kalerkantho


ঢাকা-বরিশাল নৌপথ

লঞ্চে পোশাকি নিরাপত্তা

মঈনুল ইসলাম সবুজ, বরিশাল   

১২ জুন, ২০১৮ ০০:০০



লঞ্চে পোশাকি নিরাপত্তা

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে সর্বাধুনিক, বিলাসবহুল ও বৃহত্তর লঞ্চগুলোর একটি এমভি সুরভি-৯। ‘নদীপথে নিরাপদ যাত্রীসেবা’ তাদের মূল প্রতিপাদ্য। অথচ লঞ্চটিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য নেই আনসার সদস্য।

তবে নিজস্ব উদ্যোগে লঞ্চকর্মী থেকে নিরাপত্তাকর্মী বানানো হয়েছে। কিন্তু তাদের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেই। পথে লঞ্চে ঝামেলা বাধলে তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতাও নেই। তাদের হাতে অস্ত্রের পরিবর্তে থাকে লাঠি।

এ পথে চালাচলকারী ২৮টি বেসরকারি যাত্রীবাহী লঞ্চের মধ্যে ২৭টিরই একই অবস্থা। ফলে নিরাপত্তাহীনভাবেই প্রতিদিন রাতে ১৫০ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিচ্ছে কয়েক হাজার যাত্রী।

আনসার সদস্য না থাকায় গত দুই বছরে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে শতাধিক যাত্রী সব মালপত্র খুইয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল নৌপথের লঞ্চগুলোর মধ্যে বিলাসবহুল সুরভি-৯, সুরভি-৭, পারাবত-১১, পারাবত-৯, কালাম খান, টিপু-৭, সুন্দরবন-১০, সুন্দরবন-৭; এই আটটি লঞ্চে আনসার সদস্য ছিলেন। বর্তমানে শুধু সুন্দরবন-১০ লঞ্চে ছয়জন আনসার সদস্য রয়েছেন। বাকি লঞ্চগুলো ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে আনসারশূন্য। এ ছাড়া অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চে আনসার সদস্য নেই।

বরিশাল জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা কার্যালয়ের জেলা কমান্ড্যান্ট মো. কামাল হোসেন জানান, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের। পরিপত্র অনুযায়ী বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে বর্ধিত বেতন-ভাতা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারি সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা কার্যালয় থেকে লঞ্চ মালিকদের চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু ঢাকা-বরিশাল নৌপথের লঞ্চ মালিকরা বর্ধিত বেতন-ভাতা না দিয়ে ফেব্রুয়ারি থেকে বেতন বন্ধ করে দেন। তখন বরিশাল জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন বকেয়া বেতন ও বর্ধিত মহার্ঘ ভাতা দিতে সব লঞ্চ কম্পানিকে চিঠি দেন। বকেয়া বেতন পরিশোধ করলে ২০১৪ সালে পর্যায়ক্রমে সব লঞ্চ থেকে আনসার সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ওই বছর সুন্দরবন-১০ লঞ্চটি নতুন যুক্ত হলে মালিকপক্ষ ছয়জন আনসার সদস্য চেয়ে চিঠি দেয়।

সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে বেতন-ভাতা ছিল আনসার সদস্যদের আট হাজার ও কম্পানি কমান্ডারের আট হাজার ৫০০ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে বেতন বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ১৫ হাজার ও ১৬ হাজার ৫০০ টাকা।

বাংলাদেশ যাত্রীবাহী নৌযান মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুরভি লঞ্চ কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লঞ্চে আনসার সদস্য নিয়োগ দিলে বেতন-ভাতা সব কিছুই পরিশোধ করে মালিকপক্ষ। অথচ আমাদের সঙ্গে আলাপ না করেই বেতন বৃদ্ধি করেছে, যা আমাদের পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তাই সব লঞ্চ মালিক সভা করে আনসার না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তায় প্রতিটি লঞ্চে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী রয়েছে।’ 

বরিশাল নৌ পুলিশের ওসি মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, ঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার পর মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি, ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। লঞ্চগুলো হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে দীর্ঘ ১৫০ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দেয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়াই। তাই যাত্রাপথে লঞ্চযাত্রীদের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

বিআইডাব্লিউটিএ নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক আজমল হুদা মিঠু বলেন, প্রতিটি সভায় লঞ্চযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্য নিয়োগ দিতে বলা হচ্ছে। কিন্তু মালিকপক্ষ অতিরিক্ত ব্যয়ের অজুহাতে আনসার নিয়োগ দিচ্ছে না। অথচ লঞ্চে আনসারদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কক্ষ ও অস্ত্রাগার রয়েছে।

 



মন্তব্য