kalerkantho


চট্টগ্রামে কালের কণ্ঠ’র সুধী সমাবেশে বক্তারা

দেশের অগ্রযাত্রায় নির্ভীকভাবে কাজ করছে কালের কণ্ঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



দেশের অগ্রযাত্রায় নির্ভীকভাবে কাজ করছে কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামে গতকাল কালের কণ্ঠ’র সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘দেশের অগ্রযাত্রায় জনমত সৃষ্টির জন্য গণমাধ্যমের যে ভূমিকা রাখা উচিত তা নির্ভীকভাবে পালন করছে কালের কণ্ঠ। গণমাধ্যম পথ দেখালে দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ সার্বিক ক্ষেত্রে দেশ এগিয়ে যাবে।

’ গতকাল শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের অ্যামব্রোশিয়া হোটেলে কালের কণ্ঠ আয়োজিত সুধী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এই কথা বলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি আট বছরের অগ্রযাত্রায় কালের কণ্ঠ’র ভূমিকা সম্পর্কে অবহিত করে অগ্রযাত্রার নানা দিক তুলে ধরেন এবং চট্টগ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘কালের কণ্ঠ একটি ঘটনাকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে চায় না। আমরা ইতিবাচক সংবাদের মধ্য দিয়ে পাঠকের হূদয়ে বেঁচে থাকতে চাই। আমরা কোনো দলের প্রচারমাধ্যম হিসেবে কাজ করি না। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা থেকে আমরা আমাদের কাগজ প্রকাশ করছি। ’

সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনরা। সুধীজনদের বক্তব্য ও মতামতের আলোকে সমাপনী বক্তব্য দেন কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।

তিনি বলেন, মানুষের যদি দেশপ্রেম থাকে তাহলে কেউ দুর্নীতি করতে পারে না। আর দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তেই কাজ করছে কালের কণ্ঠ।

চট্টগ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘কালের কণ্ঠ’র প্রতি চট্টগ্রামবাসীর ভালোবাসায় আমরা অভিভূত, আমরা গর্বিত। কালের কণ্ঠ দেশের কথা বলে, মানুষের কল্যাণের কথা বলে, সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিচল। ’

অনুষ্ঠানে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রসঙ্গ তুলে ধরে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির আরো বলেন, ‘আমি লক্ষ করে দেখেছি, একই সংবাদ একেকটি সংবাদমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন হয়। প্রকৃতপক্ষে যে পত্রিকার মোটিভ যেমন তারা সেভাবে সংবাদ পরিবেশন করছে। তবে অনেকেই নেতিবাচক সংবাদ বেশি বেশি প্রকাশ করে। দেশ ও জাতির স্বার্থে ইতিবাচক সংবাদ বেশি বেশি প্রকাশ করা জরুরি। ’

রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য এবং সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে গণমাধ্যমের যে বিকাশ, পৃথিবীর অনেক দেশে তা হয়নি। ’ এ সময় তিনি গণমাধ্যমে নিয়োজিত সংবাদকর্মীদের কাজের মানোন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী বলেন, ‘কালের কণ্ঠ প্রকৃত সত্যটাই তুলে ধরে। মানুষের মনের কথাগুলো বলে। বিশেষ করে পত্রিকাটির খেলাধুলার দুটি পাতা আমার বেশ ভালো লাগে। আমি এই দুটি পাতার নিয়মিত পাঠক। ’

কালের কণ্ঠ’র সমৃদ্ধি প্রত্যাশা করে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান বলেন, ‘আংশিক নয়, কালের কণ্ঠ পুরো সত্য হয়ে আমাদের মাঝে অনেক দিন বেঁচে থাকবে। ’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, ‘কালের কণ্ঠ শুরু থেকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, ঐতিহ্য তুলে ধরেছে। আমি আশা করব সমাজের অন্যায়-অত্যাচার, জুলুমের বিরুদ্ধে কালের কণ্ঠ অবস্থান অব্যাহত রাখবে। ’

পেশাজীবী নেতা প্রফেসর ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সংবাদপত্রের নিরপেক্ষতা বিশ্বাস করি না। কারণ যারা বা যে গোষ্ঠী বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিশ্বাস করে না তাদের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে এটা মানা যায় না। আমি বিশ্বাস করি কালের কণ্ঠ মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পক্ষে তাদের অবস্থান অব্যাহত রাখবে। ’

নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, কালের কণ্ঠ ভালো সংবাদ প্রকাশ করছে। সত্য প্রকাশ করছে। আমরা সত্যের সঙ্গেই আছি। কালের কণ্ঠ শুরু থেকেই তৃণমূল মানুষের কথা বলে কোটি পাঠকের মন জয় করেছে।

মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, ‘কালের কণ্ঠ আমি নিয়মিত পড়ি। পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সত্য ও সুন্দরের পক্ষে লিখে আসছে। ন্যায়ের পক্ষে আছে। আগামী দিনেও এই ভূমিকা রাখবে এবং মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখবে প্রত্যাশা করি। পাশাপাশি চট্টগ্রামের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেবে আশা করি। ’ 

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, ‘চট্টগ্রামের সংবাদ কালের কণ্ঠের কাছে আরো বেশি চাই। প্রয়োজনে আরো বেশি পাতায় সংবাদ ছাপানোর দাবি জানাচ্ছি। ’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর আগের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে চলছে। আপনারা বন্দরের অগ্রগতি সংবাদপত্রের মাধ্যমে তুলে ধরুন।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছগীর আহমেদ বলেন, পত্রিকার রিপোর্টাররা ভালো লিখছেন। কিন্তু ঢাকার কালের কণ্ঠ ও চট্টগ্রামের কালের কণ্ঠে অনেক পার্থক্য থাকে। চট্টগ্রামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ভেতরের পাতায় ছাপানো হয়। অনেক সময় ঢাকার পত্রিকায় থাকে না। তাই আমাদের ব্যবসায়ীদের অনেক দাবি-দাওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছায় না। এ বিষয়ে সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম চট্টগ্রাম চাপ্টারের সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, ‘মানুষের দেহের সব অংশ যেমন প্রকাশ করলে লজ্জা, তাই কিছু ঢেকে রাখতে হয়। তেমনি পত্রিকাতেও জাতির সব লজ্জা প্রকাশ করা উচিত না। যেমন—রানা প্লাজার ঘটনা। এটি পত্রিকায় যেমন খুশি প্রকাশ করায় আমেরিকা জিএসপি সুবিধা বন্ধ করে দেয়। এতে দেশ ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই সব প্রকাশ করা উচিত নয়। আর চট্টগ্রাম বিষয়ে বলব, ঢাকার পত্রিকায় চট্টগ্রামকে একটি বৃহৎ গ্রাম হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তাই এর সংবাদ ভেতরের পাতায় চলে যায়। চট্টগ্রামের সংবাদ যথাযথ গুরুত্ব সহকারে ছাপানোর জন্য ছাপানোর জন্য আহ্বান জানাই। ’

এ ছাড়া চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, কবি অভিক ওসমানসহ অন্য গণমান্য ব্যক্তিরা সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন।

অন্যদের মধ্যে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, ইউএসটিসির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল, শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক রফিকুল আনোয়ার, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন, সম্মিলিত পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের সদস্যসচিব ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোটেক ইব্রাহীম হোসেন বাবুল, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোয়াইমান আলম শেঠ, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জুনিয়র চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট গিয়াস উদ্দিন, এলবিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও কালের কণ্ঠের শুভসংঘের উপদেষ্টা রাইসুল উদ্দিন সৈকত, বারভিডার সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. মাহবুব হাসান প্রমুখ।

এর আগে বিকেলে চট্টগ্রামের হকার্স নেতা, সংবাদপত্র এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী পরিচালক (মার্কেটিং) জেড এম আহমেদ প্রিন্স, উপমহাব্যবস্থাপক (সার্কুলেশন) মীর আবুল হাছান। সংবাদপত্র এজেন্ট ও হকার্স নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য