kalerkantho


দুই যুগ পেরোলেও হয়নি কমিটি

বরিশালে যুবলীগ নেতারা আ. লীগের নেতৃত্বে

আজিম হোসেন, বরিশাল   

৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



বরিশালে যুবলীগ নেতারা আ. লীগের নেতৃত্বে

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয় গত বছর। তখন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হন মো. জাকির হোসেন। তবে তিনি জেলা যুবলীগের সভাপতিও। এই পদে আছেন দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে। একইভাবে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম শাহিন জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকও। আর নিজামুল ইসলাম নিজাম একই সঙ্গে মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।

মহানগর যুবলীগের তিন যুগ্ম আহ্বায়কও আছেন নগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে। ১৫ বছর ধরে তাঁরা নগর যুবলীগের নেতৃত্বে আছেন।

তবে ওই নেতারা জোর বা ইচ্ছা করে যুবলীগের নেতৃত্ব ধরে রাখেননি। কেন্দ্র কাউন্সিল করে নতুন কমিটি না দেওয়ায় জেলা-মহানগর যুবলীগ নেতারা বয়স পেরিয়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন। তাই যুবলীগের মতো একটি বড় সংগঠন এখন প্রায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। কারণ জেলা ও মহানগর যুবলীগের সভাপতি-সম্পাদক বাদে অনেক নেতা রাজনীতি ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তিন-চারজনের মৃত্যু হয়েছে। কেউ কেউ সংগঠনে নিষ্ক্রিয়। তবু হচ্ছে না নতুন কমিটি। ২০০৪ সালে গঠিত মহানগর যুবলীগ কমিটির হাতে গোনা চার-পাঁচজন নেতা টিকিয়ে রেখেছেন মহানগর যুবলীগের কার্যক্রম।

যুবলীগ সূত্র জানায়, সর্বশেষ ১৯৯৩ সালের ১৯ নভেম্বর গঠিত হয় জেলা যুবলীগের কমিটি। কমিটির মেয়াদ ১৯৯৬ সালে শেষ হলেও ২১ বছরেও সম্মেলন হয়নি। এ অবস্থায় বছরের পর বছর ধরে নামকাওয়াস্তে চলছে সংগঠনের কার্যক্রম। জেলা যুবলীগের আওতাধীন ১০ উপজেলা ও ছয় পৌর এবং মহানগরের আওতাধীন ৩০ ওয়ার্ড কমিটির (যুবলীগ) অবস্থাও জেলা ও মহানগর যুবলীগের মতোই বেহাল।

তবে জেলা যুবলীগের সভাপতি মো. জাকির হোসেন দাবি করেন, তাঁরা সাংগঠনিক কার্যক্রমে মোটেই পিছিয়ে নেই। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের। জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে তিনটিতে আহ্বায়ক কমিটি এবং সাতটিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে যুবলীগের। কমিটি দুই যুগের পুরনো হলেও সাংগঠনিক কার্যক্রমে ভাটা পড়েনি। তাদের আছে বিশাল কর্মিবাহিনী। তবে তিনি বলেন, জেলা যুবলীগে নতুন নেতৃত্ব আসা প্রয়োজন।

২০০৪ সালে গঠিত হয় মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি। এই কমিটির ওপর দায়িত্ব ছিল তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের। কিন্তু আজও তা হয়নি। কমিটিজটে পড়েছে ৩০ ওয়ার্ড যুবলীগ শাখাও।

১৫ বছরের বেশি সময় ধরে মহানগর যুবলীগের আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকা নিজামুল ইসলাম নিজাম বলেন, কেন্দ্র থেকে তাঁদের চিঠি দেওয়া হয়েছে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করার। সামনে নির্বাচন, তাই এখন তাঁরা তা করবেন না। তিনিও দাবি করেন, তাঁদের কমিটি এক যুগ আগের হলেও তাঁরা সাংগঠনিক কার্যক্রমে পিছিয়ে নেই।

যুবলীগের নেতৃত্বের আশায় থাকা স্থানীয় একাধিক নেতা বলেন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উদাসীনতা এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের মধ্যে নীরব দূরত্বের কারণেই যুগ যুগ ধরে বরিশালে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে জেলা ও মহানগর যুবলীগ। অথচ বিভাগীয় সদর বরিশালে মূল দলের পাশাপাশি যুবলীগকেও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও গতিশীল করা প্রয়োজন।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, ‘(যুবলীগের) কাউন্সিল হলে নতুন নেতৃত্ব আসত। তাহলে সংগঠন আরো চাঙ্গা থাকত, আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতো। আমরা কাউন্সিল দেওয়ার জন্য যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বলেছি। তাঁরা যখন সময় দেবেন আমরা তখনই থাকব।’

নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, ‘যুবলীগের কমিটি হলে আওয়ামী লীগ আরো শক্তিশালী হতো। আমরা চাই কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি হোক। নতুন নেতৃত্ব এসে দলকে আরো শক্তিশালী করুক।’

 



মন্তব্য