kalerkantho


লোহাগড়ায় স্কুলশিক্ষককে গাছে বেঁধে মারধর

৫০ হাজার টাকা আদায় বাকিটা না দিলে দেশছাড়া করার হুমকি

নড়াইল প্রতিনিধি   

৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



লোহাগড়ায় স্কুলশিক্ষককে গাছে বেঁধে মারধর

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া গ্রামের শিক্ষক মনি কুমার বিশ্বাসকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে গাছে বেঁধে বেধড়ক পিটিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তারা ৫০ হাজার টাকা আদায় এবং বাকি সাড়ে চার লাখ টাকার চেক ও স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার হুমকি দেয়। গত ২ অক্টোবর রাতে এ ঘটনা ঘটলেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ, এমনকি ঘটনা পুলিশকে জানাতে সাহস পাননি ওই স্কুলশিক্ষক। পরে স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শুক্রবার জেলা পুলিশের হস্তক্ষেপে রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষককে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিনই রাত ১২টার দিকে ছয়জনকে আসামি করে মারধর ও চাঁদাবাজির মামলা করেন শিক্ষকের স্ত্রী বাসনা মণ্ডল। শনিবার সকালে লোহাগড়া থানার পুলিশ রবিউল মোল্যা নামের এক আসামিকে লাহুড়িয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় এলাকায় ও স্কুলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, উপজেলার মরিচপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মাঝিপাড়া পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি মনি কুমার বিশ্বাস গত ২ অক্টোবর রাতে লাহুড়িয়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে একই গ্রামের রোস্তম মিয়ার ছেলে মনিরুল ইসলাম, আনিচুর রহমান, পল্লী চিকিৎসক আমিনুর রহমান, লাহুড়িয়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আকবর হোসেন ও তাঁর ভাই আমিনুরের নেতৃত্বে ওই শিক্ষককে ধরে নিয়ে মেহগনিগাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। খবর পেয়ে মনি কুমারকে বাঁচাতে তাঁর স্ত্রী শিক্ষিকা বাসনা রানী, প্রতিবেশী ত্রিনাথ ও পরিমল স্বর্ণকার ৫০ হাজার টাকা এবং সাড়ে চার লাখ টাকার একটি চেক ও একটি ফাঁকা স্ট্যাম্প দিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে আনেন। বাকি সাড়ে চার লাখ টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে না পারলে এবং এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে হত্যা ও দেশ ছাড়ার হুমকিও দেয় ওই সন্ত্রাসীরা।

বাসনা রানী ও প্রতিবেশী গৌরাঙ্গ বিশ্বাস জানান, মাঝিপাড়া গ্রামের রোস্তম মিয়ার ছেলে মনিরুল ইসলাম, আনিচুর রহমান, পল্লী চিকিৎসক আমিনুর রহমান, ডহরপাড়া গ্রামের আকবর চেয়ারম্যান ও তাঁর ভাই আমিনুর গং দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ‘তোমাদের অনেক টাকা, আমাদের মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দিতে হবে।’ অভিযোগে তাঁরা আরো জানান, ‘মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গত ২ অক্টোবর রাতে লাহুড়িয়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মনি কুমার বিশ্বাসকে ধরে নিয়ে মনিরুলের বাড়ির পাশের মেহগনিগাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। এরপর বেধড়ক মারধর করতে থাকে এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। খবর পেয়ে আমরা প্রতিবেশী দুজনকে নিয়ে বাড়ি থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং সাড়ে চার লাখ টাকার চেক তাদের দিয়ে শিক্ষককে ছাড়িয়ে আনি।’

লাহুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি, শিক্ষক মনি বিশ্বাস অত্যন্ত নিরীহ। এ ব্যাপারে আমাদের ইউপি মেম্বার আকবরের সাথে কথা বলেছি, তিনি মারধরের ঘটনা আমাকে অবহিত করেছেন। যেহেতু ব্যাপারটি মামলায় গড়িয়েছে, তাই এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক—এটা আমিও চাই।’

মরিচপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন বলেন, ‘শিক্ষক মনি বিশ্বাস আমাদের স্কুলের একজন জনপ্রিয় শিক্ষক। তাঁকে নির্দয়ভাবে সন্ত্রাসীরা গাছে বেঁধে মারধর করেছে এবং পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি আমরা।’

লোহাগড়া থানার ওসি ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আসামি একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।’


মন্তব্য