kalerkantho


কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদন

সেই সুলতান-সুখন আবার বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল   

১২ জুন, ২০১৮ ০০:০০



পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. সুলতান মাহমুদ আবারও চাকরিচ্যুত (বরখাস্ত) হয়েছেন। সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়ে সেই তথ্য গোপন করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি নিয়েছিলেন। একইভাবে তথ্য গোপন করে ড. জাহিদ পারভেজ সুখন মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ওসানোগ্রাফি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে চাকরি নিয়েছিলেন। তাঁকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে কালের কণ্ঠে ‘চাকরিচ্যুতির পর আবারও সরকারি কর্মকর্তা তিনি’ এবং ‘সুলতান ছুটিতে, জাহিদ আছেন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সংবাদের সূত্র ধরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর গতকাল সোমবার তাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

জানা গেছে, ড. সুলতান মাহমুদ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পদ থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন। এই তথ্য গোপন করে তিনি পবিপ্রবিতে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে সহযোগী অধ্যাপক পদে চাকরি নেন। বিধিবহির্ভূতভাবে তিনি পদোন্নতি পেয়ে অধ্যাপকও হন। পরে ওই অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পান। তাঁকে রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট কালের কণ্ঠে ‘চাকরিচ্যুতির পর আবারও সরকারি কর্মকর্তা তিনি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন তদন্ত কমিটি করে। এ ছাড়া তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সামসুদ্দিন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি কালের কণ্ঠে ‘সুলতান ছুটিতে, জাহিদ আছেন’ শিরোনামে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনে সুলতান মাহমুদের মতো তথ্য গোপন করে সহকারী অধ্যাপক ড. জাহিদ পারভেজ সুখনেরও বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। জাহিদও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পদ থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন। কমিটির সদস্যরা এ দুজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শুরু করেন।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং আইন উপদেষ্টার মতামতের বিষয়টি গত বছরের ১৩ মে রিজেন্ট বোর্ডের ৪০তম সভায় উপস্থাপন করা হয়। রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়। অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে পবিপ্রবি সাধারণ কর্মচারী ও শৃঙ্খলা বিধানে নৈতিক স্খলন, দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ বলেন, রিজেন্ট বোর্ডের ৪১তম সভায় ওই দুই শিক্ষককে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি তাঁদের চিঠিতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

 



মন্তব্য