kalerkantho


সরকারের উদ্দেশে বিএনপি নেতারা

পতনের আশঙ্কায় তারা গুণ্ডামিতে নেমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুন, ২০১৭ ০০:০০



পতনের আশঙ্কায় তারা গুণ্ডামিতে নেমেছে

পতনের আশঙ্কায় তারা (সরকার) উদ্ভ্রান্ত হয়ে গুণ্ডামিতে নেমে পড়েছে। বেপরোয়া আচরণ, সন্ত্রাস আর পেশিশক্তি প্রয়োগ করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত পৃথক অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন।

গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, গণবিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে এক অজানা ভয়ে আওয়ামী লীগের মনস্তাত্ত্বিক আবহাওয়া বদলে গেছে। পতনের আশঙ্কায় তারা উদ্ভ্রান্ত হয়ে গুণ্ডামিতে নেমে পড়েছে। সব কিছু হারিয়ে এখন তারা গুণ্ডা রাজত্ব কায়েম করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। জনগণের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক যেন সতিনের সংসারের মতো। আওয়ামী লীগ জনগণের ঘোরবিরোধী। দেশের মানুষের প্রতিই যেন তাদের প্রতিহিংসা।

রিজভী বলেন, ‘যারা প্রাকৃতিক মহা দুর্যোগে নিপতিত উপদ্রুত অসহায় মানুষকে ফেলে নির্বিঘ্নে বিদেশ সফর করতে পারে, তারা সব কিছুই করতে পারে। জনগণ দেখল সরকারি সন্ত্রাস ও গুণ্ডামি।

তাদের ঔদ্ধত্য এমন পর্যায়ে যে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বিএনপির মহাসচিবসহ প্রতিনিধিদলের যাত্রাপথে তাদের আক্রমণ করতেও দ্বিধা করেনি। কারণ রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তির প্রটেকশন ও উসকানিতে সন্ত্রাসীরা উৎসাহিত হচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের নির্দেশেই এই ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। গুণ্ডামির এই নবসংস্করণ জনসমর্থন ছাড়া দুঃশাসন টিকিয়ে রাখারই ইঙ্গিত বহন করে। ’

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার ঘটনার পর রবিবার রাজধানী ঢাকা, নাটোরসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের হামলা ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানান রিজভী। তিনি বলেন, ‘যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতাকর্মীরা কর্মসূচি পালন করেছে সরকার এরও উত্তর দিয়েছে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে, অনাচারের মধ্য দিয়ে, উত্পীড়নের মধ্য দিয়ে। আমরা অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। ’

একই সঙ্গে রবিবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও নেত্রকোনায় স্থানীয় বিএনপির ইফতার মাহফিল আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে পণ্ড করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুস সালাম, হাবিব উন নবী খান সোহেল, এমরান সালেহ প্রিন্স, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, শহীদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে মহাসচিবের গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দলের মহাসচিবের গাড়িবহরে হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

ড. মোশাররফ বলেন, ‘এই সরকারই শেষ সরকার নয়। যেভাবে আক্রমণ, হামলা, গুম, খুন চালিয়ে যাচ্ছে, তার পরিণতি শুভ হবে না। আমরা দাবি করছি, এসব হামলা-মামলা থেকে সরকার সরে আসবে। অতিদ্রুত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। ’

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে পিয়ারা মোস্তফা, আমিনা খাতুন, রোকেয়া বেগম তামান্না, শামসুন্নাহার ভুঁইয়া, রোকেয়া চৌধুরী বেবী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 


মন্তব্য