kalerkantho


মঠবাড়িয়ায় বাড়ছে আত্মহনন

এক বছরে ৪৩ মৃত্যু

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় গত এক বছরে ৪৩ জনের অপমৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহ, উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়ের প্রেম, আবেগ, মান-অভিমান, পরকীয়া, যৌতুক, বেসরকারি সংস্থায় (এনজিও) দেনা, দারিদ্র্য, অভাব-অনটন, সন্তান না হওয়া, বাল্যবিয়ে, একাধিক বিয়েসহ বিভিন্ন কারণে এসব আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। উপজেলায় এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে মঠবাড়িয়া থানায় ৪৩টি আত্মহত্যার ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হলেও এ ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি। কোনো অভিযোগ না থাকায় অনেকেই আত্মহত্যার পর থানা-পুলিশের শরণাপন্ন না হয়ে পারিবারিকভাবে দাফন ও দাহ করে। গত বছর মঠবাড়িয়া পৌর শহরের ৪ নম্বর সদর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের দোকানের কর্মচারী ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাবু নিতাই কর্মকার (৫৫) এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও মানিকখালীর বাসিন্দা আলম বেপারী একাধিক বিয়ের কারণে সাংসারিক অশান্তিতে ও টিয়ারখালীর তোতা মিয়ার মেয়ে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়া দুই সন্তানের জননী নাজনীন আক্তার (৪২) সাংসারিক অশান্তিতে বালাইনাশক (পোকা নিধন ট্যাবলেট) সেবনে আত্মহত্যা করেন। বছরজুড়েই ঘটেছে এরকম আত্মহননের ঘটনা। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত পাঁচ বছরের তুলনায় গত বছর মঠবাড়িয়ায় অপমৃত্যুর ঘটনা তিন গুণের বেশি।

মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বশির আহমেদ জানান, আত্মহত্যাকারীর মধ্যে বেশির ভাগই ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারী-পুরুষ। জীবনে হতাশা বাড়ার কারণেই আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, অন্য এলাকার চেয়ে মঠবাড়িয়া থানা এলাকায় আত্মহত্যার সংখ্যা বাড়ছে। পরকীয়া, দাম্পত্য কলহ, উঠতি বয়সে প্রেম, ফেসবুক ও মোবাইল ফোনে অবাধ কথোপকথন এর অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, বিভিন্ন সংগঠনের এ বিষয়ে গণসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে সমাজ ও পরিবারে দায়িত্বশীল ভূমিকা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।



মন্তব্য