kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ধৈর্য লাগে

একটিমাত্র পণ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল মেরিল টয়লেট্রিজ। সেই পণ্য জনপ্রিয় করতে সারা দেশের দোকান চষে বেড়িয়েছেন। শুরু করেছেন স্কয়ারের মিডিয়া ব্যবসা। খেলাধুলা, শিল্পসাহিত্যের প্রতিও ঝোঁক আছে। মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরীর জীবনটায় আলো ফেললেন ওমর শাহেদ। ছবি তুলেছেন কাকলী প্রধান

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ধৈর্য লাগে

আপনার জন্ম কোথায়?

১৯৫৪ সালের ১৭ জুলাই পাবনা থেকে ১২ মাইল দূরে আতাইকুলা গ্রামে। এখানে আমার দাদাবাড়ি।

চার বছর পর্যন্ত এখানে থেকেছি।

 

স্কয়ার প্রতিষ্ঠার পেছনের গল্প?

দাদা ডাক্তার ছিলেন। আতাইকুলায় তাঁর ফার্মেসিও ছিল। তখন এই গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবার বলতে আমাদের ‘চৌধুরী পরিবার’ ছিল, লোকে ‘ডাক্তার সাহেবের বাড়ি’ বলত। দাদা নির্দিষ্ট কোনো ফি নিতেন না। চিকিৎসা দেওয়ার পর কেউ টাকা দিলে ভালো, না হয় তো কেউ একটি লাউ, কেউ কাঁঠাল নিয়ে এসে বলত, ‘ডাক্তার বাবু আপনার জন্য এনেছি। ’ সেই সময় মানুষ অনেক সাধারণ ছিল। তিনি গ্রামের মুরব্বি ছিলেন। সবাই তাঁকে অসম্ভব সম্মান করত।

যা-ই হোক, বাবা [স্যামসন এইচ চৌধুরী] তো বাইরে লেখাপড়া করেছেন, নৌবাহিনীতেও চাকরি করেছেন। যেহেতু দাদা এই ব্যবসায় ছিলেন, তিনি বাড়ির বড় ছেলে, ফিরে এসে বাবা ভালোভাবেই ফার্মেসির দায়িত্ব নেন। গ্রামে তাঁর বন্ধুবান্ধব ছিল। দুই বন্ধু ডাক্তার। সে কারণেই হয়তো তাঁরা চিন্তা করলেন, এখানে ওষুধের ফ্যাক্টরি করা যায়। ১৯৫৮ সালে তাঁরা চার বন্ধু মিলে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ওয়ার্কস স্থাপন করেন। যখন ব্যবসা শুরু হলো, বাবার কাজের সূত্রে আমরা পাবনায় চলে আসি। কারখানার কাছে একটি বাসায় থাকতাম। এভাবেই আমাদের যাত্রা শুরু।

 

শুরুতে তো অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে?

যেকোনো ব্যবসা শুরু করতে গেলে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মোকাবিলা করতে হয়। দাদা সাহায্য করার প্রস্তাব দিলেও বাবা বলেছেন, না, আমাকে খালি পাঁচ হাজার টাকা ধার দাও, তোমার কাছে আমি আর কিচ্ছু চাই না। দাদার অনেক জমিজমা, প্রতিপত্তি ছিল; কিন্তু বাবা সব সময় নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছেন। সেই পাঁচ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে তাঁর শুরু। শুরু থেকেই বাবা স্কয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। বন্ধুরা ছিলেন পার্টনার। তবে এরপর তাঁকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি। অসম্ভব পরিশ্রম করেছেন।

 

তাহলে তো ছোটবেলায় বাবার দেখা পেতেন না।

বলতে গেলে মা-ই [অনিতা চৌধুরী] আমাদের মানুষ করেছেন। তখন যত অফিস-আদালত ছিল, সেগুলোর সদর দপ্তর পশ্চিম পাকিস্তানে ছিল। ঢাকায়ও কিছু ছিল। মার্কেটিং করতে ঢাকায় যেতে হতো। তিনি পাবনা থেকে ঢাকা, ঢাকা থেকে ওখানে যেতেন। বাবার প্রথম অফিস ছিল হাটখোলা, অভিসার সিনেমা হলের পাশে। সেটি ছিল ভাড়া। ওপরে আমাদের থাকার ব্যবস্থা, নিচে ছিল পুরোদস্তুর অফিস। বাবাকে মাসে চার-পাঁচ দিন আমরা পাবনায় পেতাম। বাদবাকি সময় তাঁকে ব্যবসার কাজে বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করতে হতো। ভোরে রওনা দিয়ে তিনটি ফেরি পার হয়ে ৪টার দিকে ঢাকায় পৌঁছতেন। এই যুদ্ধ করেও বাবা দাঁড়িয়েছেন। এর কারণ, বাবা যেমন ডিসিপ্লিনড ছিলেন, মাও তেমনই ছিলেন। বাবা যখন বাসায় আসতেন, আমাদের কাছে মনে হতো ঈদ। কম দেখতাম তো [হাসি], কিন্তু মা খুব শাসনে রাখতেন। লেখাপড়া থেকে শুরু করে সব কিছুতে কঠোর নজরদারি করতেন। তিনি কিন্তু একদম টিপিক্যাল গৃহিণী। রান্না থেকে শুরু করে কাপড় ধোয়া—সবই করেছেন। আমার কী রঙের, কয়টি কাপড় ছিল মনে আছে। এক চাচা একটি সবুজ রঙের সিল্ক শার্ট উপহার দিয়েছিলেন। সেটি পাওয়ায় যে মজা পেয়েছি, এখনো মনে হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে দামি কাপড় পরেও ওই মজাটি পাব না। তখন আমার ছোট ছোট দু-তিনটি খেলনা ছিল। আমার সন্তানদের এখনো বলি, বাবা তোমরা সেই মজাটি পাবে না। কারণ তোমার তো কত খেলনা আছে গোনা যায় না। কোনো কিছু পাওয়ার আনন্দ আমরা তখন অনেক বেশি উপলব্ধি করেছি। সোনা বা রুপার চামচ মুখে দিয়ে আমরা বড় হইনি, কিন্তু এও সব সময় বলি—কোনো কিছুর অভাব অনুভব করিনি, কখনোই না। কোনো না কোনোভাবে মা সব ম্যানেজ করেছেন।

 

লেখাপড়া করেছেন কোথায়?

আমি পাবনা জিলা স্কুলের ছাত্র। আমি খুব খেলাপাগল ছিলাম। ওটাই ছিল আমার জীবন। শীতে ফুটবল খেলা হতো না, হতো ক্রিকেট-ব্যাডমিন্টন। বাদবাকি সময় ফুটবল খেলতাম। ঘুড়ি ওড়াতাম। ঘুড়ি ওড়াতে অসম্ভব পছন্দ করতাম। ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে দুবার মাথাও ফেটেছে। আমাদের পাবনার ভাষায় বলে ‘ঘুড্ডি সই’, মানে বাতাস লাগলে বিপক্ষের ঘুড়িতে সই করে নাটাই দিয়ে সুতা ছাড়তে হয়, সুতা দিয়ে সেটিকে জড়াতে হয়। ঘুড্ডি ফাইট, সুতাতে মাঞ্জা দেওয়া—সবই করেছি, সব জানি [হাসি]। খুব দুষ্টু ছিলাম ছোটবেলায়, দুপুরে খাওয়ার পর মা যখন ঘুমাতেন, যে হামানদিস্তায় দাদি পান ছেঁচতেন, তাতে বাল্ব গুঁড়ো করে ছেঁচতাম। পরে সেটি ভালো করে ধুয়ে রাখতাম। সব কিছু মিশিয়ে মাঞ্জা বানিয়ে মাঠে গিয়ে ঘুড়ি ওড়াতাম। ছোটকালে আমার অনেক বন্ধুবান্ধব ছিল। স্কুলে পড়ার সময় যারা আমার বন্ধু ছিল, এখনো তাদের বেশির ভাগই আমার বন্ধু। এখনো পাবনা গেলে তাদের সঙ্গে সময় কাটাই।

 

মেট্রিক পাস করলেন কবে?

১৯৬৯ সালে। পাস করার পর আমাকে ঢাকায় জগন্নাথ কলেজে ভর্তি করানো হলো। যদিও আমাদের পরিবার পাবনায় থাকত। জগন্নাথ কলেজের কাছেই সদরঘাটে একটি মিশন হোস্টেলে থাকতাম। অনেক বড় সুন্দর ক্যাম্পাস, মাঠ ছিল। হাঁটাপথের দূরত্বে জগন্নাথ কলেজ। তারপর তো ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলন শুরু হলো। একাত্তরের ৭ মার্চের ভাষণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিলাম। পুরান ঢাকা থেকে হেঁটে বন্ধুরা সবাই বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনতে গিয়েছি।

 

মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে কোথায় ছিলেন?

১০ কি ১১ মার্চ পাবনা চলে গেলাম। তখন পাবনার জেলা প্রশাসক ছিলেন নুরুল কাদের। তাঁর স্ত্রী তারিন [রোকেয়া কাদের] আমাদের ভালো বন্ধু। তিনি ভোরে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন, তাঁরা পদ্মার চরে চলে গেলেন। পাবনার পাশেই পদ্মা। সেখান থেকে ফিরে এসে ২৭ বা ২৮ মার্চ ভোরে লাঠিসোঁটা নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে পুলিশলাইনসে আক্রমণ করলেন। অন্ধকার তো, ওরা মনে করল, হাজার হাজার মানুষ; পুলিশরা আত্মসমর্পণ করল। পাবনা শহরে টেলিফোন অফিসে মাত্র ২৬ জন আর্মি ছিল, তাদের সঙ্গে গোলাগুলি হলো। ওরা সবাই মারা গেল। আমাদের ফ্যাক্টরিতে, পাবনা মার্কেটে কিছু পাঠান ও পাঞ্জাবি নাইটগার্ড ছিল। তাদের অনেকে মারা গেল। ফ্যাক্টরির নাইটগার্ডদের থানায় দিয়ে দিলাম, যেন ওরা জনরোষ থেকে বাঁচতে পারে। যেহেতু সেখানে আমাদের অনেক প্রভাব ছিল, আমরা বললাম, এরা তো কোনো কিছু করেনি। পরে আর্মি এসে তাদের ছেড়ে দিল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক ছিলেন মোল্লা খান। প্রথম থেকেই তিনি বাবাকে ছেলের মতো দেখতেন, ‘তুমি’ করে বলতেন, ‘বেটা’ বলে ডাকতেন। ভোর থেকে তিনি ডিউটি দিতেন। আর্মিরা যখন ফ্যাক্টরি পোড়াতে গেল, তিনি গেটের সামনে দাঁড়ানো। বলছেন, ‘এটি আমার ফ্যাক্টরি। এই ফ্যাক্টরি পোড়াতে হলে আমাকে গুলি করে মেরে পোড়াতে হবে। ’ ফলে ফ্যাক্টরিতে ওরা ঢুকতে পারেনি, পোড়াতেও পারেনি। তাঁর কারণে আমাদের ফ্যাক্টরি বেঁঁচে গেল। এরপর বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোল্লা খানের মাধ্যমে মাকে চিঠি লিখে, কাউকে না জানিয়ে জুন মাসে আমি যুদ্ধে চলে গেলাম।

 

শুনেছি রাজাকারদের হাতে ধরাও পড়েছেন।

সেদিন শেষরাতে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুরে পৌঁছলাম। তারপর রাজাকারদের কাছে ধরা পড়ে গেলাম। ওরা পাকশি রেল রোডে টহল দিচ্ছিল। আমাদের ধরে হই-হুল্লোড় করতে করতে থানায় নিয়ে গেল। ওরা যাদের ধরে, ট্রেনে তুলে দেয়। ট্রেন ফিরে যাওয়ার সময় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ওপর থেকে গুলি করে নদীতে ফেলে দেয়। আমরা তো থানায় বন্দি। সেদিন হাটবার ছিল। উত্সুক মানুষ আমাদের দেখতে এসেছে। সঙ্গের এক মুক্তিযোদ্ধা, নাম ডাবলু, মারা গেছেন, তাঁদের আবার মিরপুরে অনেক জমি ছিল। তাঁদের এক বর্গাচাষি এসে দেখেন, আরে এ তো তাঁর মালিকের ছেলে। তিনি বুদ্ধি করে বললেন, ‘ওরা মুক্তিযোদ্ধা নয়, শহরের অবস্থা খারাপ দেখে আমার এখানে থাকতে এসেছে। কিছুদিন থেকে চলে যাবে। ’ থানার পাকিস্তানি পুলিশদের বোঝানোর পর ওরা বলল, ঠিক আছে, নিয়ে যা। তাঁর বাসায় আমাদের নিয়ে গেলেন। কোনো রকমে খাওয়ানোর পর বললেন, ‘ওরা যদি মন বদলে ফেলে ভয়ংকর বিপদ হবে। তোমরা এখনই রওনা দাও। ’ নাকেমুখে খেয়ে ভারতের পথে হাঁটা দিলাম।

 

প্রশিক্ষণ নিয়েছেন কোথায়?

আমি ভারতের কেচুয়াডাঙ্গা ক্যাম্পে ছিলাম। সেখানে পাবনার ক্যাম্প ছিল। জলঙ্গী ও করিমপুরের মাঝে, গ্রামের ভেতর সীমান্ত এলাকায় কেচুয়াডাঙ্গা। ক্যাম্পে মাসখানেক ছিলাম। আমাকেসহ কয়েকজনকে পরের ব্যাচে নির্বাচিত করা হলো। কেচুয়াডাঙ্গা থেকে কলকাতা, কলকাতা থেকে ট্রেনে শিলিগুড়ি, শিলিগুড়িতে বেইস ক্যাম্প ছিল। ওখান থেকে বাগডোগরা এয়ারপোর্ট। ওখান থেকে কার্গো প্লেনে দেরাদুন। সেখান থেকে মিলিটারি ট্রাকে ট্রেনিং ক্যাম্প চাকরাতা। আমরা মুজিব বাহিনীতে এক মাস কমান্ডো ট্রেনিং নিলাম। সেখান থেকে একই উপায়ে ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্টে রাখা হলো। চার-পাঁচ দিন সেখানে ছিলাম। আনকোরা রাশান অস্ত্র এলো। সে অস্ত্র নিয়ে তার এক দিন কি দুই দিন পর সন্ধ্যায় ট্রাক আমাদের সীমান্তে নামিয়ে দিয়ে গেল এবং সীমান্ত পার হলাম।

 

যুদ্ধের স্মরণীয় কোনো স্মৃতি?

পাবনার সুজানগরে কয়েকটি অপারেশন করেছি। ১৬ ডিসেম্বর আমরা পাবনায় ঢুকতে পারিনি, পেরেছি ১৭ ডিসেম্বর। দেশ স্বাধীনের দিন সুজানগরে আর্মির সঙ্গে আমাদের মূল যুদ্ধটি করতে হয়েছে। ওরা বাড়িঘর সব পুড়িয়ে দিয়েছে, দোতলা পাকা বাড়িটিই ছিল থানা। ওরা দোতলায়, আমরা পোড়ানো মাটির ভিটের পেছনে শুয়ে যুদ্ধ করছি। সেদিনের যুদ্ধে আমার ১৫-২০ ফুট সামনে, আমাদের সঙ্গে ট্রেনিং নেওয়া এক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। জানালায় একটি টার্গেট দেখে তিনি এত উত্তেজিত হয়ে গেলেন যে উঠে বসে পড়লেন। আমিও দেখতে পাচ্ছি, পাশে শুয়ে আছি। বসার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তিনি শহীদ হলেন।

 

স্বাধীনতার পর কিভাবে জীবন শুরু হলো?

পাবনায় আমাদের তো থাকার জায়গাও ছিল না। গ্রামের বাড়ি থেকে শুরু করে সব কিছু পাকিস্তানিরা ধ্বংস করে দিয়েছিল। এক ফ্যাক্টরি ছাড়া তো আর কিছু ছিল না। পরে বাবা ধানমণ্ডির সাতমসজিদ রোডে একটি বাসা ভাড়া নিলেন, আমরা সেখানে এলাম। ১৯৭৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আমি বিদেশে চলে গেলাম। তখনো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হইনি, আমি ছাত্র। বাবাই ব্যবসা দেখতেন।

 

বিদেশে গেলেন কেন এবং কিভাবে?

বাবা একদিন ডেকে বললেন, ‘আগামী সপ্তাহে তুমি আমেরিকায় পড়তে যাচ্ছ। ’ বললাম, কিভাবে পড়তে যাব? আমি তো আবেদন করিনি, ভর্তি হইনি, আমার আই-২০ নেই। তিনি বললেন, ‘সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে। ’ ভিসা? ‘ভিসাও হয়েছে। ’ আমাকে আমেরিকান এমবাসিতেও যেতে হয়নি। এত দিন বলিনি, কারণটি এখন বলি—১৯৭৩ সালে আমার বয়স ১৯, যুদ্ধে গেছি ১৭ বছরে। ১৯৭১ সালের পর এই দুই বছরে আমার কার্যকলাপ দেখে তিনি নিশ্চিত ছিলেন, হয় আমি বাঁচব না, নতুবা জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে। কারণ বিশেষ করে পাবনায় তখন আমরা যা বলেছি তা-ই হয়েছে, উই আর ইন কমান্ড, আমাদের এত ক্ষমতা ছিল। ১৮ বছরের একটি  ছেলের যখন এত ক্ষমতা থাকে, আর্মড টু দ্য টিথ, সাঁজোয়া বাহিনী থাকে, আমরা সাঁজোয়া বাহিনী নিয়ে ঢাকায় আসতাম। জগন্নাথ কলেজে পড়তাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধুরা ছিল, টিএসসিতে আড্ডা দিতাম। আমার ছাদ খোলা উইলিস জিপ ছিল। প্রথম যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘ওরা ১১ জন’, এটি তো মাসুদ পারভেজের ছবি, এখন সে সোহেল রানা, ও ছিল ইকবাল হলের ভিপি, আর [মুশফিকুর রহমান] গুলজার ভাই ছিলেন মহসিন হলের; ফলে এফডিসিতে গিয়ে রাত একটা-দেড়টা পর্যন্ত আড্ডা দিতাম। আমাদের বলার কেউ ছিল না, তখন তো ঢাকা খুব অস্থির, বড় বড় মুক্তিযোদ্ধাও ঢাকায় এসে আমাদের সঙ্গে মিশতেন। ফলে বাবা ভেবেছিলেন, এ তো কোনো দিন হয় কোনো গানফাইটে মারা যাবে বা এমন কিছুই ওর হবে। উই ডিসাইডেড হু লিভস হু ডাজন্ট। রাইট অর রং দ্যাট ইজ অ্যা ডিফরেন্ট ইস্যু। এত অল্প বয়সে, এত ক্ষমতা থাকলে যা হয়। তাঁর সিদ্ধান্তটি খুব সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। বলতে দ্বিধা নেই, পাবনায় আমার কয়েকজন সঙ্গী প্রতিশোধে মারাও গেছে। সাত দিনের নোটিশে আমি বিদেশে গেলাম এবং বেঁচেও গেলাম।

 

সেখানকার জীবন?

ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ক্লিয়ার ওয়াটার জুনিয়র কলেজে এক বছর পড়ালেখা করলাম। এক ছুটির সন্ধ্যায় ফ্লোরিডায় ডিজনি ওয়ার্ল্ড দেখতে গিয়ে দেখি, হায় রে! আবহাওয়া এত ভালো, ঠিক বাংলাদেশের মতো, এত সুন্দর জায়গা, আর ইন্ডিয়ানায় খুব ঠাণ্ডা। কলেজ থেকে ট্রান্সফার নিয়ে ফ্লোরিডায় চলে এলাম। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ব্যবস্থাপনা নিয়ে পড়েছি।

 

ওখানেই কী ব্যবসার সঙ্গে জড়ালেন?

লেখাপড়ার পর টুকটাক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ি। এরপর তো আমাদের গার্মেন্ট ব্যবসা শুরু হলো। বাবা সেখানে এর মার্কেটিংয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি গার্মেন্টে আগ্রহী ছিলাম না। মনোযোগী হলে হয়তো আরো অনেক ভালো করতাম। এই করতে করতে ১৯৯১ সালে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হলো, আমি দেশে ফিরে আসব। তখন আমাদের কম্পানি বড় হচ্ছে। আজকের স্কয়ার টয়লেট্রিজ কম্পানি আকারে ছিল না, স্কয়ারের একটি ডিভিশন ছিল। সেখানে প্রথম পণ্য এলো ‘জুঁই’ নারিকেল তেল। এটা আমার বড় ভাইয়ের মেয়ের নাম, বাবাই রেখেছেন। সেটি বাজারে এসেছে। বাবা বললেন, ‘তুমি আসো, কম্পানি বড় হচ্ছে, তুমিও কিছু দায়িত্ব নাও। ’ খুশি মনে চলে এলাম। কারণ সেখানে ভালো লাগার মতো কিছু ছিল না। আমার আত্মা তো সব সময়ই বাংলাদেশে পড়ে ছিল। বিদেশে লেখাপড়ার জন্য গিয়েছি মাত্র।

 

এই ব্যবসার জীবন শুরু হলো?

১৯৯১ সালে আমাকে কম্পানির দায়িত্ব দেওয়া হলো। তখন সারা দেশে ঘুরেছি। শুরুর দিকে এটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল এবং খুব আগ্রহভরেই তা নিয়েছি। আমি আর একজন সহকর্মী মিলে সারা দেশে চক্কর দিয়েছি। আমার প্রথম টার্গেট ছিল, সারা বাংলাদেশে পণ্যটি পরিচিত করাব। প্রথমে ঠিক করলাম, প্রতিটি জেলার সব দোকানে পণ্যটি পরিচিত করতে হবে। গিয়ে দেখি, সবাই বাকি চায়। বললাম, বাকি তো আমরা দেব না। দোকানদাররা বললেন, ‘আপনাদের স্কয়ার এত বড় কম্পানি, বাকি দেবেন না কেন?’ বললাম, স্কয়ার বিশাল কম্পানি ঠিক আছে; কিন্তু বাকি দিলে আপনার সঙ্গে আমার সম্পর্ক নষ্ট হবে। তখন তাঁরা বলেন, ‘না না, থাক, দরকার নেই। ’ দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতাম। ১০-১৫ মিনিট পর আবার ডাকাতেন, ‘আচ্ছা আসেন, বসেন। দেখি কী পণ্য আছে আপনাদের?’ এভাবে আস্তে আস্তে মেরিলকে জনপ্রিয় করেছি। ধৈর্য লাগে। জুঁই থেকে আস্তে আস্তে আমাদের একেকটি পণ্য আসতে থাকল। এখন তো মেরিলের অনেক পণ্য। স্কয়ার টয়লেট্রিজ আমার দায়িত্বে, ফ্যাক্টরি পাবনা ও কাঁচপুরে। স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজও আমি দেখি। এর ফ্যাক্টরি পাবনায়।

 

মিডিয়াকমের শুরু কিভাবে?

ওষুধের তো আর বিজ্ঞাপন দেওয়া যায় না, কিন্তু টয়লেট্রিজের বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়। সে চিন্তা থেকেই টিভিতে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য কয়েকটি অ্যাড ফার্মকে ডাকলাম। তাদের সঙ্গে বসে বিজ্ঞাপনের আইডিয়া শেয়ার করতাম। তাদের সঙ্গে শুটিংয়েও যেতাম। নামকরা পুরনো তারকাদের অনেকেই আমার বিজ্ঞাপন থেকে যাত্রা শুরু করেছেন। তখন দেখলাম, তাদের মধ্যে পেশাদারিত্ব নেই। আমারই রুমে বসে তারা স্ক্রিপ্ট লিখবে, অর্ধেক লিখে আনবে, বাকিটা আনবে না, সময়মতো স্ক্রিপ্টও জমা দেবে না। অন্যের ওপর আমি নির্ভরশীল থাকব, একটা প্রতিশ্রুতি দিলে পর্যন্ত রাখে না। আবার আমাকেই ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ টাকা অগ্রিম দিতে হয়। কাজ সময়মতো পেলে তো অন্য কথা, সেটাও সেভাবে কেয়ার করে না। তো তাদের পেছনে ঘোরার আমার দরকারটা কী? সেই রাগ থেকে অ্যাডভারটাইজিং ফার্ম করলাম ‘মিডিয়াকম’। মিডিয়াকমের কাজ হবে বিজ্ঞাপন তৈরি করা। এখন আর মনে নেই, খুব অল্প টাকায় দুজন মানুষ নিয়ে শুরু করে এখন বোধ হয় এটি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একমাত্র কম্পানি, যেখানে কোনো বিদেশি নেই। বিদেশি নিয়ে আসিনি, তার কারণ এখানে আমার দেশের ছেলেমেয়েরা কাজ করবে, তাদের নিয়ে আমি গর্ব করতে পারব; কিন্তু বিদেশি নিয়ে এলে টাকা আমি পেতে পারি, কিন্তু গর্ব থাকবে না। আমার মিডিয়াকম এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ বিজ্ঞাপন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। আমরা বিদেশে ব্যবসা করি না, কিন্তু আমাদের কোনো বিদেশিও নেই। আমি প্রত্যাখ্যান করেছি—না, তোমরা যাও, ফেল করো। আবার উঠে দাঁড়াও, কিন্তু ভাড়া করা লোক নিয়ে এসে টাকা বানাব, এতে আমার যেমন কোনো গর্ব থাকবে না, তোমাদেরও থাকবে না। আমিই প্রথম মানুষ, যে বিদেশি ক্যামেরাম্যান প্রত্যাখ্যান করেছি। অমিতাভকে  [অমিতাভ রেজা] কী কম গালাগালি করেছি নাকি? আমাদের মাছরাঙা প্রোডাকশন থেকেই তো ওর শুরু। তখন আমি দেখলাম, এখানে তো আরো অনেক কাজ করতে পারি, নাটক তৈরি করতে পারি, সিনেমায় যেতে পারি। সেই চিন্তা থেকে মাছরাঙা প্রোডাকশন শুরু করি। মিডিয়াকমের সম্প্রসারিত রূপ হলো মাছরাঙা প্রোডাকশন। এটি মিডিয়াকম হওয়ার বোধ হয় তিন-চার বছর পর শুরু করেছিলাম।

 

কেন এগুলো করলেন?

আমার ভাবনা ছিল যে আমার অবস্থান থেকে আমার দেশের ছেলেমেয়েদের যদি না তুলি, তাহলে দায়িত্ব কাদের? এটি আমার চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন বাংলাদেশে কিন্তু বাইরের বিজ্ঞাপন নির্মাতাও আসে না, ক্যামেরা ভাড়া করতে হয় না। পুরনো দিনের যারা ক্যামেরাম্যান [আনোয়ার হোসেন]—বুলু আছে, ওদের জিজ্ঞেস করলে জানতে পারবেন। অমিতাভকে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারবেন যে বাইরে থেকে পরিচালক বা ক্যামেরাম্যান আনলে তিনি কি আপনাদের বকাঝকা করতেন? [হাসি]

 

মাছরাঙা প্রোডাকশনের কথা বলছিলেন।

মাছরাঙা শুরুতে নাটক বানাত। সেটি বন্ধ করে একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজগুলো নিয়ে এসেছি। মাছরাঙা প্রোডাকশনকে মার্চ করে ‘সান কমিউনিকেশন’ করলাম, এটি মিডিয়ার কাজ করে। মিউজিক অ্যান্ড ইভেন্টের কাজ করার জন্য করলাম ‘সান মিউজিক অ্যান্ড ইভেন্টস’। সেটির অধীনে আমাদের নিজস্ব ও বাইরের কাজ হয়। গেল বছর এর অধীনে আমরা ফোক ফেস্ট করেছি।

 

সিনেমা ব্যবসায় কিভাবে যুক্ত হলেন?

ওটা তো শখে। যখন মাছরাঙা প্রোডাকশন করলাম, তখন থেকে যারা নাটক লেখে, পরিচালক-প্রযোজক, [নুরুল আলম] আতিক, [গিয়াসউদ্দিন] সেলিম, তানভীর মোকাম্মেল—তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। ওদের অনুরোধ আর শখ থেকে এসেছি। এটা তো ব্যবসা নয়, লস। এটি তো লাভের জন্য নয়, এটি আমার শখ। আমি দেখেছি, প্রোডাকশন কোনটি ভালো? শঙ্খনাদের মতো ভালো ছবি প্রযোজনা করেছি। জয়যাত্রার সময় [ফরিদুর রেজা] সাগরকে বলেছিলাম—সাগর, আমি তো এসব পারি না, তুমি নিয়ে নাও। ‘আয়না’—কবরীর প্রথম ডিরেকশনের ছবি, আমিই তাঁকে অনুপ্রাণিত করে সুভাষ দত্তকে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি যে যিনি আপনাকে সিনেমায় ইনট্রুডিউস করেছেন, তাঁকে রাখেন। আয়নায়ও প্রথমে আমি ছিলাম, পরে সাগরকে দিয়ে দিলাম। সেলিম এসে বলল, আটকে গেছে। দেখলাম, সুন্দর ছবি করবে। সেলিমের কাজ ভালো। ফলে ‘মনপুরা’র প্রযোজক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছি। বাট অল ক্রেডিট গোজ টু সেলিম অ্যাকচুয়ালি।

 

শিল্প-সাহিত্যের দিকেও আপনার ঝোঁক আছে।

‘শিল্পপ্রভা’ ম্যাগাজিনটি আসলে আমার নয়। বন্ধু এলথাম কবিরের অনুরোধে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। তিনি আহমেদুল কবিরের বড় ভাই খায়রুল কবিরের ছেলে। এই ম্যাগাজিনে স্থানীয় শিল্পীদের তুলে ধরা হয়, তাদের সম্পর্কে লেখা হয়। আমাদের লক্ষ্য হলো, শিল্পীদের আঁকা ছবি বিক্রি করে নয়, আমাদের নিজেদের পকেটের পয়সা খরচ করে বাংলাদেশের আর্ট, তরুণ শিল্পীদের প্রোমোট করব। আমরা তাদের কাছ থেকে কিচ্ছু নেই না। আমরা অনেক আর্ট ক্যাম্প করি, দেশে-বিদেশে চিত্রপ্রদর্শনী করি। দিল্লি, কলকাতা, পাকিস্তানে আমাদের প্রদর্শনী হয়েছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জায়গা, পাবনায় আমাদের প্রদর্শনী হয়েছে। আমরা এই সংগঠনের নাম দিয়েছি ‘সোসাইটি ফর প্রমোশন অব বাংলাদেশ আর্ট’।

 

মিডিয়া ব্যবসায় তো লস হয়।

এখনো লসে আছি। বাংলাদেশে খুব কম টিভিই লাভে আছে। এখনো বলি, প্রথম থেকেই আমি মাছরাঙাকে একটি সুস্থ চ্যানেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছি, যেখানে বাড়ির সবাই বিনোদন পাবেন। তবে সব সময় যে আমি ঠিক থাকব, তা নয়। কারণ আমাদের তো পুরনো অনেক বাংলা ছবি দেখাতে হয়। সব চ্যানেলের মতো আমিও দেখাই। এমনও হয় যে সেন্সর করতে করতে ছবিতে আর কিছুই থাকে না। সেসব জায়গায় অনেক সময় আমাকে কমপ্রোমাইজ করতে হয়। যারা প্রোগ্রামে আছে, কখনো কখনো তারা হয়তো সামনে থেকে একটু দেখল, মাঝে একটু দেখল আর শেষ থেকে একটু দেখে ছবিটি ছেড়ে দিল। আমার তখন মাথা খারাপ হয়ে যায়। লোকে ফোন করে বলে, ভাই আপনি এই ছবিটি দেখেছেন? তখন বাধ্য হয়ে বলতে হয় যে আমি তো দেখিনি। তখন বলে, ছবিটি আপনি দেখলে তো নিশ্চয়ই দিতেন না। তখন ওদের বলি। ওরা বলে, স্যার এটি আমরা মিস করেছি। তখন বলি—দেখো, তোমরা এমন সিনেমা নির্বাচন করো, যেটি পরিবারের সবাই বসে দেখতে পারে। অনেক সময়ই এমন পরিস্থিতি হয়ে যায়। আমি চাই, প্রোগ্রামগুলো যেন সুস্থ পরিবেশে দেখার মতো হয়। আমার একটি রেডিও আছে—‘দিনরাত’ নামে।

 

খেলাধুলার অঙ্গনে কিভাবে যুক্ত হলেন?

১৯৯১ সালে যখন ফিরে এলাম, তখন পাবনার যিনি জেলা প্রশাসক ছিলেন, তিনি আমাকে জোর করে পাবনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে জড়িত করলেন। তখন এটি স্তিমিতপ্রায় একটি সংগঠন ছিল। তিনি বললেন, আপনি এটির হাল ধরেন। নির্বাচনের মাধ্যমে আমি পাবনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার জেনারেল সেক্রেটারি হয়েছি। সেখান থেকে এই অঙ্গনে আমার যাত্রা। পরে আবাহনী ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলাম। এখনো সেখানে পরিচালক হিসেবে আছি। আবাহনী ক্লাবের আমি ফুটবলের চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি ছিলাম। তখন থেকে বাংলাদেশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে জড়িয়ে গেলাম। অনেক দিন অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম। আমার কাছে এই ক্ষেত্রটি অনেক বেশি রাজনৈতিক মনে হয়েছে। আমি যখন ঢুকেছিলাম, তখন এই জায়গাটি অত বেশি রাজনৈতিক ছিল না। তবে শেষের দিকে এখানে এত বেশি রাজনীতি ঢুকে গেল যে আমি আর থাকতে চাইনি। সেখানে চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু কাজ করা খুব কঠিন। যখন রাজনীতি প্রাধান্য পায়, তখন কোনো প্রস্তাব কিভাবে কার্যকর হবে? হয় না। ফুটবল ফেডারেশন থেকে যখন বেরিয়ে আসি, অনেকটা জোর করেই রাজশাহীর জাফর ইমাম অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আমাকে যুক্ত করলেন। আসলে অলিম্পিকে আমি সময় দিতে পারি না। বলতে গেলে আমি থাকতেও চাই না।

 

কেন?

কারণ আমাকে সময় দিতে হবে। যখন ফুটবলে ছিলাম, প্রচুর সময় দিতাম। আবাহনীতে যখন ছিলাম, প্রচুর সময় দিতাম; কিন্তু এখন আর সেই সময়টা দিতে পারি না। আর ফুটবলে ব্যাপকভাবে রাজনীতি ঢুকে যাওয়াটিও অন্যতম কারণ ছিল। যার জন্য থাকতে চাইনি। পাবনা আমার মনের ব্যাপার তো, সরাসরি না হলেও পাবনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে আছি। বলতে গেলে পাবনা ও পাবনা জেলা ক্রীড়া সংস্থা আমার মনের সঙ্গে মিশে আছে। আমি বলি—পাবনা আমার ভাবনা।   তবে এখানে এখন আর অফিশিয়ালি পদে নেই। তাদের সদস্য হিসেবে আছি। সেখানে যত ধরনের ভালো কিছু করার চেষ্টা করা যায়, সেগুলো করি। সব ধরনের সহযোগিতা করি। এই তো, কয়েক দিন আগে পাবনা রাইফেল ক্লাবের শুটিং প্রতিযোগিতা হলো, আমি গেছি। সেখানকার সব ধরনের খেলার সঙ্গে থাকার চেষ্টা করি।  

[১ সেপ্টেম্বর ২০১৬, বনানী, ঢাকা]


মন্তব্য