kalerkantho


ইতালিতে এক বাংলাদেশির সাহসিকতা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



ইতালিতে এক বাংলাদেশির সাহসিকতা

হোসেইন আলমগীর

ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে রাতে রাস্তায় ২৫ জন দুর্বৃত্তের হাত থেকে এক তরুণীকে বাঁচিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি ফুল বিক্রেতা হোসেইন আলমগীর (৫৮)। গায়া গুয়ারনোত্তা নামের ২৫ বছর বয়সী ওই তরুণী একজন আলোকচিত্রী।

তিনি  জানিয়েছেন, আলমগীরের সহায়তা না পেলে ওই মাতাল দুর্বৃত্তরা তাঁকে গণধর্ষণ করত। তাঁকে বাঁচানোর নায়ক আলমগীরের সাহসিকতার কথা ফেসবুকের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন তিনি;

যা এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অনেক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ হয়েছে।

নিজের ফেসবুক পেজে আলমগীরের ছবিসহ এক পোস্টে গায়া গুয়ারনোত্তা লেখেন, ‘বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাস্তায় একা একা হাঁটছিলাম। আমি ফ্লোরেন্স শহরকে খুব ভালোবাসি, হাঁটতেও ভালোবাসি। সেই সঙ্গে রাত আমার খুব পছন্দের সময়। কিন্তু এরপরই দুঃস্বপ্নের শুরু। একদল মাতাল আমার পিছু নিয়ে বলতে থাকে, আমাদের সঙ্গে এসো। চলো আমরা ফুর্তি করি। ২৫ জন একসঙ্গে, আজ তোমার রাতটা খুব ভালো কাটবে।

গুয়ারনোত্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ঘিরে ধরে এবং হাত ধরে টেনে অপরিচিত স্থানে নিয়ে যেতে থাকে। তাঁর চশমাও খুলে নেয় ওরা। একপর্যায়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁকে নেশাদ্রব্য খাওয়ানোর চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। ওই সময় ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন আলমগীর। তিনি পরিস্থিতি টের পেয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে আসেন এবং ২৫ জনের দুর্বৃত্ত দলকে বীরের মতো ধাওয়া করে ভর্ত্সনা করতে করতে তাড়িয়ে দেন। এরপর আলমগীর তাঁকে সেখান থেকে একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে দেন, ভালোভাবে পরিষ্কার হওয়ার জন্য একটি তোয়ালে দেন, তাঁকে কিছু খাবার খেতে দেন। এরপর তাঁর হাতে একটি গোলাপ ফুলও তুলে দেন আলমগীর, যাতে হেনস্তা হওয়ার পরও তাঁর মানসিক অবস্থা কিছুটা ভালো হয়।

আলমগীরের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে গুয়ারনোত্তা লিখেছেন, ‘তিনি যদি সেখানে সেদিন না থাকতেন তবে এই ঘটনা বর্ণনা দেওয়ার জন্য আমি বেঁচে থাকতাম না। আমি তাঁকে আমার একটা ছবি দিয়েছি, যাতে যে মেয়েটির জীবন তিনি বাঁচিয়েছেন, তাঁর চেহারা তিনি সব সময় মনে রাখতে পারেন। ’

গুয়ারনোত্তা লিখেছেন, ‘হোসেইন, আপনাকে ধন্যবাদ। কোনো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা না করেই মানুষের উপকার করেন আপনার মতো মানুষেরা, এ কারণেই পৃথিবী এখনো টিকে আছে। আপনাকে আমি কোনো দিনও ভুলব না। ’

গুয়ারনোত্তা আরো লেখেন, এই গল্প তিনি এ কারণে শেয়ার করতে চান, যাতে করে বিশ্বে নারীদের পক্ষে জনমত তৈরি করা সম্ভব হয়। তবে তিনি এ ব্যাপারে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কি না, তা জানা যায়নি।  

হোসেইন আলমগীর ২০০৫ সাল থেকে ইতালিতে বসবাস করছেন। জীবিকা অর্জনের জন্য ফুল বিক্রি করেন। সূত্র : আরটি, ডেইলি মেইল।

 


মন্তব্য