kalerkantho


তাপপ্রবাহ নিয়ে আবহাওয়াবিদরাও দিশাহারা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



তাপপ্রবাহ নিয়ে আবহাওয়াবিদরাও দিশাহারা

সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের কোথাও কোথাও বৃষ্টি হয়েছে গতকাল রবিবার। আজও থাকতে পারে একই পরিস্থিতি। তবে এর কোনোই প্রভাব পড়ছে না ঢাকার ওপর। ঢাকা ও রাজশাহী অঞ্চলের মানুষ অব্যাহত তাপপ্রবাহে দিশাহারা। এমন পরিস্থিতি থেকে কবে-কখন রেহাই মিলবে সে রকম স্বস্তির বার্তা জানতে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে থাকে আবহাওয়াবিদদের দিকে। কিন্তু বাস্তবে রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে চলমান দাবদাহ নিয়ে অনেকটা দিশাহারা অবস্থায় আছেন দেশের আবহাওয়াবিদরাও। তাঁদের বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যবেক্ষণ-পূর্বাভাসও কার্যকর থাকছে না আবহাওয়ার বিরূপ আচরণের মুখে। ফলে আবহাওয়াবিদদের অনেকেই এখন পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক হয়ে উঠেছেন।

জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সৈয়দ আবুল হাসনাত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চলতি মাসের প্রথম ভাগে আমাদের পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস অনুসারে মাসের মাঝামাঝি তাপপ্রবাহ কমে বরং বৃষ্টি অব্যাহত থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম বাস্তবে তা ঘটল না। দেশের কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে যে বৃষ্টিপাত হচ্ছে তাও স্থায়ী হচ্ছে না। বিশেষ করে ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চলের পরিস্থিতি খুবই শুষ্ক থেকে যাচ্ছে। কেবল চট্টগ্রাম-সিলেট অঞ্চলে কিছুটা ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে; তাও আবার বিরতি দিয়ে দিয়ে। অন্যদিকে ওই সব এলাকায় বৃষ্টি হলেও বিরতির সময় তাপমাত্রা ঠিকই আবার চড়ায় উঠে যায়।’

ওই আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে আমাদের দেশের আবহাওয়ার ওপর আমাদের দেশীয় অবস্থানের তেমন কোনো প্রভাব নেই। বরং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মেঘমালা বিভিন্ন গতিপথ ধরে হিমালয় অঞ্চলে এসে কোন পথ ধরবে তার ওপরই অনেকটা নির্ধারণ হয় আমাদের দেশের পরিস্থিতি কী হবে-না হবে। এবার আমাদের আগের পর্যবেক্ষণে দেখেছিলাম, হিমালয়ের পশ্চিম হয়ে এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে মেঘমালা ভারত ও বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হবে। কিন্তু ঘটেছে উল্টোটা, তা হিমালয়ের পশ্চিমে না এসে উত্তর দিয়ে চলে গেছে। আবার যতটুকু বাংলাদেশের ওপর আসে তাও থাকে না, বরং সরে যায়। ফলে ভারতের বেশির ভাগ অঞ্চল ও বাংলাদেশে তাপপ্রবাহ একই রকম রয়ে গেছে।’

তবে মৃদু আশার বার্তা জানিয়ে ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আশা করছি—চলতি সপ্তাহে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটবে। বিশেষ করে থেকে থেকে কিছুটা বৃষ্টি থাকতে পারে কোথাও কোথাও। তবে আগামী ২ মে নাগাদ আমরা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় এসে যাব।’

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এ মৌসুমের  স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

এর প্রভাবে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

এ ছাড়া রাজশাহী অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। খুলনা বিভাগ এবং বগুড়া, ঈশ্বরদী, দিনাজপুর, ঢাকা, টাঙ্গাইল ও ফরিদপুর অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।


মন্তব্য