kalerkantho


মজুরির দাবিতে আন্দোলনে শ্রমিক

চার দিনে তিন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ খুলনায়

খুলনা অফিস   

৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



চার দিনে তিন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ খুলনায়

বকেয়া মজুরির দাবিতে এখন উত্তপ্ত খুলনার শিল্পাঞ্চল। চার দিনের ব্যবধানে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। তারা বলেছে, কাজ করেও অর্থ না পেয়ে তাদের দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে; কিন্তু এ নিয়ে মিল কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। নিরুপায় হয়ে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একেকটি মিলে পাঁচ থেকে আট সপ্তাহের মজুরি বকেয়া পড়েছে। এতে এসব মিলের প্রায় ১৪ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বিপাকে পড়েছে।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথম গত বুধবার রাষ্ট্রায়ত্ত প্লাটিনাম জুটমিলের শ্রমিকরা আট সপ্তাহের বকেয়া মজুরির দাবিতে উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। একই দাবিতে গত বৃহস্পতিবার উৎপাদন বন্ধ  করা হয় ক্রিসেন্ট মিলের। রাষ্ট্রায়ত্ত এ মিলটিতেও শ্রমিকদের আট সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। সর্বশেষ গতকাল শনিবার সকাল ৬টায় পাঁচ সপ্তাহের বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে স্টার মিলের উত্তেজিত শ্রমিকরা মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এ পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুলনা সার্কিট হাউস সম্মেলনকক্ষে মিল কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের বৈঠকে ডাকা হয়। কোনো সমাধান ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয় রাত সোয়া ৮টায়। প্রশাসন শ্রমিকদের বলেছে কাজে যোগ দিতে। বৈঠকের পর জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান সাংবাদিকদের বলেছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া শোধ করে দিতে মালিকদের বলা হয়েছে।

বকেয়া পাওয়ার দাবিতে গতকাল শনিবার মিল এলাকাগুলোতে শ্রমিকরা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও সমাবেশ করেছে।

ক্রিসেন্ট জুটমিলের সিবিএ সভাপতি সোহরাব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাজ করেও টাকা না পাওয়ায় শ্রমিকদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। তাই তারা এখন রাজপথে আন্দোলন করছে। এ বিষয়গুলো মিল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। বকেয়া বেতন না পাওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা আর কাজ করতে চায় না।’

প্লাটিনাম জুটমিলের সিবিএর সাবেক সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকদের আর কোথাও দাঁড়ানোর জায়গা নেই। তাই তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলন করছে। একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে অর্থাভাব তাদের কুরে কুরে খাচ্ছে। আমরা চাই এ অবস্থার দ্রুত অবসান হোক।’

স্টার জুটমিলের সিবিএ সভাপতি বেল্লাল মল্লিক জানান, শ্রমিকদের পাঁচ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ জন্য শনিবার সকাল ৬টা থেকে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।

স্টার জুটমিলের প্রকল্প প্রধান ফজলুর রহমান মিলের উৎপাদন বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ক্রিসেন্ট জুটমিলের উপমহাব্যবস্থাপক আহমেদ হোসেন জানান,  মিলে মজুদ পণ্য বিক্রি না হওয়া ও ছুটির ফাঁদে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-মজুরি বকেয়া পড়েছে। এর মধ্যে শ্রমিকদের ছয় সপ্তাহের মজুরি ও কর্মচারীদের বেতন রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে শ্রমিকদের মজুরি দেড় কোটি টাকা ও দুই মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রায় এক কোটি টাকা।

প্লাটিনাম জুটমিলের সিবিএর সাবেক সভাপতি খলিলুর রহমান রাতে কালের কণ্ঠকে বলেছেন, কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বলেছে।

সভায় শ্রমিকরা সময় চেয়ে বলেছে, রাতেই তারা নিজেরা বসে সিদ্ধান্ত নেবে।



মন্তব্য