kalerkantho


অর্ধশত ব্রিজে কাঠের পাটাতন

এমরান হাসান সোহেল, পটুয়াখালী   

২৯ মে, ২০১৮ ০০:০০



অর্ধশত ব্রিজে কাঠের পাটাতন

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ডাবলুগঞ্জে সেতুর ওপর পাটাতন নেই। ছবি : কালের কণ্ঠ

পটুয়াখালীর বিভিন্ন খালের ওপর নির্মিত রেইনফোর্ডস সিমেন্ট কংক্রিট (আরসিসি) এবং রেইনফোর্ডস সিমেন্ট কংক্রিটের গার্ডার ব্রিজগুলো কয়েক বছরেই ধসে পড়ছে। এর পেছনে কাজের নিম্নমান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তদারকির অভাব, যথাযথ পরিকল্পনার অভাব এবং ঠিকাদারের সঙ্গে বাস্তবায়নকারী দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কমিশন বাণিজ্যকে দায়ী করেছে স্থানীয় লোকজন। এতে একদিকে জনস্বার্থে ব্যবহার করা সরকারি অর্থ যেমন অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে যাতায়াতে আমজনতার দুর্ভোগও চরমে। সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে বেশির ভাগ ব্রিজ।

পটুয়াখালী এলজিইডির একটি সূত্রে জানা গেছে, একটি আরসিসি বা আরসিসি গার্ডার ব্রিজের মেয়াদকাল কমপক্ষে ৫০ বছর হয়ে থাকে। কিন্তু ব্রিজগুলো অনভিজ্ঞ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে নির্মাণ করায় এবং ঠিকাদার ইচ্ছানুযায়ী সেই নির্মাণকাজ শেষ করেন। তা ছাড়া বাস্তবায়ন এলাকায় প্রাক্কলনের কোনো সাইনবোর্ডও রাখা হয় না। ফলে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই ব্রিজগুলো ধসে যায়। পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় এমন ভাঙা ব্রিজের সংখ্যা প্রায় ৫০। এদিকে মেয়াদের আগে ধসে যাওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষ নতুন ব্রিজ নির্মাণেও কোনো অর্থ বরাদ্দ দেয় না। তাই বাধ্য হয়ে ভাঙা ব্রিজ দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষকে চলাচল করতে হয়। এর ফলে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা।

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের আরজবাগি বাজার সংলগ্ন আরসিসি ব্রিজের ছাদ ধসে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। কিন্তু ধসে যাওয়া অংশের ওপর একটি কাঠের পাটাতন দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে স্থানীয় লোকজন। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ২০০২ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ওই ব্রিজটি নির্মাণ করে। জেলার বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়া ব্রিজ এলাকায় গেলে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লোকজনের বিরুদ্ধে প্রায় একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ করে স্থানীয় লোকজন। আলীপুরা ইউনিয়নের আউলিয়াপুর খালের ওপর নির্মিত আলীপুরা-রনগোপালদি সংযোগ আরসিসি ব্রিজটি ১৫ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু তিন বছরের মধ্যেই এর রেলিং ধসে যায় এবং আট বছরের মধ্যে ব্রিজের মাঝখান থেকে ছাদ ধসে গিয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ভাঙা অংশে একটি কাঠের পাটাতন দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে লোকজন যাতায়াত করছে। তা ছাড়া প্রতিদিন ভাঙন বড় হচ্ছে। একই উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া-বহরমপুর খালের ওপরের আরসিসি গার্ডার ব্রিজটির অবস্থাও বেহাল। এর স্লাব ভেঙে এখন যোগাযোগের অনুপযোগী। কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যবর্তী সাফাখালী খালের ওপর নির্মিত আরসিসি গার্ডার ব্রিজটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। পাঁচ বছর ধরে ব্রিজটি এ দুরবস্থার মধ্যে থাকলেও এর সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ১৯৮৬ সালে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। একই উপজেলার ডাবলুগঞ্জ বাজার সংলগ্ন আরসিসি গার্ডার ব্রিজটি মিঠাগঞ্জ ও ডাবলুগঞ্জ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ কয়েক বছর ধরে এর স্লাব ভেঙে আছে। এর ফলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী। ২০০০ সালে এটি নির্মাণ করা হয়। মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের নিউ মার্কেট বাজার সংলগ্ন লেবুবুনিয়া খালের ওপর আরসিসি গার্ডার ব্রিজটি এখন মরণফাঁদ।

পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন, পটুয়াখালীতে যত ভাঙা ব্রিজ রয়েছে সেগুলো দ্রুত ‘দক্ষিণাঞ্চলে আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ বা পুনর্বাসনের প্রকল্প’-এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

 

 

 



মন্তব্য