kalerkantho


মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর জনগণের জাদুঘর

১৯৯৬ সালে ছোট্ট পরিসরে যে জাদুঘরের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটি এখন ডালপালা মেলেছে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের এই হয়ে ওঠার ইতিহাসটি বলেছেন অন্যতম ট্রাস্টি মফিদুল হক। শুনেছেন ওমর শাহেদ। ছবি তুলেছেন কাকলী প্রধান

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর জনগণের জাদুঘর

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের শুরু কিভাবে হয়েছিল?

১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ ৫ সেগুনবাগিচার এই পুরনো, সাবেকি ভবনে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের যাত্রা। তার আগেই মুক্তিযুদ্ধ ট্রাস্টের মাধ্যমে বছরখানেক ধরে প্রস্তুতি চলছিল।

এটি ট্রাস্টি আক্কু চৌধুরীর বোনের শ্বশুরবাড়ি। বাড়িটি যে পরিবারের, তাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি খুব সমর্থন ছিল। ফলে প্রথম থেকেই কাজটি করতে অনেক সহায়তা-সমর্থন পাওয়া যাচ্ছিল। বাড়িটি সংস্কার করলে রবিউল ভাই [রবিউল হুসাইন] ডিজাইন করলেন, আক্কু চৌধুরী খুব নিবিড়ভাবে যুক্ত হলেন। ১৯৯৫ সালের শেষাশেষি সাহায্য-সহযোগিতার জন্য প্রকাশ্য আবেদন জানানো হলো।

 

কেমন সাহায্য-সহযোগিতার প্রয়োজন ছিল?

দুই রকম দরকার ছিল—আর্থিক সহায়তা তো নানাভাবে জোগাড় করে ফেলা যাবে; কিন্তু বড় সংশয় ছিল স্মারক বা মুুক্তিযুদ্ধের ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে। এই স্মারক ছাড়া তো জাদুঘর হবে না। যিনি যেটি দেবেন, তিনি তো সেটি ২৪ বছর ধরে আগলে রেখেছেন। তাই এখানে দ্বিধা ছিল।

কেননা ২৪ বছর ধরে যাঁর কাছে যে স্মৃতিচিহ্ন আছে, তাঁর কাছে তো সেটি খুবই মূল্যবান। হয়তো তাঁর পরিবারের কেউ জীবন দিয়েছেন, কোনো বড় ভূমিকা পালন করেছেন। এখন প্রয়াত। সেই স্মৃতিচিহ্ন কি তিনি দিয়ে দেবেন? কিন্তু যেহেতু জাদুঘরের একটি ভবন ছিল। যেভাবেই হোক জাদুঘরের ট্রাস্টিরা [আলী যাকের, সারওয়ার আলী, রবিউল হুসাইন, আসাদুজ্জামান নূর, আমি, জিয়াউদ্দিন তারিক আলী, আক্কু চৌধুরী ও সারা যাকের] আন্তরিকতা প্রমাণ বা প্রকাশ করতে পেরেছিলেন। স্মারক আসা শুরু হলো। স্মারকের জন্য আবেদন নিয়ে বিভাগীয় শহর রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনায়ও যাওয়া হলো।

 

কিভাবে স্মারক সংগ্রহ শুরু হলো?

যাঁরা স্মারক দিলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হলো, যাতে পত্রিকায় প্রচার হয়, সবাই জানতে পারেন যে স্মারক সংগৃহীত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর যেহেতু জনগণের পক্ষ থেকে আমরা তৈরি করছি, সব সময়ই বলেছি যে এটি ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠান নয়, এটি জনগণের প্রতিষ্ঠান এবং তাদের সহায়তায়ই এটি নির্মিত হবে। প্রথম স্মারকটি কয়েকজন মিলে দিয়েছেন। সেটি গ্রহণ করেছেন কবি সুফিয়া কামাল। শহীদ পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। বিশেষ কারো নাম করতে চাচ্ছি না, অনেকেই স্মারক নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। ঢাকার বাইরেও অনেক স্মারক পেলাম এবং স্মারক সংগ্রহ শুরু হলো। পাশাপাশি সেগুলো উপস্থাপনের ডিজাইন করা হলো।

কবে জাদুঘর উন্মুক্ত করা হলো এবং সাড়া কেমন পাওয়া গেল?

১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ যখন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের দ্বার উদ্ঘাটন হলো, তখন কিন্তু গোটা বাঙালির মুক্তির জন্য যে অভিযাত্রা, বাঙালি জাতিসত্তার গড়ে ওঠা, তার ঔপনিবেশিক-পাকিস্তান আমল, মুক্তিযুদ্ধের নানা পর্যায়ের গোটা কাহিনী স্মারক, দলিল, ছবি, ব্যবহূত সামগ্রী—এসবের মধ্য দিয়ে উপস্থাপন করা গেল। ফলে বিশাল প্রতিক্রিয়ার সঞ্চার হলো। বাড়িটি দেখতে সুন্দর, জাদুঘরের উপস্থাপনও খুব শক্তিশালী আবেদন তৈরি করল এবং তার পর থেকে জাদুঘর বিকশিত হতে লাগল। তবে তার পেছনে বহু মানুষের ভূমিকা আছে। নানা রকমের স্মারকের পাশাপাশি বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এই সর্ববৃহৎ ভাণ্ডারে বহু অজানা তথ্য, নানা ছবির রিল, চিঠিপত্র, নিউজপেপার ক্লিপিংস, ভিজ্যুয়াল রেকর্ডস, ফটোগ্রাফস, কেবল দেশ থেকেই নয়, দেশের বাইরে থেকেও আসা শুরু হলো। পাশাপাশি জাদুঘর নানা কর্মসূচির বিকাশ করতে লাগল।

 

এই স্মারকগুলো আমরা দেখি, কিন্তু পেছনের ঘটনাগুলো জানতে পারি না।

প্রতিটি স্মারক অনন্য এবং প্রতিটির পেছনেই অনেক হূদয়স্পর্শী-মর্মস্পর্শী কাহিনী আছে। যেমন—হুমায়ূন আহমেদের বাবা ফজলুর রহমান পিরোজপুরে এসডিপিও ছিলেন। তাঁকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। লাশ ভাসতে ভাসতে এক জায়গায় ঠেকে গেল। পরে তাঁর লাশ তুলে পরিবারের সদস্যরা দাফন করেছিলেন। তাঁর ব্যবহূত ডায়েরি বা তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে যে ছবিটি তুলেছেন, যেটি দেখলে মনে হবে যে বাংলাদেশে এ রকম আরো কত মধ্যবিত্ত পরিবার ছিল, মুক্তিসংগ্রামে তারা ছারখার হয়ে গেছে। শহীদ ফজলুর রহমানের ডায়েরি-ছবি তো সে কথা বলছে। আর রেহানার জামাটিও খুব আবেগপূর্ণ স্মারক। তার বাবা আবদুস সালাম খান খুলনার মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাঁকে বাড়িতে না পেয়ে তাঁর চার মাসের শিশুকন্যাকে হত্যা করে গিয়েছিল ঘাতকরা। মেয়ের গায়ের ফ্রকটি তিনি ঘরে বাঁধিয়ে রেখেছিলেন। এটি ছাড়া মেয়ের আর কোনো স্মৃতিচিহ্ন তাঁর কাছে ছিল না। খুলনায় জাদুঘর হওয়ার আগে যখন কর্মসূচি করা হলো, তিনি সেটি জাদুঘরের হাতে তুলে দিলেন। দর্শনার্থী যখন মুখোমুখি হন, এই স্মারক তো বিশাল আলোড়ন তৈরি করে।

 

জাদুঘরে ঢুকতেই রাব্বি স্যারের গাড়িটি আছে।

ডা. ফজলে রাব্বি এত বড় শল্যচিকিৎসক-হূদরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন, ১৪ ডিসেম্বর তাঁকে তুলে নিয়ে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হলো। তিনি যে মরিস মাইনর গাড়িটি ব্যবহার করতেন, পরিবারের পক্ষ থেকে সেটি জাদুঘরে দেওয়া হয়েছে। এভাবে স্মারকের বিস্তার ঘটেছে। দেশের বাইরে যাঁরা সংহতি আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন, তাঁরাও অনেক স্মারক দিয়েছেন। রিফিউজি ক্যাম্পে যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁরাও দিয়েছেন।

 

কিভাবে স্মারক সংগৃহীত হয়?

যাঁরা জাদুঘর ঘুরেছেন, পরে তাঁরা জানান যে তাঁদের কাছে স্মারক আছে। যোগাযোগ করে সংগ্রহ করা হয়। কোনো ক্ষেত্রে যদি সংশয় জাগে—প্রফেসর আনিসুজ্জামান, প্রফেসর সালাউদ্দিন আহমেদ ছিলেন, প্রফেসর সৈয়দ আনোয়ার হোসেন—তাঁদের পরামর্শ নেওয়া হয়।

 

নতুন প্রজন্মের জন্য তো অনেক কর্মসূচি আছে।

শুরু থেকেই জাদুঘর নানাভাবে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। ঢাকায় স্কুল প্রোগ্রামে যাতায়াতের সুবিধা দেওয়া হয়, ভাড়া বাস আছে। সামর্থ্যবান অনেক স্কুল নিজেরাই আসে। এভাবে বছরে ৮-১০ হাজার ছেলেমেয়ে আসে, দেখে। তাদের টিকিট লাগে না। এমনিতেও টিকিটের দাম কম—পাঁচ টাকা মাত্র।

 

মোবাইল মিউজিয়াম কর্মসূচিটি কী?

বিভিন্ন জেলা শহরে আগে মোবাইল বাস যেত। এখন সেটি স্কুল প্রোগ্রামের মধ্যে যুক্ত হয়ে গেছে। এর ভেতরে একটি খুদে জাদুঘর আছে। এটি এক দিনের কর্মসূচি—ঢাকার বাইরে কোনো এক জেলায় গিয়ে তিন-চার সপ্তাহ থাকে, বিভিন্ন উপজেলায় অনুষ্ঠান করে। সব স্কুলে তো যাওয়া যায় না। জাদুঘর চেষ্টা করে, যেন দূরবর্তী উপজেলায়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে যাওয়া যায় এবং শহর-গ্রাম দুটিতেই যেন মুক্তিযুদ্ধকে উপস্থাপন করা হয়।

 

কিভাবে শিক্ষার্থী কর্মসূচি চালু হলো?

১৯৯৯ সালে এটি শুরু হলো। দেখা গেল, মোবাইল মিউজিয়াম দেখে ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিপুল সাড়া পড়ে। ওরা মন্তব্য খাতায় লেখে, যদি ’৭১ সালে জন্ম নিতাম, আমরাও মুক্তিযুদ্ধ করতাম। মানে তারা কিছু করতে চায়, ভেতরে সেই তাগিদটি আছে। তখন তাদের জন্য একটি প্রোগ্রাম চালু করা হলো, যেটি তারা খুব সহজে করতে পারে; কিন্তু তাতে যেন ইতিহাসের কাজ হয়। বলা হলো, তোমরা প্রোগ্রাম দেখলে, আমরাও ফিরে যাচ্ছি; কিন্তু আমাদের সঙ্গে তোমাদের সম্পর্কের এটি হচ্ছে যাত্রাবিন্দু এবং আমরা যেমন ইতিহাস তোমাদের কাছে নিয়ে গেলাম, তোমরাও আমাদের ইতিহাস ফেরত দেবে। আর সেই কাজটি তোমরাই করবে। তোমাদের পরিবারে যাঁরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেন, দাদি-নানি বা পাড়া-প্রতিবেশী যে কেউ হতে পারেন; তাঁদের কোনো একজনকে বেছে তাঁর কাছে জানতে চাইবে যে একাত্তরের দিনগুলোতে তিনি কী দেখেছেন? তাঁর কী অভিজ্ঞতা? যা শুনবে সেটিই লিখে পাঠিয়ে দেবে। সঙ্গে তোমার নাম, শ্রেণি, স্কুল এবং যাঁর সাক্ষাত্কার নিয়েছ তাঁর নাম, বয়স, পেশা ও  সম্পর্ক লিখবে।

 

কেমন সাড়া পাওয়া গেল?

প্রথমে একটু ভাবনা ছিল যে শিক্ষার্থীরা কাজটি করতে পারবে কি? কিন্তু বাস্তব হলো, বিপুলভাবে তারা কাজটি করেছে। শিক্ষার্থী কর্মসূচির প্রথম অনুষ্ঠানটি ১৯৯৬ সালে পঞ্চগড়ের সিপাহীবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ে হয়েছিল। এখন ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর যেখানেই যায়, আবেদনটি করে, শিক্ষকদেরও সম্পৃক্ত করে। তাঁরা ‘নেটওয়ার্ক শিক্ষক’ হন। এই কর্মসূচি একটি বিশাল সম্পদ তৈরি করেছে। এ পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি ওরাল হিস্ট্রি [মৌখিক ইতিহাস] পাওয়া গেছে এবং এটি বিশাল আকারের ‘ওরাল হিস্ট্রি প্রজেক্ট’ হিসেবে দেশে ও বিদেশে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। মৌখিক ইতিহাসের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত-ভাষ্য সাধারণত বেশি হয় না এবং তাতে প্রশিক্ষিত মৌখিক ইতিহাসবিদরা কাজ করেন। তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে সাক্ষাত্কার রেকর্ড করে পরে শ্রুতলিখন করেন। কোথায় ইতিহাস সংগ্রহের কাজ করা হবে, সেটিও জরিপ দ্বারা স্থির করা হয়। তবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের শিক্ষার্থী কর্মসূচি সবার জন্য উন্মুক্ত। এতে যারা ইতিহাস সংগ্রহ করছে, তারা নতুন প্রজন্ম আর যে বিষয়টি সংগ্রহ করছে, সেটি ইতিহাসের ঘটনা এবং যাঁর কাছ থেকে নিচ্ছে, তিনি প্রত্যক্ষদর্শী। ফলে নতুন প্রজন্ম এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের মধ্যে অসাধারণ সংযোগ ঘটছে এবং ইতিহাসের উপলব্ধিও বেড়ে যাচ্ছে।

 

এই লেখাগুলো দিয়ে কী করা হবে?

প্রতিটি লেখার মধ্যে মানবিক গল্প আছে। এই ব্যক্তি অভিজ্ঞতা জাতীয় অভিজ্ঞতার অংশ। ফলে ওদের বলা হলো, যত লেখা আসবে, সব জাদুঘরের আর্কাইভে সংরক্ষণ করা হবে। কেউ চাইলে ১০ বছর, ১৫ বছর পরে এসেও নিজের লেখাটি দেখতে পারবে। লেখাগুলো কম্পোজ হচ্ছে, কিছু কিছু ছাপাও হয়েছে। ‘ছাত্রছাত্রীদের সংগৃহীত মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য’ নামে চারটি খণ্ড বেরিয়েছে। বাছাইকৃত লেখাগুলো সেরা লেখা নয় বা কোনো শ্রেষ্ঠ রচনার সংকলন নয়। কেননা প্রতিটি লেখাই আলাদা, প্রতিটিতেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আছে। ফলে প্রতিটি লেখাই যেমন অনন্য, তেমনি এগুলোর সর্বজনীন মূল্যও আছে। তাই লেখাগুলো কম্পোজ করে স্পাইরাল বাইন্ডিং করে আবার স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হচ্ছে। কেননা মিলিতভাবে এগুলোর মধ্য দিয়ে তো স্থানীয় ইতিহাস উঠে আসছে।

 

আর কোনো পরিকল্পনা?

লেখাগুলো ওয়েবসাইটে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে, যাতে যে কেউ তাঁর লেখা যেকোনো জায়গায় বসে দেখতে পারেন। শিক্ষার্থী কর্মসূচি গাছের মতো, সেটি ডালপালা মেলছে, আরো নানাভাবে মেলবে। অনেক সময় ছাত্রছাত্রীদেরও জাদুঘরে আমন্ত্রণ জানানো হয় যে তুমি নিজের লেখা পাঠ করো। গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় হলো, লেখাগুলোতে অনেক শহীদের নাম-পরিচয় আসছে, যাঁর আর কোথাও কোনো স্বীকৃতি ছিল না। এই যে হাজার হাজার মানুষ অকাতরে জীবন দিয়েছে, তাদের অনেকের আত্মদানের চিত্র তো এখানে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে লেখাগুলো নিয়ে তো অনেক কিছুই করার আছে। এটি তো বিশাল ভাণ্ডার। কিছু অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রামাণ্যচিত্রও তৈরি হচ্ছে। বাগেরহাটের একটি গ্রামে ৯ স্কুল শিক্ষককে মেরে ফেলেছে। সেই লেখাটি ধরে ফৌজিয়া খান প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছেন ‘রাখব বহমান’। সেই গ্রামে তিনি গেছেন, সবার সঙ্গে কথা বলেছেন।

 

মুক্তির উৎসব কবে শুরু হয়েছে? এখন সেটির কী অবস্থা?

২০০১ সাল থেকে ‘মুক্তির উৎসব’ চলছে। এখন এটি বিশাল বার্ষিক উৎসব, ৮-১০ হাজার ছেলেমেয়ে আসে। তারা ঢাকার স্কুলে পড়ে, জাদুঘর দেখেছে। তারা যখন একত্র হয়, উপলব্ধি করে—আমরা একটি শক্তি। মমতাজ, বাপ্পা মজুমদারের মতো শিল্পীরাও এসে গান করেন। সবাই মিলে স্বেচ্ছামূলকভাবে এই কাজগুলো হয়। এই স্মৃতি নিয়ে যখন কোনো ছাত্র বা ছাত্রী ফিরে গেল, সারা জীবন তো সেটি তার হূদয়ে থাকবে। বন্ধুদের এই উৎসব, এই সম্প্রীতি থেকে অনেক স্বেচ্ছাসেবীও পাওয়া যায়।

 

জাদুঘরের তো অডিও ভিজ্যুয়াল রিসোর্স সেন্টার আছে।

জাদুঘর একটি অডিও ভিজ্যুয়াল রিসোর্স সেন্টার গড়ে তুলছে, যেখানে অডিও ভিজ্যুয়াল সামগ্রী সংগ্রহ করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তো নানা ডকুমেন্টেশন হয়েছে, নানা ধরনের তথ্যচিত্র হয়েছে। ভারত সরকারের অনেক নিউজ রিল আছে, বিদেশি ফটোগ্রাফাররা এসে কাজ করেছেন। তাঁদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে, ফ্রেঞ্চ আর্কাইভ, ইউএস আর্কাইভ থেকেও অনেক কিছু পাওয়া যাচ্ছে। দেশেও অনেক কাজ হয়েছে, যেমন—তানভীর মোকাম্মেল তিন-চার বছর ধরে অনেকের সাক্ষাত্কার নিয়েছেন। সেসব জাদুঘরে জমা হচ্ছে। জাদুঘরের উদ্যোগে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের ওপর দুটি কোর্স করানো হয়েছে, তাতে নতুন চলচ্চিত্র নির্মাতারা উঠে এসেছেন, তাঁরা ছবি তৈরি করছেন। এই অডিও ভিজ্যুয়াল সেন্টারটি নতুন মিউজিয়ামে অনেক ফাংশনাল হবে। এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভাল অব ডকুফিল্মস অন লিবারেশন অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস নামের চলচ্চিত্র উৎসবটি আবার শুরু হবে। সারা পৃথিবীতে মুক্তির চেতনা নিয়ে, মানবাধিকার নিয়ে যেসব সিনেমা হয়, সেগুলো নিয়ে এই উৎসব।

 

এতে আপনাদের ভূমিকা?

আমাদের তো কিছু করতে হয় না। জাদুঘর একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যেখানে সমমনা, সমদৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন মানুষ, যাঁরা সমাজের সক্রিয় অংশ, তাঁরা নানাভাবে সম্পৃক্ত হন। ফলে নানা কিছু ঘটছে। এই যে সাত দিনের বিজয় উৎসব, স্বাধীনতা উৎসব, তাতে কোন স্কুল অনুষ্ঠান করবে, কোন শিল্পী গান করবেন, তাঁদের সঙ্গে জাদুঘরের হয়ে আমরা কেবল যোগাযোগ করি, নিজ উদ্যোগে তাঁরা এসে প্রোগ্রাম করেন। সম্প্রীতিটিই তো অন্য রকম।

 

মুক্তিযুদ্ধের বই নিয়ে কী হচ্ছে?

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দেশ-বিদেশে যত বই আছে, সব সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের নির্দেশনায় প্রতিবছর ‘মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থপঞ্জি’ প্রকাশিত হয়। এ পর্যন্ত প্রায় চার হাজার বইয়ের তালিকা করা গেছে। সেগুলো জাদুঘরের লাইব্রেরিতে সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। বইগুলো গবেষকদের অনেক কাজেও লাগছে। আবার অনেক বই এখন আর পাওয়া যায় না, সেগুলো ফটোকপি করে সংগ্রহ করা হচ্ছে। তার মানে আরেকটি রিসোর্স সেন্টার তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রচুর নিউজপেপার ক্লিপিংস, বিভিন্ন দেশের সরকারি নথিপত্র যা পাওয়া যাচ্ছে, সব মিলে একটি বড় আর্কাইভ তৈরি হচ্ছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধ গবেষণার জন্য এটি একটি প্রধান কেন্দ্র     হয়ে যাচ্ছে।

 

এসব কাজ কতটা কঠিন ও শ্রমসাধ্য? আপনারাও তো ভিন্ন ভিন্ন পেশায় আছেন।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর জনগণের জাদুঘর। এই কাজ কিন্তু নানাজন মিলে করছেন। বজলুর রহমান স্মৃতি পদকের কথা বলি—প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের রিপোর্টিংয়ের ওপর এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এখন এটি এ বিষয়ে অন্যতম প্রধান পুরস্কারে পরিণত হয়েছে। সাংবাদিক বজলুর রহমানের প্রয়াণের পর তাঁর সহধর্মিণী মতিয়া আপা [মতিয়া চৌধুরী] এ জন্য আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। সেটি থেকে যে টাকা আসে তাতে সব খরচ—পদক প্রদান থেকে শুরু করে দুজনকে দুই লাখ টাকা পুরস্কার, অনুষ্ঠান আয়োজন, রিপোটিংগুলো নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ—সব কিছু হচ্ছে। জাদুঘর কেবল কিছু যোগসূত্র করে দিল।

 

এর বাইরে অন্য কোনো উদ্যোগ?

১৯৯৯ সালে একটি উদ্যোগ নেওয়া হলো, নিউ ইয়র্কের একটি ছোট্ট জাদুঘর, টেনেমেন্ট হাউস মিউজিয়াম আবেদন প্রচার করল—যেসব জাদুঘর ইতিহাস তুলে ধরে তাদের মধ্যে সমঝোতা গড়ে তোলা যায় কি? মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর তার অংশীদার হলো এবং বিশ্বের ৯টি জাদুঘর মিলে একটি সংস্থা গড়ে তুলল। নাম হলো ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিশন অব সাইটস অব কনসান্স [আইসিএসওসি]। এশিয়ায় এই জাদুঘরগুলোর কোয়ালিশন তৈরি হচ্ছে, যাতে ইতিহাসভিত্তিক এই জাদুঘরগুলো বিবেকের স্থান হয় এবং যেন এই শিক্ষা মেলে ধরে যে এখানে ভয়ংকর নৃশংসতা ঘটেছে। এমন নৃশংসতা আর যদি দেখতে না চাই তাহলে তার কারণগুলো খুঁজে দেখতে হবে যে সহিংসতা কোথা থেকে উঠে আসে। জাতিসত্তা, ধর্ম বা বর্ণ, অপরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ—এগুলোর বিরুদ্ধে ইতিহাসের শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য কোয়ালিশন কাজ করে। ফলে গণতন্ত্র, শান্তির শিক্ষা নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়, আদর্শগত ঐক্য গড়ে তোলা হয়।

 

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে কোনো কাজ করছে জাদুঘর?

২০০৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিস নামের প্রথম সম্মেলনটি হয়েছিল, যার মূল বিষয় ছিল, আমাদের দেশে যে গণহত্যা হয়েছে তার তো ন্যায়বিচার হয়নি অথচ যুগোস্লাভিয়া, রুয়ান্ডা, সিয়েরা লিওনসহ বিভিন্ন দেশে এই বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সে অভিজ্ঞতাগুলোর বিনিময় এবং আমাদের গণহত্যাকে বিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরাই ছিল কনফারেন্সের উদ্দেশ্য। এরপর ২০১০, ২০১২ ও ২০১৫ সালে তিনটি কনফারেন্স হয়েছে। সেখানে অনেক দেশের খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞরা এসেছেন। তাঁরা পেপার প্রেজেন্ট করেছেন, সেগুলো প্রকাশ করা হয়েছে, বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের ভিত্তিতে ২০১৩ সালে সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিস নামের একটি কেন্দ্র হয়েছে। বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত হয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। তাঁরা সেন্টারের নীতি, কোর্সগুলোতে পরামর্শ দেন। কোথাও গণহত্যা হলে সেটি তো সেই দেশের অপরাধ থাকে না; গোটা মানবজাতির বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। সে জায়গাটিতে জাদুঘর কাজ করছে। অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং এসব কাজ খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ট্রাইব্যুনাল ঘিরে তো অনেক প্রোপাগান্ডা আছে, সেগুলোর পাশাপাশি এ কাজগুলোও আছে। সেখানে আমরা সেতুবন্ধের কাজ করছি। যাঁরা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাঁরা কিভাবে ট্রাইব্যুনালে এসে বিচার চাইবেন, সেটি তো খুব জটিল বিষয়। তাঁরা তো সব কথা প্রকাশ্যে বলতে পারবেন না। যখন সাক্ষ্য দেন, তখন তাঁর তো বিরাট মানসিক সমস্যা তৈরি হয়। তিনি ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছেন, সেটি কিভাবে পরিহার করা যায়, অন্য আদালতগুলো সেটি কিভাবে করেছেন, তাঁকে কিভাবে সাহায্য করা যায়—এগুলো নিয়ে যখন কথা হয়, আলোচনা হয়—সেগুলো যখন প্রকাশিত হয়, তা থেকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর, ইনভেস্টিগেটর, বিচারকরা অনেক উপাদান পেতে পারেন। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে এই আদালত নিয়ে আগ্রহ তৈরি এবং বিষয়টি তাদের নজরে আনার কাজটিও আমরা করছি।

 

কেন নতুন ভবনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল?

যখন জাদুঘর বিকশিত হতে লাগল, সংগ্রহ ক্রমাগত বাড়তে লাগল, তখন স্থায়ী জাদুঘরের প্রয়োজন বড় হয়ে উঠল। জাদুঘরে ১৯ হাজারের ওপর স্মারক আছে। কিন্তু সংখ্যা দিয়ে সেটি বোঝা যাবে না। কেউ একাই হয়তো অনেক স্মারক দিয়েছেন, তবে সেটি একটি এন্ট্রি হিসেবে আছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের এই স্মৃতিচিহ্নের সংখ্যা হবে লক্ষাধিক। প্রায় ২০ বছরে স্মারকের এই বিশাল ভাণ্ডারটি গড়ে উঠেছে, এখনো সেটি চলমান। সেগুলো এখানে প্রদর্শন করা যাচ্ছে না। এই ভবনটিও তো জাদুঘরের জন্য উপযুক্ত নয়। এটি একটি পুরনো বাড়ি, নানা রকম সমস্যা আছে—আর্দ্রতা, আলো-বাতাসের সমস্যা ইত্যাদি আছে। ফলে একটি নতুন জাদুঘর খুব প্রয়োজন হয়ে পড়ল। সেখানেও মানুষের, সমাজের সম্পৃক্তির সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্তি যুক্ত হয়ে গেল। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সহায়ক হয়েছিল এবং আমরাও যোগাযোগ করেছিলাম যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের জন্য জায়গা দেওয়া যায় কি না। তখন আগারগাঁওয়ে সরকারি অনেক প্রশাসনিক প্লট ছিল। সেখানে স্থপতিরা খুব সাহায্য করলেন। তাঁদের সাহায্য নিয়ে একটি প্লটের জন্য আবেদন করা হলো এবং ২০০৮ সালের নভেম্বরে এটির অ্যালটমেন্টের কাগজ পেলাম। নির্বাচিত সরকার এসে সেটি দ্রুত হস্তান্তরের ব্যবস্থা করে দিল। আড়াই বিঘার কিছু বেশি জমিটির সরকার নির্ধারিত মূল্য এক কোটি ৬০ লাখ টাকা। আমরা সেই টাকা দিয়ে দলিল করে জমিটি কিনে নিয়েছি। এই টাকা আমাদের আগের কার্যক্রমগুলোর মধ্য  দিয়ে সঞ্চয় হয়েছিল।

 

কিভাবে ভবনের কাজ শুরু হলো এবং টাকা কিভাবে জোগাড় হলো?

কিনে নেওয়ার পর একটি ডিজাইন প্রতিযোগিতা করা হলো। বিচারকদের নির্বাচনের পর প্রায় ১০০ কোটি টাকার প্রজেক্ট শুরু হলো। তখন জাদুঘরের পক্ষ থেকে আমরা সহায়তার আবেদন নিয়ে জনগণের কাছে গেলাম। তাতে অনেক আর্থিক সহায়তা এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানের [এখন সাবেক] উদ্যোগে কালেক্টিভ সিএসআর করে ২৪ কোটি বা তার চেয়ে বেশি অর্থ পাওয়া গেল। এখন নানাভাবে টাকা উঠছে। আমরা অবেদন করেছি—১০ হাজার টাকা দিয়ে আপনি একটি ইট কিনুন। ইটটি আপনার নামে, পরিবারের কারো নামে বা কোনো শহীদের নামেও ক্রয় করতে পারেন। কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগেও ক্রয় করা যেতে পারে। সেভাবে সরকারও সহায়তা করছে। এখন জাদুঘর নির্মাণ সমাপ্তির পথে, তবে ২৫ কোটি টাকার মতো ঘাটতি আছে। এটির অবস্থান আগারগাঁও চক্ষু হাসপাতালের পেছনে, সমবায় ভবনের সামনে। এখন এর ইন্টেরিয়র, ডিসপ্লে, ডিজাইনের কাজ চলছে।

 

এই নতুন ভবনের কোথায় কী থাকবে?

এই ৯ তলা ভবনের চার তলা হবে মাটির নিচে আর পাঁচ তলা মাটির ওপরে। বেজমেন্টেও অনেক সার্ভিস থাকছে, যেমন— স্টোর, ওয়ার্কশপ, গাড়ি পার্কিং, মিলনায়তন ইত্যাদি। ওপরের ফ্লোরে দুটি গ্যালারিতে ভ্রাম্যমাণ বা বিশেষ প্রদর্শনী হবে। একটি ফ্লোরে ইন্টার্যাকটিভ একজিবিশন হবে। সেখানে নতুন প্রজন্মের জন্য অডিও ভিজ্যুয়াল অ্যাপস, নানা ধরনের প্রোগ্রাম হবে। আর মূল গ্যালারি হবে চারটি, প্রতিটি দুই হাজার বর্গফুটের। গ্যালারি সজ্জার কাজ এখন চলছে। এটি একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। এ বছরের জুলাইয়ে হয়তো জাদুঘরটি চালু হবে। ফলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর স্থায়ী রূপ পাবে। সমাজের সম্পৃক্ততা আরো প্রসারিত করা যাবে।

 

সরকারের কাছ থেকে কেমন সহায়তা পেয়েছেন?

আমরা যখন শুরু করলাম, তখন থেকে জাদুঘরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামাজিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তার ফলে যে সরকারই এসেছে, কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। কর্মসূচির জন্য আওয়ামী লীগ সরকার যে সহায়তা করত, বিএনপি সরকারও সেটি অনুসরণ করেছে। জাদুঘরের ব্যয়, মোবাইল জাদুঘরসহ অন্যান্য কর্মসূচির জন্য আর্থিক সহায়তা আসছে। মানুষের কাছ থেকেও টাকা    তোলা হয়।

 

জাদুঘরের ভবিষ্যৎ?

যেহেতু একটি স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি হবে, এখন দরকার স্থায়ী আমানতের। সেটা তৈরির জন্য আমরা কাজ করব। আমানত থেকে যে লভ্যাংশ পাওয়া যাবে, তা দিয়ে জাদুঘর পরিচালিত হবে। নতুন প্রজন্ম জাদুঘর পরিচালনার ভার নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

[১২ মার্চ ২০১৬, হাতিরপুল, ঢাকা]


মন্তব্য