kalerkantho


ডিএমপি মুখপাত্রর দাবি

জয়কে অপহরণ ও হত্যা চক্রান্তে আরো তিনজন

শফিক রেহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



জয়কে অপহরণ ও হত্যা চক্রান্তে আরো তিনজন

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত আরো তিনজনের নাম বলেছেন সাংবাদিক শফিক রেহমান। গতকাল রবিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে এ দাবি করলেও কারো নাম প্রকাশ করেননি মনিরুল। তিনি শুধু বলেন, তাঁরা তিনজনই বাংলাদেশি। তাঁদের কেউ প্রবাসে, কেউ বাংলাদেশে থাকেন।

গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, জয়কে অপহরণ ও হত্যা চক্রান্তে বাংলাদেশ থেকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শফিক রেহমানের নামে ১০ হাজার ডলার পাঠানোর কথা তাঁরা শুনেছেন। বাকি ২০ হাজার ডলার কাদের নামে পাঠানো হয়েছে, তা তাঁরা খুঁজে দেখছেন।

গত শনিবার এক ব্রিফিংয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুক্তরাষ্ট্রে জয়কে অপহরণ পরিকল্পনা ও হত্যা চক্রান্তে এফবিআই কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার মামলার বিচারে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সন্দেহজনক লেনদেনের যে দাবি করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এটা রাজনৈতিক বক্তব্য’।

ডিএমপির মুখপাত্র গতকাল ব্রিফিংয়ে বলেন, দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে শফিক রেহমান অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাঁকে প্রথম দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে সাতজনের নামসহ বেশ কিছু নথি জব্দ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। ওই সাতজনের মধ্যে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানও রয়েছেন। দ্বিতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরো তিনজনের নাম বলেছেন। ওই নামগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। অধিকতর তদন্তে এ ঘটনায় ওই তিনজনের সম্পৃক্ততার বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

মনিরুল ইসলাম জানান, জয় অপহরণ ও হত্যা চক্রান্তের ঘটনায় শফিক রেহমান জিজ্ঞাসাবাদে মাহমুদুর রহমানের নাম বলার পর তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে। মাহমুদুর রহমানকে আজ সোমবার আদালতে নিয়ে রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হবে। মাহমুদুর রহমানকে প্রথমে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর তদন্তের প্রয়োজনে শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির মহাসচিব ৩০০ ডলারের যে দাবি করেছেন, তা রাজনৈতিক বক্তব্য। মির্জা ফখরুলের ওই বক্তব্যের সঙ্গে শফিক রেহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের এখন পর্যন্ত কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তবে এটা বলা প্রয়োজন যে জব্দকৃত নথিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে কী কারণে গ্রেপ্তারকৃতদের সাজা হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল দাবি করেছিলেন, জয় অপহরণ ও হত্যা চক্রান্তের বিচারের সূত্র ধরে শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হলেও ওই লেনদেন নিয়ে কোনো কথা হচ্ছে না। গতকাল এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা জানি না যিনি (মির্জা ফখরুল) বক্তব্য দিয়েছেন তার সঙ্গে শফিক রেহমানের কোনো কথা হয়েছে কি না। আমাদের ধারণা, কোনো ধরনের কথা তিনি বলেননি। এটা তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য।’

মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘শফিক রেহমানকে আইনের মধ্যে থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রিমান্ডে তাঁর ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ বা নিপীড়ন করা হয়নি। উনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে তথ্য দিচ্ছেন সেই তথ্যের ভেতরে তিনি সব কিছুই উল্লেখ করছেন। এর পাশপাশি জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট ও এফবিআইয়ের তদন্তের কিছু তথ্য, অর্থাৎ ডকুমেন্ট আমরা সংগ্রহ করেছি। সেগুলোতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের কী কারণে সাজা হয়েছে। কাজেই বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে যে ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, সেটি তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য। রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

শফিক রেহমানের বাসা থেকে এফবিআইয়ের গোপন নথি উদ্ধারের দাবি করলেও পুলিশ তা আদালতে জমা দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর আইনজীবীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিরুল বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত আলামত আমরা জব্দ করেছি। যথাসময়ে সেগুলো আদালতে জমা দেওয়া হবে।’

জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট ডিবির পরিদর্শক ফজলুর রহমান পল্টন থানায় শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে জিডি করেছিলেন। পরে ওই জিডি মামলায় রূপান্তরিত করা হয়। গত ১৬ এপ্রিল সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনের বাসা থেকে শফিক রেহমানকে আটক করে ডিবি। পরে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।



মন্তব্য