kalerkantho


বরগুনার সরকারি দপ্তর

ডিজিটাল হাজিরায় অনীহা

বরগুনা প্রতিনিধি   

২৯ মে, ২০১৮ ০০:০০



মাঠপর্যায়ের সরকারি দপ্তরগুলোতে বায়োমেট্রিক (জৈব তথ্যের সাংখ্য বিশ্লেষণ) হাজিরা চালু করার নির্দেশনা থাকলেও বরগুনায় তা মানা হচ্ছে না। ফলে সুযোগ পেলেই অফিস ফাঁকি দিচ্ছেন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সম্প্রতি এক বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে জেলা পর্যায়ের একটি সরকারি দপ্তরে গিয়ে দেখা গেছে, দপ্তরপ্রধানের কক্ষ খালি। তিনি কোথায় জানতে চাইলে উপস্থিত অফিস সহকারী জানান, বরিশালে গেছেন আনুষ্ঠানিক বৈঠকে। কিসের বৈঠক? জানতে চাইলে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি। পরে মুঠোফোনে দপ্তরপ্রধানের কাছে বরিশালে কী বিষয়ে বৈঠক ছিল? জানতে চাইলে বলেন, ‘অফিশিয়াল বিষয় আপনার জানার দারকার কি?’ এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘ওই দিন বেতাগীতে একটা প্রগ্রাম ছিল। তারপর বরিশাল চলে গেছি আমি। তাতে আপনার কি?’

পরবর্তী বৃহস্পতিবার দুপুরে একই সময়ে জেলা পর্যায়ের আরো কয়েকটি অফিস ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। সে সময় অফিসে ডিজিটাল হাজিরা চালুর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আছে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে বরগুনার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী মো. মেহেদি হাসান বলেন, ‘এলজিইডি ঢাকা অফিসে ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি চালু রয়েছে। তবে বরগুনায় এখনো তা চালু করা হয়নি।’

কেন হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে অবশ্যই তা চালু করা হবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সরকারি সেবাগ্রহীতা বলেন, ‘এ নিয়ে মোট তিন দিন এসেছি। অথচ এক দিনও দপ্তরপ্রধানের দেখা পাইনি।’ তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে। সেখান থেকে উপজেলা শহরে আসতে ৭০ টাকার বেশি খরচ হয়ে যায়। তিন দিনে আমার চার শ টাকার ওপরে খরচ হয়েছে। এই তিন দিন বাড়ি থাকলেও কাজ করতে পারতাম।’

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘যথাসময়ে অফিসে আসা এবং যাওয়ার ক্ষেত্রে দপ্তরগুলোতে ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি চালু করার নির্দেশনা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এরই মধ্যে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যথাযথভাবে ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। সরকারের এ মহান প্রচেষ্টাকে সফল করতে জেলা পর্যায়ের সব দপ্তরপ্রধানেরই এগিয়ে আসা উচিত।’



মন্তব্য