kalerkantho


স্বরূপকাঠি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

দালালচক্রের কাছে জিম্মি রোগীরা

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



দালালচক্রের কাছে জিম্মি রোগীরা

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধি, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের দৌরাত্ম্যে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে বহাল তবিয়তে থেকে নিজেদের কার্যসিদ্ধি করছে চক্রটি।

সরেজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, ডাক্তারদের চেম্বারে ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধিদের সরব উপস্থিতি। তাঁরা রোগীদের হাত থেকে ব্যবস্থাপত্রটি ছিনিয়ে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলে ছবি তুলছেন। ডাক্তারদের চেম্বারের দরজা বা তার আশপাশে দাঁড়িয়ে আছেন স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ২৫-৩০ জন দালাল। চেম্বার থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীদের হাত থেকে পরীক্ষাপত্রটি ছিনিয়ে নিচ্ছেন। শুধুু পরীক্ষাপত্রই নয়; রোগীদের নিয়েও টানাহেঁচড়া করছেন তাঁরা। প্রতিবাদ করলেই রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের পাশাপাশি তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করছেন।

জানা গেছে, লিয়া নামের এক দালাল কিছুদিন আগে সোহাগদল এলাকার এক মহিলা রোগীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এর আগে তিনি একজন ডাক্তারকেও লাঞ্ছিত করেছিলেন। রোগী টানাহেঁচড়া নিয়ে লিয়ার হাতে দালাল পারভীন, আসমা, পেয়ারাসহ সর্বশেষ নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী নাসিমা মার খেয়ে দুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। লিয়ার দুর্ব্যবহারের কারণে কেউ তাঁর কাজের প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বকশিশ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা ডা. তানভীর আহম্মেদ সিকদার বলেন, ‘ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধি ও দালালদের নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ জন ডাক্তারের স্থলে মাত্র আটজন দায়িত্ব পালন করছেন। মেডিসিন, গাইনি, জেনারেল সার্জন, শিশু কনসালট্যান্ট, এক্স-রে টেকনিশিয়ান ও ডেন্টাল সার্জনের পদ খালি পড়ে আছে। ফলে রোগীদের শতভাগ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে দিন দিন অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।’

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের দেওয়া খাবারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সকালের খাবারে দেওয়া হচ্ছে আংশিক পচা কাঠালী কলা ও বনরুটি। দুপুরে খাবারের তালিকায় রুই, কাতলা, তেলাপিয়া থাকলেও দেওয়া হচ্ছে কম দামের পাঙ্গাশ। এ ছাড়া অন্য যে খাবার দেওয়া হচ্ছে তাও মানহীন। এ বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ফারুক আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে পরে কথা বলবেন বলে কল কেটে দিচ্ছেন।



মন্তব্য