kalerkantho


মোদিকে বিয়ের দাবিতে ধরনায়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



মোদিকে বিয়ের দাবিতে ধরনায়

বিয়ে করলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেই করবেন! এমনই পণ করে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রায় এক মাস ধরে ধরনায় বসে আছেন ওম শান্তি শর্মা নামের এক নারী। শান্তির বয়স ৪০ বছরের কিছু বেশি। থাকেন ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে। বিবাহবিচ্ছিন্না শান্তির বছর কুড়ির এক মেয়েও আছে। কিন্তু শান্তির জেদ, মোদিকে তিনি বিয়ে করবেনই!

কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে একটু হেসে শান্তি বলেন, ‘আমার বিয়ে হয়েছিল; কিন্তু বেশিদিন সেই সম্পর্ক টেকেনি। এর পর থেকে বহু বছর আমি একা।’ কিন্তু তাই বলে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বিয়ে করার যুক্তি কোথায়? এর উত্তরে শান্তি জানান, তিনি এখন একা, প্রধানমন্ত্রীও একা। মোদিকে অনেক কাজ করতে হবে, আর সেই কাজে তাঁকে সহযোগিতা করতে চান শান্তি। শান্তি এটাও জানান যে বিয়ের বহু প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন শুধু মোদিকে বিয়ে করবেন বলে।

মোদির সঙ্গে দেখা করা যে অত সহজ নয় সে কথা বেশ ভালোভাবে জানেন শান্তি। এ কারণেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মোদি যতক্ষণ না এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন, তিনি এই ধরনা থেকে উঠবেন না। শান্তি বলেন, ‘মানুষ যখন এ কথা শোনে, আমাকে উপহাস করে। কিন্তু তাদের একটা বার্তাই দিতে চাই, শুধু ভালোবাসার টানেই নয়, মোদিজির প্রতি আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধা রয়েছে। আর সে কারণেই আমার এই সিদ্ধান্ত।’ পাশাপাশি শান্তি এটাও জানান, ছোটবেলায় তাঁকে শেখানো হয়েছে—বড়দের সম্মান করো, তাঁদের কাজে সাহায্য করো। তাই মোদিজিকে বিয়ে করে তাঁর কাজে সাহায্য করতে চান।

শান্তির দাবি, তাঁর সম্পত্তি বা টাকা-পয়সার কোনো অভাব নেই। ভবিষ্য নিয়েও চিন্তিত নন। তিনি বলেন, ‘জয়পুরে প্রচুর জায়গা-জমি রয়েছে আমার। সেসব বিক্রি করে মোদিজির জন্য উপহার কেনার পরিকল্পনা করেছি। তবে মোদিজি যতক্ষণ না আসবেন, যন্তর মন্তর থেকে আমি এক পাও নড়ব না।’

এক মাস তো প্রায় হয়ে গেল। কিভাবে দিন কাটাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে শান্তি জানান, যন্তর মন্তরে সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি শৌচালয় ব্যবহার করছেন। আর খাওয়াদাওয়া করছেন কাছেই গুরুদ্বারে। গ্রিন ট্রাইব্যুনাল যে যন্তর মন্তরে ধরনা, প্রতিবাদ, বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন—এ খবর তিনি জানেন কি না এমন প্রশ্নে কোনো রকম ইতস্তত না করেই তিনি জানান, গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশের কথা তিনি শুনেছেন। আর সে কারণেই তো চিন্তায় রয়েছেন! যেকোনো দিন তাঁকেও এ জায়গা থেকে তুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সরকার যদি এখান থেকে সরিয়ে দেয়, জানি না কী করব।’ সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।


মন্তব্য