালক, সহকারীসহ চারজনকে আটক করেছে। ঘটনার পর মহিপাল মোড়ে খালেদাকে বিদায় জানাতে আসা বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

বাসে বোমা-আগুনের ঘটনায় আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন খালেদা জিয়া। গত রাতে এক বিবৃতিতে তিনি ওই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে এ অভিযোগ করেন। পৃথক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। 

গতকাল দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন খালেদা জিয়া। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেল পৌনে ৫টার দিকে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরটি মহিপাল ফিলিং স্টেশন ও হোসেনিয়া মাদরাসাসংলগ্ন এলাকার ‘আবার খাবো’ হোটেলটি অতিক্রম করে। এর পরপরই কে বা কারা ওই হোটেলের সামনে গিয়ে দুটি বাসে পর পর চারটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় ও অগ্নিসংযোগ করে। বাস দুটি রাস্তার উল্টো পাশে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিল। বাসে কোনো যাত্রী ছিল না। বিস্ফোরণ ও আগুনে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন ছোটাছুটি শুরু করে। তবে কেউ হতাহত হয়নি। দুই বাসের মধ্যে একটির নাম যমুনা ট্রান্সপোর্ট। সেটি ফেনী থেকে লক্ষ্মীপুর যাতায়াত করে। অন্যটি ছিল ঢাকাগামী চৌদ্দগ্রাম ট্রান্সপোর্টের বাস। ঘটনার পর ফেনী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে বিস্ফোরণের পর বাস দুটিতে আগুন ধরে গেলেও হামলায় পেট্রলবোমা নাকি ককটেল ব্যবহার করা হয়েছে, তা প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করতে পারেনি। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, পুরনো পুলিশ কোয়ার্টার এলাকা থেকে ‘আবার খাবো’ হোটেল হয়ে একটি রাস্তা মহিপালে মহাসড়কের সঙ্গে এসে মিলেছে। এ রাস্তা ধরে আট থেকে ১০ জন তরুণ এসে বাসে বোমা ফাটিয়ে আগুন দিয়ে আবার দ্রুত পালিয়ে যায়। হামলাকারীদের বয়স ১৫ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে হতে পারে।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছে, বিস্ফোরণের ঠিক আগ মুহূর্তে ওই দুই বাস থেকে কয়েকজন যুবককে বের হতে দেখা গেছে। ওই সময় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরকে স্বাগত জানাতে দলের কয়েক শ সমর্থক ওই এলাকায় ভিড় জমিয়েছিল। সবার নজর বহরের দিকে থাকায় হামলার বিষয়টি প্রথমে কেউ লক্ষ করেনি। বিস্ফোরণের পর বহরের পেছনের দিকে থাকা গাড়িগুলো দ্রুত ওই এলাকা পার হয়ে যায়। পরে ফেনী বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মহিপাল সড়কে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে।

কামাল ও সুজন নামে দুজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, আগুন জ্বলে ওঠার আগ মুহূর্তে সেখান দিয়ে স্থানীয় সাত-আটজন কিশোর ও যুবককে তারা কিছু একটা ছুড়তে দেখেন।

ঘটনার পর ফেনী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দীন মিস্টার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, সরকারি দলের লোকজন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করতে এসেছিল। না পেরে তারা দাঁড়িয়ে থাকা বাসে হামলা করেছে। 

ফেনী জেলা বিএনপির নেতা ও প্রত্যক্ষদর্শী আলাউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলের ১৫ গজ দূরে নেতাকর্মীদের নিয়ে নেত্রীকে বিদায় জানাতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ঠিক তখন দুটো বাসে আগুন ও বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। তখন বিএনপি চেয়ারপারসনের বহরে শেষ প্রান্তের গাড়িগুলো পার হচ্ছিল।’

ক্ষতিগ্রস্ত যমুনা পরিবহনের মালিক ও পরিবহন নেতা আবুল কাশেম মিলন বলেন, ‘কিছুদিন আগেই নতুন গাড়িটি রাস্তায় নামিয়েছি। বোমা-আগুনে গাড়ির ভেতরের সিট, ছাদ, ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন অংশ পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’ 

সফরসূচি অনুযায়ী ফেরার পথে দুপুরে খালেদা জিয়ার ফেনী সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতির কথা ছিল। এরপর কুমিল্লা সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতির কথা ছিল। তবে তিনি কোথাও আর যাত্রাবিরতি করেননি। তাঁর গাড়িবহর সন্ধ্যা ৬টার দিকে কুমিল্লা পার হয়ে যায়। বহরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমানউল্লাহ আমান, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের জুয়েল, রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান প্রমুখ নেতা ছিলেন। রাতে বহর ঢাকায় পৌঁছে।

মহিপালের ঘটনার পর ফেনী জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায় ও এসপি মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ফেনী মডেল থানার ওসি রাশেদ খাঁন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি ও অভিযান চালাচ্ছে। রাতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশ ও র্যাবের একাধিক দল অবস্থান নিয়ে আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এসপি জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, এ ঘটনা কারা কী কারণে করল তা অবশ্যই অনুসন্ধান করবে পুলিশ। যারা শান্ত পরিস্থিতি অশান্ত করতে চাইবে তাদের কিছুতেই ছাড়া হবে না।


মন্তব্য