kalerkantho


ভোলায় আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার

শুরুতেই মেয়াদ শেষ

ভোলা প্রতিনিধি   

১২ জুন, ২০১৮ ০০:০০



দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে প্রথম ভোলায় আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারে হাঁসের বাচ্চা ও ডিম উত্পাদন করে বিক্রি শুরু হয়েছে। এতে খামারিরা জেলার বাইরে না গিয়ে সরকারি খামার থেকে কম মূল্যে হাঁসের বাচ্চা ও ডিম কিনতে পারছে। কিন্তু প্রকল্পের দ্বিতীয় মেয়াদ আগামী ২৮ জুন শেষ হয়ে যাবে। ফলে হাঁস প্রজনন খামারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ভোলা সদর উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ডের কাছে প্রায় দুই একর জমির ওপর ২০১৭ সালের শুরুর দিকে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারটি স্থাপন করা হয়। হ্যাচারি, লেয়ার শেড, ডরমেটরি, অফিস ভবন, গুদামঘর, পাম্প হাউসসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এ খামারে। ১০ হাজার হাঁস পালনের ধারণক্ষমতা থাকলেও মাত্র এক হাজার জিমডিং জাতের হাঁসের বাচ্চা দিয়ে গত বছরের ২৯ এপ্রিল খামারটির কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু সরকারিভাবে বাচ্চা সরবরাহ কম থাকায় এখনো অনেক হাঁসের শেড খালি পড়ে রয়েছে।

এক হাজার হাঁস থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে বর্তমানে এ খামারে দুই হাজারের বেশি হাঁস লালন-পালন করা হচ্ছে। ডিম বিক্রির পাশাপাশি গত ২০ এপ্রিল থেকে কম মূল্যে হাঁসের বাচ্চা বিক্রি শুরু হয়। এতে ভোলার খামারিরা জেলার বাইরে না গিয়ে এখান থেকেই ডিম ও হাঁস কিনতে পারছে। আগে জেলার বাইরে খুলনা থেকে হাঁসের একটি বাচ্চা কিনতে ৩০-৪০ টাকা লাগত। কিন্তু এখন অতিরিক্ত যাতায়াত খরচ ছাড়াই মাত্র ২০ টাকায় হাঁসের বাচ্চা কেনা সম্ভব হচ্ছে।

এদিকে খামারে ড্রেনেজ সমস্যাসহ জনবল সংকটও রয়েছে। ড্রেনের সঙ্গে আউটলাইন না থাকায় পানি নিষ্কাশন ঠিকমতো হচ্ছে না। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে হ্যাচারির কর্মীদের।

তা ছাড়া হ্যাচারির ১০টি পদের মধ্যে দুজন ডার্ট অ্যাটেনডেন্স, একজন হ্যাচারি অ্যাটেনডেন্স, একজন অফিস সহকারীসহ চারটি পদ শূন্য রয়েছে। এতে খামারটি পরিচালনা করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। অন্য দিকে হ্যাচারিসহ আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের আওতায় প্রতিষ্ঠিত এই খামারটির মেয়াদ চলতি জুন মাসেই শেষ হবে।

ভোলা আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের পোল্ট্রি ডেভেলপমেন্ট অফিসার ডা. মৌসুমী খাতুন বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলের খামারিদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে সরকার ভোলায় আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার স্থাপন করে। এ বছরের ১৭ এপ্রিল থেকে ভোলার খামারিদের চাহিদা মিটিয়ে আশপাশের জেলাতেও হাঁসের বাচ্চা বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমরা সংশয়ে আছি। জানি না সরকার তৃতীয় মেয়াদের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করবে কি না।’

ভোলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও যাতে খামারটি নির্বিঘ্নে চলতে পারে সে জন্য সরকারের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ স্থানীয় খামার মালিকদের দাবি, ভোলার আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার থেকে যেন নিয়মিত ডিম ও হাঁস বিক্রি করা হয়। এতে অনেক মানুষের বেকার কর্মসংস্থানে সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি খামারিদের লাভ হবে।

 



মন্তব্য