kalerkantho


দাবি দ্রুত বিচার, নিরাপদ কর্মস্থল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



দাবি দ্রুত বিচার, নিরাপদ কর্মস্থল

ছবিমর্মান্তিক রানা প্লাজা দুর্ঘটনার তৃতীয় বর্ষপূর্তির দিনে গতকাল সাভারে ঘটনাস্থলে স্বজনহারা মানুষগুলো একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ত্রুটিপূর্ণ ভবন নির্মাণে দায়ীদের দ্রুত সুষ্ঠু বিচার, দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার ও আহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, পোশাক শ্রমিকদের বেঁচে থাকার মতো মজুরি নিশ্চিত ও নিরাপদ কর্মস্থলের দাবির মধ্য দিয়ে গতকাল রবিবার সাভারের রানা প্লাজা ধসের তিন বছরপূর্তি পালিত হয়েছে।

সেদিনের দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের স্মরণে রাজধানী ঢাকা, সাভার ও জুরাইনে দিনভর ছিল নানা কর্মসূচি। সাভারের দুর্ঘটনাস্থলে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ ও জুরাইনের কবরস্থানে স্বজনদের সঙ্গে শামিল হন অধিকারকর্মী ও গার্মেন্ট মালিকরা। দিনটিকে ছুটি ঘোষণার দাবিতে সাভারে বিক্ষোভ করেছে পোশাক শ্রমিকরা।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন আটতলা রানা প্লাজা ধসে নিহত হয় এক হাজার ১৩৫ জন। প্রাণে বেঁচে গেলেও পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয় আরো হাজারখানেক গার্মেন্ট শ্রমিককে।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনার মামলা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর সঙ্গে জড়িতদের ুসুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ। জুরাইন কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংগঠনটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, দোষীদের দ্রুত বিচার হওয়া জরুরি। হতাহত শ্রমিক পরিবারগুলোকে ‘ঠিকভাবে’ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, এখনো কেউ ক্ষতিপূরণ চাইলে তা মেটানোর ব্যবস্থা করা হবে। ক্ষতিপূরণ পায়নি, এমন অভিযোগ নিয়ে আর কেউ বিজিএমইএর কাছে আসেনি বলে জানান তিনি।

বিজিএমইএ সহসভাপতি এস এম মান্নান কচি ও মাহমুদ হাসান খান বাবু এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বিজিএমইএর উদ্যোগে জুরাইন কবরস্থানে ফুল দেওয়া ছাড়াও নিহত শ্রমিকদের স্মরণে শোকযাত্রা, কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধাঞ্জলির আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া বিজিএমইএ ভবনে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগ, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এদিন জুরাইনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের উদ্যোগে জুরাইন কবরস্থানে শ্রদ্ধা জানাতে অংশ নেন শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের আহ্বায়ক মানবাধিকার নেত্রী ড. হামিদা হোসেন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি শিরীন আখতার এমপি, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি আলহাজ শুক্কুর মাহমুদ, বিলেসর সহকারী নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন প্রমুখ।

নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিতের দাবি : আমাদের সাভার প্রতিনিধি জানান, দেশের সব শ্রমিকের নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে ২৪ এপ্রিলকে শ্রমিক নিরাপত্তা ও শোক দিবস হিসেবে পালনের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। গতকাল রানা প্লাজার ধসে পড়া স্থানের কাছে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে সমবেত হয়ে তাঁরা এ দাবি জানান। একই সঙ্গে ভবন মালিক সোহেল রানা ও অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাসহ সব দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা, নিহত শ্রমিকদের স্মরণে রানা প্লাজার সামনে স্থায়ীভাবে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

নেতারা বলেন, স্বার্থান্বেষী মালিকপক্ষ নানাভাবে শ্রমিকদের ব্যবহার করতে চায়। সেটা আর করতে দেওয়া হবে না। শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ, ঝুঁকিমুক্ত সুন্দর কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। কারণ, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির মতো আর কোনো ঘটনা আমরা দেখতে চাই না।

ভোর থেকেই বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও হতাহত, ক্ষতিগ্রস্ত ও নিখোঁজদের স্বজনরা ভিড় জমান রানা প্লাজার সামনে। সেখানে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় সন্তান হারানো মা-বাবা, বাবা-মা হারানো সন্তানরা, স্ত্রী হারানো স্বামী, স্বামী হারানো স্ত্রী, ভাই হারানো বোন, বোন হারানো ভাই, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। একই সঙ্গে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতানেত্রীরা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন বেসরকারি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন।

রানা প্লাজার সামনে স্বজনহারাদের প্ল্যাকার্ড ও নিখোঁজদের ছবি হাতে অনেককেই আর্তনাদ করতে দেখা গেছে।

সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান সবাইকে নিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং পরে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।


মন্তব্য